শিখ


শিখ  গুরু নানক কর্তৃক প্রবর্তিত পাঞ্জাবের নতুন ধর্ম। গুরু শব্দের অর্থ শিক্ষক এবং এ ধর্মের অনুসারীদের বলা হয় শিখ (অর্থ-শিক্ষানবীশ)। ১৪৬৯ খ্রিস্টাব্দে হিন্দু পরিবারে গুরু নানক-এর জন্ম। তিনি ভ্রমণ করতে, জ্ঞান অর্জন করতে এবং মানবতার বাণী প্রচার করতে পছন্দ করতেন। এমন কাজে ব্রতী একনিষ্ঠ ব্যক্তিদেরকেই গুরু বলা হতো। গুরু নানক তৎকালের পাঞ্জাব অঞ্চলের দু’টি প্রভাবশালী হিন্দু ধর্ম ও ইসলাম ধর্ম থেকে ধর্ম তত্ত্ব গ্রহণ করে নতুন ধর্মের রূপ দেন। ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে শিখ ধর্মের জাতক গুরু নানক বাংলা প্রদেশের ঢাকায় ভ্রমণ করেন ও এ অঞ্চলে শিখধর্মীয় ভাবধারার গোড়াপত্তণ করেন। ১৪৯৯ খ্রিস্টাব্দ থেকেই তিনি পাঞ্জাব থেকে তাঁর নতুন ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রচার শুরু করেন এবং এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করেন।

একজন শিখ (পাঞ্জাবী ভাষায় শীখ) শিখধর্ম বিশ্বাস, এক সংস্কৃতি রীতিনীতির অনুসারী ও একই সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্য। দক্ষিণ এশিয়ার পাঞ্জাব অঞ্চলে পনেরো শতকে শিখধর্ম (শিখি-পাঞ্জাবী) উৎপত্তি লাভ করলেও তা বর্তমানে বিশ্বের প্রধান ধর্মসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি ধর্ম হিসেবে বিবেচিত। স্বতন্ত্র ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি শিখধর্মে ইসলাম ও হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাসের মৌলিক দিকগুলোর সন্নিবেশন ঘটেছে। সংস্কৃত শিস্য (অনুসারী বা শিক্ষানবিশ) অথবা শিক্ষা (নির্দেশনা বা শিক্ষা) শব্দ থেকেই ‘শিখ’ শব্দটির উৎপত্তি। পবিত্র বই ‘গুরু গ্রন্থ সাহেব’-এর সূচনার মন্ত্রটি থেকেই শিখ ধর্মের মূল দর্শন অনুধাবন করা যায়: ‘আত্মার একটিমাত্র প্রধান বাস্তবতা রয়েছে, তা হল সত্য; সবকিছুর অন্তর্নিহিত সত্য, সবকিছুর শ্রষ্টা, সৃষ্টির মূলরহস্য। ভয় ও ঘৃণাহীন, সময়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন; যা জন্ম ও মৃত্যুর অতীত, অর্থাৎ আত্মপ্রকাশিত হওয়া। গুরুর প্রশংসা দ্বারা যা জ্ঞাত।’

ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, নারী-পুরুষ নির্বিশেষ সবার সমান অধিকার আছে বলেই শিখধর্মাবলম্বীগণ বিশ্বাস করেন। শিখধর্মাবলম্বীগণ ধর্মযাত্রা, উপবাস, কুসংস্কার এবং অন্যান্য রীতি-নীতিতে বিশ্বাস করে না। শিখদের উপাসনালয়কে ‘গুরুদুয়ারা’ বলা হয়ে থাকে। শিখ ধর্মানুযায়ী, ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজমান, কোনো নির্দিষ্ট স্থানে ঈশ্বর থাকেন না। এই ধর্ম সম্প্রদায়ের সেবায় বিশ্বাসী।

