সরকার, সরলাবালা


সরকার, সরলাবালা (১৮৭৫-১৯৬১)  সাহিত্যিক। ১৮৭৫ সালের ১০ ডিসেম্বর নদীয়ার কাঁঠালপোতা গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁদের পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুরের ভড়রামদিয়ায়। তাঁর পিতা কিশোরীলাল সরকার ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী। বারো বছর বয়সে শরৎচন্দ্র সরকারের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয় এবং তেইশ বছর বয়সে তিনি বৈধব্যজীবন বরণ করেন। তাঁর পরের বাকি জীবন সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে অতিবাহিত হয়।

সরলাবালার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। পিতা কিশোরীলাল সরকার ও বড় ভাই ডাক্তার সরসীলাল সরকারের নিকট পারিবারিকভাবে তিনি লেখাপড়া শেখেন। বাংলায় প্রথম আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ আমার জীবন-এর লেখিকা পিতামহী রাসসুন্দরী দেবীর নিকট থেকে তিনি সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রেরণা লাভ করেন। তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ১৮৯০ সালে  ভারতী পত্রিকায়। পরে সাহিত্য, প্রদীপ, উৎসাহ, জাহ্নবী, উদ্বোধন, অন্তঃপুর, সুপ্রভাত,  প্রবাসী প্রভৃতি পত্র-পত্রিকায় তাঁর কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ইত্যাদি নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ: কবিতা প্রবাহ (১৯০৪), অর্ঘ্য (১৯৫১); গল্প চিত্রপট (১৯১৭), গল্পসংগ্রহ (১৯৫৭); প্রবন্ধ মনুষ্যত্বের সাধনা, (১৯৫৩), সাহিত্য জিজ্ঞাসা (১৯৫৭); জীবনী নিবেদিতা (১৯১২), কুমুদনাথ (১৯৩৮), স্বামী বিবেকানন্দ ও শ্রীরামকৃষ্ণ (১৯৫৭); অন্যান্য পিনকুর ডাইরি (শিশুতোষ, ১৯৬১), হারানো অতীত (স্মৃতিচারণ, ১৯৫৪) ইত্যাদি। ‘স্মৃতিচিহ্ন’ গল্পের জন্য তিনি ‘কুন্তলীন পুরস্কার’ (১৯০২) লাভ করেন।

সমকালীন রাজনীতির সঙ্গে সরলাবালার পরোক্ষ সংযোগ ছিল। তিনি স্বদেশী আন্দোলনের সময় অনেক বিপ্লবীকে আশ্রয় দেন। সে সময় তিনি ‘নারী সত্যাগ্রহ সমিতি’র সদস্য হন। ১৯৫৩ সালে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে গিরিশ লেকচারার নিযুক্ত করে। এ সম্মান ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে তিনিই প্রথম লাভ করেন। এছাড়া তিনি ‘সরোজিনী বক্তৃতা’ও প্রদান করেন। ১৯৬১ সালের ১ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।  [বদিউজ্জামান]