সখীপুর উপজেলা


সখীপুর উপজেলা (টাঙ্গাইল জেলা)  আয়তন: ৪২৯.৬৩ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২৪°১১´ থেকে ২৪°২৬´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°০৪´ থেকে ৯০°১৮´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে ঘাটাইল উপজেলা, দক্ষিণে মির্জাপুর উপজেলা, পূর্বে ভালুকা, শ্রীপুর (গাজীপুর) ও কালিয়াকৈর উপজেলা, পশ্চিমে কালিহাতি ও বাসাইল উপজেলা।

জনসংখ্যা ২৪১৬৬৫; পুরুষ ১২১৬৮৩, মহিলা ১১৯৯৮২। মুসলিম ২২৭৭৫৬, হিন্দু ১৩৭৯১, বৌদ্ধ ২৬, খ্রিস্টান ৮ এবং অন্যান্য ৮৪।

জলাশয় প্রধান নদী: বংশী ও সালদা।

প্রশাসন সখীপুর থানা গঠিত হয় ১৯৭৬ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে।

উপজেলা
পৌরসভা ইউনিয়ন মৌজা গ্রাম জনসংখ্যা ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
শহর গ্রাম শহর গ্রাম
৬৫ ১২৩ ২৮৫১৩ ২১৩১৫২ ৫৬২ ৪৬.৬ ৩১.৬
উপজেলা শহর
আয়তন (বর্গ কিমি) মৌজা লোকসংখ্যা ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
১৯.৬৮ ২৮৫১৩ ৪৪৯ ৪৬.৬
ইউনিয়ন
ইউনিয়নের নাম ও জিও কোড আয়তন (একর) লোকসংখ্যা শিক্ষার হার (%)
পুরুষ মহিলা
কাঁকড়াজান ৬৭ ১৭৮৬৪ ১৮২১৭ ১৮৫০৫ ২৫.৭১
কালিয়া ৮১ ১৭৭৮৫ ২৪৮৭৭ ২৪৩৯৩ ৩১.১৫
গজারিয়া ২৭ ১৮৮০৪ ২৪২৫৩ ২৩৭৫১ ৪০.৫৫
বহেড়াতৈল ১৩ ১০৮১৫ ১১৯২৯ ১২১৮৯ ৩৩.৬৪
যাদবপুর ৫৪ ২৭২১১ ২৫৯০৯ ২৫০৯৪ ৩৩.৭৫
হাতিবান্ধা ৪০ ১৫০৪০ ১৬৪৯৮ ১৬০৫০ ৩৩.৯৫

সূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

SakhipurUpazila.jpg

প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ হযরত শাহ্ জালালের (রহ) সফরসঙ্গি শাহ্ কামালের (রহ) মাযার (গড় গোবিন্দপুর গ্রাম)।

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি ১৯৭১ সালের ১০ জুন এ উপজেলার বহেড়াতৈলে কাদেরিয়া বাহিনী শপথ নিয়েছিল। ৬ অক্টোবর বল­ায় পাকসেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইয়ে ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন স্মৃতিসৌধ ১; শপথ স্তম্ভ ১ (মুক্তিযোদ্ধাদের শপথ নেয়ার স্থান, বহেড়াতৈল)।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান  মসজিদ ৪৫৭, মন্দির ১৩, মাযার ২। উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: সখীপুর কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ, কুতুবপুর মসজিদ, শাহ্ কামালের (রহ) মাযার।

শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৩৩.৪%; পুরুষ ৩৯.০%, মহিলা ২৭.৯%। কলেজ ৭, মাধ্যামিক বিদ্যালয় ৬০, প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৩৬, মাদ্রাসা ২৭। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: মুজিব ডিগ্রী কলেজ (১৯৭২), সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজ (১৯৯৫), হাতিয়া মহাবিদ্যালয় (১৯৬৯), বোয়ালী মহাবিদ্যালয় (১৯৯৩), সবুজ বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৯৩), হাতিয়া হাজী হাফিজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৪)।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৬৯.৮২%, অকৃষি শ্রমিক ১.৯৪%, শিল্প ০.৪৫%, ব্যবসা ৯.৩৮%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ২.২২%, চাকরি ৪.৮৪%, নির্মাণ ০.৬৭%, ধর্মীয় সেবা ০.১৪%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ৩.৬৭% এবং অন্যান্য ৬.৮৭%।

কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৭২.৫২%, ভূমিহীন ২৭.৪৮%। শহরে ৬৮.৭২% এবং গ্রামে ৭২.৯৯% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে।

প্রধান কৃষি ফসল ধান, পাট, তুলা, সরিষা, আলু, গম, ডাল, শাকসবজি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি  তিল, কলাই, অড়হর।

প্রধান ফল-ফলাদি কলা, কাঁঠাল, আম, জাম, লিচু, পেঁপে, আনারস, তরমুজ।

মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার মৎস্য ৫৬, গবাদিপশু ১২, হাঁস-মুরগি ২৮।

যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ৬৪.৪৯ কিমি, কাঁচারাস্তা ৫৭৮.৭৫ কিমি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন পাল্কি, ঘোড়ার গাড়ি, গরুর গাড়ি।

শিল্প ও কলকারখানা চালকল, ময়দাকল, বরফকল, করাতকল, চিড়াকল, ওয়েল্ডিং কারখানা।

কুটিরশিল্প তাঁতশিল্প, স্বর্ণশিল্প, লৌহশিল্প, দারুশিল্প, বাঁশের কাজ, বেতের কাজ, সেলাই কাজ।

হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ৩৮, মেলা ৩। কচুয়া হাট, বড়চাওনা হাট, নলুয়া হাট, রতনপুর হাট, হাতিয়া হাট, সখীপুর বাজার, কুতুবপুর বাজার, মহানন্দপুর বাজার এবং ফালু শাহ মেলা ও মুসলিম দরগা মেলা উলে­খযোগ্য।

প্রধান রপ্তানিদ্রব্য   ধান, কলা, কাঁঠাল, শাকসবজি।

বিদ্যুৎ ব্যবহার এ উপজেলার সবক’টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পল্লিবিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। তবে ১৩.১৬% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৮২.০৯%, পুকুর ০.৪৭%, ট্যাপ ০.৬৭% এবং অন্যান্য ১৬.৮৩%।

স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ উপজেলার ৩৫.৩৫% (গ্রামে ৩১.৯২% ও শহরে ৬২.৬০%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ২২.৩৭% (গ্রামে ২৩.১৮% ও শহরে ১৫.৯৯%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ৪২.২৮% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র হাসপাতাল ১, দাতব্য চিকিৎসালয় ৪, চক্ষু হাসপাতাল ১, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ৪, পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ৪, শিশু হাসপাতাল ১, পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক ৬,  ব্র্যাক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ১, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ১, ক্লিনিক ২, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ১।

এনজিও ব্র্যাক, প্রশিকা, ব্যুরো টাঙ্গাইল, সেভস।  [হারুন রশীদ]

তথ্যসূত্র  আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো; সখীপুর উপজেলা সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭।