শিরাণ খলজী


শিরাণ খলজী  বখতিয়ার খলজীর সামরিক সহযোগী। তিনি ৬০২-৬০৩ হিজরিতে (১২০৬-১২০৭ খ্রি) লখনৌতির শাসনকর্তা ছিলেন। তিনি আফগানিস্তানের খলজ গোত্রের লোক ছিলেন। ভাগওয়াত ও ভিউলী পরগনার জায়গিরদার  বখতিয়ার খলজীর সৈন্যদলে যোগ দিয়ে শীঘ্রই শিরাণ খলজী তাঁর বীরত্ব ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে সেনাপতির পদ লাভ করেন। বখতিয়ার খলজী তাঁকে এতই বিশ্বাস করতেন যে, তিনি তিববত অভিযানের প্রাক্কালে লখনৌতির দায়িত্বভার তাঁর উপর ন্যস্ত করেন।

যখন বখতিয়ার খলজীর হত্যা ও আলী মর্দান খলজী কর্তৃক ক্ষমতা দখলের খবর তাঁর নিকট পৌঁছল, তখন শিরাণ খলজী লখনৌর পরিত্যাগ করে দেবকোটের দিকে যাত্রা করেন। তাঁর আগমনে আলী মর্দান খলজী ঘোড়াঘাটে চলে যান। দেবকোটে শিরাণ খলজী বখতিয়ারের শেষকৃত্যাদি সম্পন্ন করেন এবং সেখানে উপস্থিত খলজী অমাত্য ও সেনাপতিদের সম্মতিক্রমে নতুন নেতা নির্বাচিত হন। অতঃপর শিরাণ খলজী আলী মর্দানের বিরুদ্ধে অগ্রসর হয়ে তাঁকে বন্দি করেন এবং কোতোওয়াল বাবা ইস্পাহানীর তত্ত্বাবধানে কারারুদ্ধ করে রাখেন।

শিরাণ খলজী তাঁর অবস্থা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে তৎপর হন এবং খলজী নেতাদের মধ্যে একতা বজায় রাখেন। এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তিনি আলী মর্দানের দলভুক্ত লোকদের প্রতি তোষণ নীতি অনুসরণ করেন এবং বখতিয়ার খলজীর অমাত্যদেরকে তাঁদের পূর্ব পদে বহাল রাখেন। দিল্লি কর্তৃপক্ষের শত্রুতা এড়াবার লক্ষ্যে রাজকীয় উপাধি গ্রহণ না করে বখতিয়ার খলজীর স্বাধীনতা ভোগ করার নীতি শিরাণ অনুসরণ করেন।

যদিও শিরাণ খলজী সুশাসনের সূচনা করেন, তবু আলী মর্দানের শত্রুতার জন্য তাঁর কর্তৃত্ব বেশিদিন স্থায়ী হতে পারে নি। আলী মর্দান দিল্লিতে পালিয়ে গিয়ে বাংলার ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার জন্য সুলতান কুতুবউদ্দীন আইবককে প্ররোচিত করেন। তাঁর প্ররোচনায় কুতুবউদ্দীন আইবক অযোধ্যার শাসনকর্তা কায়মাজ রুমীকে বাংলার দিকে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেন এবং খলজীদের বিষয়টি মেটাতে বলেন। রুমীর আগমনে শিরাণ খলজী দেবকোট ছেড়ে পূর্বদিকে চলে যান। ইতোমধ্যে ইওজ খলজী কায়মাজ রুমীর নিকট আত্মসমর্পণ করলে রুমী তাঁর উপর দেবকোটের দায়িত্বভার অর্পণ করেন। অতঃপর কায়মাজ রুমী অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তনের জন্য যাত্রা করেন। এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে শিরাণ খলজী দেবকোটে উপস্থিত হন এবং ইওজ খলজীকে আক্রমণ করেন। এ সংবাদ পেয়ে কায়মাজ রুমী শিরাণ খলজীকে পাল্টা আক্রমণ করেন। এ যুদ্ধে শিরাণ খলজী পরাজিত হয়ে সন্তোষে (দিনাজপুর জেলায়) আশ্রয় গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি মাসেডান (বগুড়া জেলায়) অভিমুখে অগ্রসর হন। এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় না।  [এ.বি.এম শামসুদ্দীন আহমদ]