সিডর


সিডর

সিডর (Sidr)  এ যাবৎকালে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়সমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী। বঙ্গোপসাগরের কেন্দ্রীয় অঞ্চল থেকে উৎপত্তি লাভের পরই ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘন্টায় প্রায় ২৬০ কিমি সাফাইর-সিম্পসন (Saffire-Simpson scale) অনুযায়ী ৫ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ের সমতুল্য। ২০০৭ সালের ১৫ই নভেম্বর ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ডভাবে আঘাত করে। ঘূর্ণিঝড় এবং তদুপরি জলোচ্ছাসের প্রভাবে প্রায় দশ সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারায়। বাংলাদেশের উপকূলীয় ছাড়াও ভারতের চেন্নাই, তামিলনাড়ু এবং আরও কিছু রাজ্য সিডর এর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবে বাংলাদেশে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সর্বাধিক। বরগুনা, পটুয়াখালী এবং ঝালকাঠি এই তিনটি জেলা একেবারে ৫ মি (১৬ ফুট) উচূঁ ঢেউয়ের আঘাতে সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়। আর এই তিনটি অঞ্চলেই মৃতের সংখ্যা সর্বাধিক প্রায় পাঁচ শতাধিক। মাছ ধরার নৌকাসহ তিন সহস্রাধিক জেলে নিখোঁজ হয়। শত শত ঘড়বাড়ি,স্কুল বাতাসের তোড়ে উড়ে যায় এবং গাছপালার বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়।

পৃথিবীর অন্যতম চিরহরিৎ অরণ্য সুন্দরবনের প্রায় এক চতুর্থাংশ প্রচন্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় গবেষকদের মতে সিডর এর আঘাতে সুন্দরবনের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে উঠতে আর প্রায় ৪০ বছর লেগে যেতে পারে। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। তবে ধারণা করা হয় সিডর এর ফলে ফসল, ঘরবাড়ী  এবং অন্যান্য স্থাপনার যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পূর্বের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি। সিডর এর প্রভাব উপকূলীয় অঞ্চলসমূহ ছাড়াও রাজধানীসহ অন্যান্য জেলাতে পড়েছে। ভারী বর্ষণ এবং জলাবদ্ধতার কারণে ঢাকাবাসীকে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। তাছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উপরও এর সাময়িক প্রভাব পড়ে।

সিডর এর আঘাতের পরপরই উন্নত বিশ্বের দেশগুলো থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া হয়। দেশী বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগ ও সহযোগিতায় সিডর আক্রান্ত মানুষের খাদ্য, বিশুদ্ধ খাবার পানি, ঔষধ প্রভূতি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয় এবং পুনর্বাসনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পানি দূষণের ফলে ডায়রিয়া, জনডিস, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ব্যাপক সংক্রমণ ঘটে এবং উলে­খযোগ্য সংখ্যক মানুষ এতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এছাড়াও মানুষের মধ্যে চর্ম ও চক্ষুর বিভিন্ন্ প্রকার রোগের প্রভাব দেখা যায়। সিডর এর কারণে উপকূলীয় অঞ্চলসমূহে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পুরোপুরি এখনও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।  [সানজিদা মূর্শেদ]