সদরঘাট


সদরঘাট, ঢাকা

সদরঘাট  বুড়িগঙ্গা নদী থেকে ঢাকা শহরে প্রবেশ পথে একটি বিরাট ঘাট। এটি আহসান মঞ্জিলের সম্মুখভাগের একটু বাম দিকে অবস্থিত। সদরঘাট বাকল্যান্ড বাঁধের কেন্দ্রবিন্দু। মূলত অন্যান্য স্থান থেকে ঢাকামুখী নৌকা, লঞ্চ এবং এমনকি ছোট ও মাঝারি জাহাজ নোঙর করার জন্য এটি নির্মিত হয়েছিল। নদীগর্ভের প্রবেশমুখ অগভীর হয়ে যাওয়ায় এবং অভ্যন্তরীণ জলপথসমূহের পরিবহণ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার কারণে এখন আর এখানে বড় আকারের জলযান ভিড়তে পারে না।

১৮২০-এর দিকে সদরঘাটের কাছে পূর্বদিকে ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর-এর অফিসসহ অন্যান্য বহু অফিস পর্যায়ক্রমে স্থানান্তরিত হয় এবং এর উত্তর দিকের এলাকাসমূহ নতুন নগরকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। এখানে মাত্র দুটি প্রধান রাস্তা ছিল, একটি পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে এবং অপরটি দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে। রাস্তা দুটি সদরঘাটের কাছাকাছি সমকোণে মিলিত হয়েছে। অলি-গলির অনেক এলোপাতাড়ি শাখা এখান থেকে শহরের বিভিন্ন মহল্লায় চলে গেছে।

আজকাল প্রধানত দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাসমূহের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্দেশ্যে শত শত নৌকা ও লঞ্চ আসা-যাওয়ার জন্য সদরঘাট ব্যবহূত হয়। মাল বহনকারী বার্জগুলিও সদরঘাটকে মাল ওঠানো-নামানোর কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে। সরদঘাট ফল-মূল, শাকসবজি ও বিবিধ সামগ্রীর একটি বৃহৎ দৈনিক বাজারে পরিণত হয়েছে। এখানে খুলনার মতো দূরবর্তী স্থানে স্টিমারে যাত্রী পরিবহণের জন্য একটি টার্মিনালও আছে। নদীর সমান্তরালে রাস্তা দিয়ে সদরঘাট-এর সাথে ঢাকার বহু স্থান সংযুক্ত এবং রাস্তার উভয় পাশে অসংখ্য খুচরা ও পাইকারি দোকানপাট দেখতে পাওয়া যায়।  [এস.এম মাহফুজুর রহমান]