শুশুক


শুশুক  ডলফিন ও তিমির নিকট জ্ঞাতি, একান্তভাবে সামুদ্রিক কয়েকটি প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী। প্রকৃতপক্ষে এগুলি Cetacea বর্গের Phoeconidae গোত্রের অন্তর্গত ছোট দাঁতের তিমি। শুশুকের শরীর মাথা থেকে লেজের দিকে ক্রমশ সরু, মজবুত অগ্রপদ ফ্লিপারে (Flipper) রূপান্তরিত হয়েছে, লেজের পাতাগুলি আনুভূমিক। দেহের মধ্যভাগে অবস্থিত সুবিকশিত পৃষ্ঠপাখনা (ব্যতিক্রম পাখনাহীন শুশুক Neophocaena phoeaenoides)। সব জাতের শুশুকই ঠোঁটবিহীন ও দুই চোয়ালেই একই রকম চেপ্টা চামচের মতো দাঁত। এদের পশ্চাৎপদ নেই,  দৈবাৎ কুর্চ থাকলেও দেহ সম্পূর্ণ লোমহীন। দুটি নাসারন্ধ্র মিলে একটি নাসিকাগহবর গঠিত হয়েছে। শ্বাস-প্রশ্বাসে সরাসরি পানির উপরের বাতাস ব্যবহার করে।

শুশুকদের প্রধান খাদ্য মাছ। শিকারের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য এরা অতিদ্রুতগামী শব্দ সংকেত ব্যবহার করে। এদের তৈরি শব্দ লক্ষ্যবস্ত্তকে আঘাত করলে তার প্রতিধ্বনি দ্রুত শুশুকের কাছে ফিরে আসে। এ প্রতিঘাত থেকে শুশুক তাৎক্ষণিকভাবে শিকারের আকার, দূরত্ব ও চলনের গতিবেগ নির্ণয় করতে সক্ষম হয়। এরা সমাজবদ্ধ প্রাণী, প্রায়ই দলবেঁধে চলাচল করে এবং শব্দ সংকেতের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে।

শুশুক

প্রায় বছরকাল গর্ভধারণের পর শুশুক একটি সন্তান প্রসব করে। শিশু মাতৃস্তন থেকে দুধ চুষে না, দুধের ধারা তার মুখেই পৌঁছয়। বাংলাদেশে এ জাতীয় প্রাণীর একটিই প্রজাতি আছে, আর সেটি পাখনাহীন শুশুক, বাস করে সুন্দরবন, হাতিয়া, মহেশখালি, কুতুবদিয়া মোহনায়, অল্প সংখ্যায় নাফ নদীতে। শুশুকের মধ্যে পাখনাহীন শুশুকই সবচেয়ে ছোট, প্রায় ১.৫ মিটার লম্বা, দাঁতের সংখ্যা ১৫-২১, কপাল তরমুজাকার, দেহবর্ণ ধূসর থেকে কালো, পেট সাদাটে। প্রজাতিটি বিরল এবং CITES (Convention on International Trade on Endangered Species of Fauna and Flora)-র ১ম পরিশিষ্টের অন্তর্ভুক্ত এবং বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন (১৯৭৪) দ্বারা সুরক্ষিত।  [আলী রেজা খান]