গুরু নানক, তিনটি অবশ্যপালনীয় কর্তব্য দ্বারা শিখধর্মাবলম্বীদের জীবনধারার ভিত্তি রচনা করেছেন; নাম জপ, কীরাত করনী এবং ওয়ান্দকা সাকো (পবিত্র নাম ধ্যান করো), সততা ও পরিশ্রমের সঙ্গে কাজ করো এবং প্রত্যেকের সঙ্গে ফল ভাগ করো। শিখগণ অন্যান্য সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে আসা ভক্ত বা গুরুকেও যথার্থ সম্মান প্রদর্শন করে থাকে। ওই সকল ভক্তদের কাজও গুরু গ্রন্থ সাহেবে সংকলিত হয়েছে যাকে একত্রে বলা হয় ভগৎবাণী (ভক্তদের পবিত্র বাণী)। যেমন শিখ গুরুদের বাণীকে বলা হয় গুরুবাণী (গুরুর পবিত্র বাণী)।

গুরু নানক পাঞ্জাব থেকে ষোল শতকের প্রথমার্ধে মিথিলা, কান্তনগর (দিনাজপুর), কামরূপ এবং সিলেট হয়ে ঢাকায় আসেন এবং চট্টগ্রাম, কলকাতা ও জগন্নাতপুরী (উড়িষ্যা) হয়ে দাক্ষিণাত্যের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। নৌকায় করে গুরু নানক ঢাকায় এসে ঢাকার উত্তরাংশের শীবপুরে নোঙর করেন। (পরবর্তীকালে এ এলাকা রায়ের বাজার, ধানমন্ডি নাম ধারণ করে এবং ১৯৬১ সালে এ স্থান ধানমন্ডি কলোনিতে রূপান্তরিত হয়) এ অঞ্চরের জাফরাবাদ গ্রামে গুরু নানক স্থানীয় জনগণের সেবার উদ্দেশ্যে একটি কূপ খনন করেন। পরবর্তীকালে পাকিস্তান সরকার সম্পূর্ণ এলাকাটির (কূপ সহকারে) উপর ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত শিখদের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব বহাল রাখে।

শিখ ধর্মাবলম্বীগণ দুটি ধারায় বিভক্ত। পথ বা নানকপন্থী এবং খালসা। বৃহত্তর অর্থে নানকপন্থীগণই সরাসরি গুরু নানক-এর অনুসারী বা শিখ। ঐতিহাসিকদের মতে অ-খালসা শিখরাই নানকপন্থী শিখ এবং আঠারো শতকের শেষাবধি তাদের অনেকগুলো শাখা ভারতবর্ষে বিরাজমান ছিল। নানকপন্থীরাই শিখদের উদাসী শাখার সদস্য ছিলেন। সংস্কৃত ‘উদাসীন’ শব্দটি থেকে ‘উদাসী’ শব্দের উদ্ভব যার অর্থ ‘বিছিন্ন থাকা’ (দূরে থাকা) এবং এ শব্দটি গুরুনানকের জ্যেষ্ঠ পুত্র শ্রী চাঁদ (ঐতিহ্য অনুসারে, ১৪৯৪-১৬১২) কর্তৃক গৃহীত হয়। খালসা শিখগণ মূলত যোদ্ধা শ্রেণির অন্তর্ভূক্ত। ১৬৯৯ খ্রিস্টাব্দে গুরু গোবিন্দ সিং খালসা নামের এ যোদ্ধা শিখ শ্রেণির প্রবক্তা। উদাসীন সন্ন্যাসীগণ খালসা শিখদের নিকট থেকে পৃথক ও স্বতন্ত্র হয়েছিলো বিশেষ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের কারণে। যোদ্ধা শিখদের মতো তারা বিশ্ব থেকে নিজেদের সর্ব প্রকার দাবি ত্যাগ করা, অবিবাহিত অবস্থায় জীবন অতিবাহিত করা ও চুল ও দাড়ি না কাঁটার রীতিসমূহকে অস্বীকার করেছিলো। এ কারণেই খালসা শিখগণ তাদের সুনির্দিষ্ট কিছু চরিত্রের কারণে উদাসীনদের থেকে পৃথক অবস্থানে ছিলো। ব্রিটিশদের সঙ্গে শিখদের ১৮৪৫-৪৬ ও ১৮৪৮-৪৯ সালের দুটি যুদ্ধের পরবর্তীকালে তাদেরকে যোদ্ধা শ্রেণি হিসেবে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এদের মধ্যে উলে­খযোগ্যদের পাঁচটি ‘ক’ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়ে থাকে: কেশ বা চুল না কাটা, কীরপাণ-তলোয়ার ধারণ করা, কাড়া- ধাতুর বালা (দক্ষিণ বাজুতে) পরিধান করা, কাছ-হাঁটু পর্যন্ত প্যান্ট পরা ও কঙ্গ- মাথার উপরে চুল বাঁধা। খালসা শিখগণ কালো না বরং গাড়ো নীল কাপড় পরিধান করে। যোদ্ধা খালসা শিখগণ সামগ্রিক শিখ সম্প্রদায়ের একটি অংশ। কিন্তু পান্থদের অনেকগুলো শাখার একটি পথ হলো নানকপন্থী।

