সবুজবাগ থানা


সবুজবাগ থানা (ঢাকা মেট্রোপলিটন)  আয়তন: ৬.৬২ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২৩°৪৩´ থেকে ২৩°৪৪´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°২৫´ থেকে ৯০°২৭´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে খিলগাঁও থানা, দক্ষিণে যাত্রাবাড়ী থানা, পূর্বে ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী থানা, পশ্চিমে মতিঝিল ও সূত্রাপুর থানা।

জনসংখ্যা ২৩৬৮১৩; পুরুষ ১৩০০০৭, মহিলা ১০৬৮০৫। মুসলিম ২২৩০০০, হিন্দু ১২০৬৩, বৌদ্ধ ৯৮, খ্রিস্টান ১৬২১ এবং অন্যান্য ৩১।

জলাশয় মান্ডা খাল।

প্রশাসন সবুজবাগ থানা গঠিত হয় ১৯৮৮ সালে।

থানা
ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন মহল্লা জনসংখ্যা ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
শহর গ্রাম শহর গ্রাম
৪+২ (আংশিক) ১৯ ২০৬৬৮৯ ৩০১২৩ ৩৫৭৭৩ ৬৮.৩৪ ৫০.৪৩
ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন
ওয়ার্ড নম্বর ও ইউনিয়ন আয়তন (বর্গ কিমি) লোকসংখ্যা শিক্ষার হার (%)
পুরুষ মহিলা
ওয়ার্ড নং ২৭ ০.৯৫ ৩৯০৮৬ ৩৩৫৯১ ৭১.১০
ওয়ার্ড নং ২৮ ১.৭৩ ২৪৬০৯ ২০৩৪১ ৭২.২১
ওয়ার্ড নং ২৯ ০.৫৪ ৩০২১০ ২৩৯২৩ ৭৩.৮০
ওয়ার্ড নং ৩০ ০.৫২ ১৯৭৩৪ ১৫১৯৫ ৫৬.২৬
দক্ষিণগাঁও (আংশিক) ১.৭৪ ৯৭৭১ ৮৪৬৮ ৫৩.৭৩
মান্ডা ১.১৪ ৬৫৯৭ ৫২৮৮ ৪৭.১৪

সূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

SabujbaghThana.jpg

প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ রাজারবাগ কালীমন্দির, ধর্ম রাজি বৌদ্ধ মন্দির, দরবার-ই চিশতী-উস-সাবেরী (র) মাযার।

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় থানার মাদারটেক এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকবাহিনীর সম্মুখ লড়াইয়ে ১১ জন পাকসেনা নিহত হয়।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন কদমতলীর পুলিশ ফাঁড়ির মাঠে বধ্যভূমি ছিল বলে জনশ্রুতি আছে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান  মসজিদ ২০২, মন্দির ৫, গির্জা ২, বৌদ্ধবিহার ১, মাযার ১। আহমেদবাগ মসজিদ উল্লেখযোগ্য।

শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৬২.৩৮%; পুরুষ ৬৬.৭০%, মহিলা ৫৬.৯৯%। কলেজ ৩, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৩, প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯৫, মাদ্রাসা ৯।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্লাব ২৭, নাট্যমঞ্চ ১, মহিলা সংগঠন ১, সিনেমা হল ২।

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ১.৩৪%, অকৃষি শ্রমিক ১.২৪%, শিল্প ২.৩০%, ব্যবসা ২৫.১৭%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ১২.৮২%, চাকরি ৩৭.৫৩%, নির্মাণ ৩.৫৬%, ধর্মীয় সেবা ০.১৩%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিট্যান্স ৪.০৭% এবং অন্যান্য ১১.৮৪%।

কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৬১.৩৫%, ভূমিহীন ৩৮.৬৫%।

প্রধান কৃষি ফসল ধান, শাকসবজি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসল  ডাল।

প্রধান ফল-ফলাদি আম, কাঁঠাল, পেয়ারা।

মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার এ থানায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার রয়েছে।

যোগাযোগ বিশেষত্ব মোট সড়ক ৪০.০১ কিমি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন গরু ও ঘোড়ার গাড়ি।

শিল্প ও কলকারখানা টেক্সটাইল মিল ১, গার্মেন্টস শিল্প ২০।

কুটিরশিল্প তাঁতশিল্প উল্লেখযোগ্য।

হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ২০। মেরাদিয়া পৌষ মেলা (বিলুপ্ত)।

প্রধান রপ্তানিদ্রব্য গার্মেন্টস শিল্পজাত পোশাক, শাকসবজি।

বিদ্যুৎ ব্যবহার এ থানার সবক’টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। তবে ৯৭.৯৫% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

পানীয়জলের উৎস নলকূপ ১৩.৭০%, ট্যাপ ৮৩.১২%, পুকুর ০.১৬% এবং অন্যান্য ৩.০২%।

স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ থানার ৮৯.৬০% পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৯.৮০% পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ০.৬০% পরিবারের  কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্বাস্থ্য কমপে­ক্স ২, পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ৫, ক্লিনিক ৫।

এনজিও ব্র্যাক, ওয়ার্ল্ড ভিশন।  [মো. আবু হাসান ফারুক]

তথ্যসূত্র  আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।