সালেহীন, মীর মকসুদুস


সালেহীন, মীর মকসুদুস (১৯২৯-১৯৮৮)  নাট্য-নির্দেশক, অভিনেতা, গ্রুপ থিয়েটার সংগঠক। তাঁর জন্মস্থান ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও-এ। ঢাকার  জগন্নাথ কলেজ থেকে আইকম ও বিকম (১৯৫৫) পাসের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমকম-এ ভর্তি হন। ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে নাটকের ওপর উচ্চশিক্ষা গ্রহণার্থে তিনি বৃত্তি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইস্ট ওয়েস্ট সেন্টারে গমন করেন। পরে নিউইয়র্কে স্থায়িভাবে বসবাস করেন এবং ‘সাগর লিমিটেড’ নামে একটি শিপিং এজেন্সি গঠন করেন।

মকসুদুস সালেহীনের নাট্যচর্চার সূত্রপাত ঘটে স্কুলজীবনের শেষে গ্রামে বিভিন্ন নাটক ও যাত্রা দেখে। ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৮ পর্যন্ত তিনি গ্রামে সমবয়সীদের নিয়ে বিভিন্ন নাটক পরিচালনা ও তাতে অভিনয় করেন। পঞ্চাশের দশকে ঢাকার জগন্নাথ কলেজ, সলিমুল­াহ হল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নাটকে তিনি অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫৫ সালে কার্জন হলে ডাকসুর নীলদর্পণ নাটক পরিচালনা (যৌথ), সলিমুল্লাহ হলের দুই পুরুষ নাটকে অভিনয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষ্টি সংসদের নবসংস্করণ নাটক পরিচালনা করে তিনি সুনাম অর্জন করেন। ১৯৫৫-৫৬ সালে ডাকসুর প্রমোদ সম্পাদক হিসেবে তাঁর উদ্যোগে আয়োজিত সাংস্কৃতিক উৎসবে পাঁচটি নাটক মঞ্চস্থ হয়। এতে তাঁর পরিচালিত মানচিত্র নাটকটি প্রশংসিত হয়। এছাড়াও তিনি অভিনয় করেন কেউ কিছু বলতে পারে না নাটকে এবং সহায়তা করেন কবর  মঞ্চায়নে।

১৯৫৬-৫৭ সালে মকসুদুস সালেহীনের নেতৃত্বে তওফিক আজিজ খান, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান, মনিরুল আলম, আবেদ হোসেন, বজলুল করিম প্রমুখকে নিয়ে গঠিত হয়  ড্রামা সার্কল নাট্যগোষ্ঠী। এই গোষ্ঠী নাট্যপরিবেশনা, অভিনয়, মঞ্চনির্মাণ, দৃশ্যসজ্জা, আলোকসজ্জা ইত্যাদি ক্ষেত্রে নতুন ধারা প্রবর্তন করে। তাঁর নেতৃত্ব ও পরিচালনায় ড্রামা সার্কল  কলকাতা ও পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে নাটক প্রদর্শন করে। ড্রামা সার্কল প্রযোজিত নাটকের মধ্যে রয়েছে কবর, কেউ কিছু বলতে পারে না, রক্তকরবী, রাজা ও রানী, তাসের দেশ, সবাই আমার ছেলে, বহিপীর, ইডিপাস, আর্মস অ্যান্ড দি ম্যান, সপ্তশূরের থিবি আক্রমণ, দান্তের মৃত্যু, কালবেলা প্রভৃতি। তিনি তনিহা (১৯৬৪) চলচ্চিত্রে সহকারী চিত্র পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন।  [অনুপম হায়াৎ]