সলিমুল্লাহ এতিমখানা


সলিমুল্লাহ এতিমখানা ১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ছিল ইসলামিয়া এতিমখানা। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ। আহসান মঞ্জিলের পাশে কুমারটুলির একটি ভাড়াবাড়িতে এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সময় নওয়াব সলিমুল্লাহ এতিমখানার জন্য মাসিক ২০০ টাকা অনুদান দেন। ১৯১২ সালে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠিত। এতিমখানার পরিসর বৃদ্ধি পেলে ১৯১৩ সালে এটিকে লালবাগের কাছে আজিমপুরে স্থানান্তর করা হয়।

১৯১৩ সালে বাংলার গভর্নর লর্ড কারমাইকেল (১৯১২-১৯১৭) এতিমখানা পরিদর্শন করে এর ব্যবস্থাপনার জন্য এক হাজার টাকা অনুদান দেন। এর পাশাপাশি তিনি সরকারি খাসজমি বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করেন। সে সময় আমলাপাড়ার গোর শহীদ মসজিদ সংলগ্ন সরকারের একখন্ড খাসমহল পত্তন নিয়ে এতিমখানার স্থায়ী আবাস নির্মাণ করা হয়। এ নির্মাণের বেশিরভাগ ব্যয় বহন করেন নওয়াব সলিমুল্লাহ। ১৯১৫ সালে নওয়াব সলিমুল্লাহর মৃত্যুর পর এতিমখানা অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়ে। তখন ঢাকার অনেকেই আর্থিক সহযোগিতা করে। এ সময়ে এতিমখানার নামকরণ করা হয় স্যার সলিমুল্রাহ এতিমখানা।

সলিমুল্লাহ এতিমখানা

১৯১৬ সালে লর্ড কারমাইকেল এতিমখানা পুনরায় পরিদর্শন করে নওবাব হাবিবুল্রাহ ওয়ার্ড নামে একটি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় আর্থিক সঙ্কটে পতিত হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। নতুন কমিটির সভাপতি হন নওয়াব হাবিবুল্লাহ এবং চৌধুরী ফরিদউদ্দীন আহমদ সিদ্দিকী হন এর সম্পাদক। ১৯২৬ সালে গভর্নর লর্ড লিটন (১৯২২-১৯২৭) এতিমখানা পরিদর্শন করে আড়াই হাজার টাকা অনুদান দেন। এ সময় তিনি এতিমদের কারিগরি শিক্ষার জন্য কারখানা বিভাগের উদ্বোধন করেন। একই বছর নওয়াব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীও এতিমখানা পরিদর্শন করে একটি সম্প্রসারিত ভবন উদ্বোধন করেন।

১৯৩১ সালে বাংলার গভর্নর স্যার স্ট্যানলি জ্যাকসনের স্ত্রী লেডি জ্যাকসন এতিমখানা পরিদর্শন করেন। এ সময়ে তিনি স্যার আহসানুল্লাহ ওয়ার্ড নামে একটি ভবন উদ্বোধন করেন। ভবন নির্মাণের কাজে ব্যয় হয়েছিল ২২ হাজার ৮৫৩ টাকা। এর মধ্যে ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন নওয়াব আলী চৌধুরী। অবশিষ্ট অর্থ তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রী নওয়াব নাজিমউদ্দীন সরকারি কোষাগার থেকে ব্যবস্থা করেন। লেডি জ্যাকসন জেনানা ওয়ার্ড নামে আর একটি ভবনের উদ্বোধন করেন। এর জন্য ব্যয় হয় ২৩ হাজর ১৭৫ টাকা। এর মধ্যে খাজা সালাহউদ্দীন দেন ১০ হাজার টাকা এবং সরকারি কোষাগার থেকে মঞ্জুর করা হয় অবশিষ্ট টাকা। জেনানা ওয়ার্ডের নামকরণ করা হয় নবাব বেগম আসমত-উন-নেসা। সে সময় এ ওয়ার্ড সম্প্রসারণ করে একটি বয়ন বিভাগ খোলা হয়।

১৯৩২ সালে এতিমখানার উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়। এ সময় পর্যাপ্ত অর্থ সংগৃহীত হলে নতুন ভবন নির্মাণ, এতিম ছেলেমেয়েদের কারিগরি শিক্ষার জন্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি কেনা হয়। এ ছাড়া বৃত্তিমূলক শিক্ষা যেমন দর্জি, কর্মকারের কাজ, বয়ন, মিস্ত্রিগিরি, দাপ্তরিক কাজ, উদ্যানের কাজ প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষা দেয়ার জন্য শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। এতিমখানার ছাত্রদের মধ্যে অনেকে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল, শ্রীরামপুর বয়ন বিদ্যালয় থেকে শিক্ষালাভ করে উন্নত জীবনের অধিকারী হয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত দানের মাধ্যমে এতিমখানার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ২০০৯ সালে এতিমখানায় ৩০১ জন ছেলেমেয়ে পড়াশুনা করছে। এতিমখানা পরিচালনা করতো ১৫ সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি। ২০০৮ সালের ২ জানুয়ারি সরকার কমিটি বিলুপ্ত করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সলিমুল্লাহ এতিমখানা পরিচালনার দায়িত্ব দেয়।  [এ.বি.এম শামসুদ্দীন আহমদ]