গুরুদুয়ারা, বাংলাদেশ  উদাসী শাখার শিখগুরু বাবা গুরুদিত্যই প্রথম প্রকাশ করেন যে, গুরু নানক ঢাকায় এসেছিলেন ও কিছুদিন এখানে অবস্থান করেছিলেন। স্থানটি ছিল সুজাতপুর মৌজার অধীনে (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা) তিনি সেখানে একটি মান্জি স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীকালে এই মান্জিই গুরুদুয়ারা নানক শাহীতে রূপান্তরিত হয়। গুরু হরগোবিন্দ জি (১৬০৬-১৬৪৫) কর্তৃক প্রেরিত শিখ গুরু ভাই নাথন (মুগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে) কর্তৃক সুজাতপুর শিখ সঙ্গতটি (ধর্মীয় মিলনস্থল) নির্মিত হয়েছিলো বলে ধারণা করা হয়। তিনি এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এটি ছিল মূলত গুরু নানক-এর স্মরণে স্থাপিত একটি উদাসী চরণ পাদুকা। বাবা নাথ এটি স্থাপন করেছিলেন। তিনি ভাই আলমাস্ট-এর উত্তরশুরী। ১৮৩০ সালে দালানের কাজ সম্পূর্ণ হয় এবং গুরু নানকের এখানে অবস্থানের সম্মানে তা নিবেদন করা করা হয়, যিনি ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে এ স্থানেই শিখ ধর্মীয় বিষয়াবলী ও বিশ্বভাতৃত্বের বাণী প্রচার করেন।

গুরুদুয়ারা নির্মাণের পূর্বে ভাই নাথন এ স্থানে একটি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন যা ১৮৩৩ সালে মহন্ত প্রেম দাস কর্তৃক পুনঃখনন করা হয়। বৈশাখী সময়ে (বৈশাখ মাসে) এবং গুরু নানকের জন্মবার্ষিকীতে ভারত থেকে শিখ এবং জাঠগণ এখানে আসেন ও অবস্থান করেন। ঢাকা থেকে ফিরে যাওয়ার পথে গুরু নানক চট্টগ্রাম শহরে যাত্রা বিরতিকালে চকবাজার এলাকায় একটি ‘মান্জি’ স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীকালে এ মান্জিও গুরুদুয়ারার রূপ নেয়। রেলওয়ের শিখ কর্মচারীদের জন্য পাহাড়তলী এলাকায় আরেকটি গুরুদুয়ারা নির্মিত হয়েছিল। গুরু নানক নিজে সিলেটে একটি গুরুদুয়ারার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।

গুরু নানকের পরবর্তী আরো নয়জন গুরু নানক এই ধর্মীয় ভাবধারার প্রচারের দায়িত্বে ছিলেন। শেষ গুরু গোবিন্দ সিং দাবি করেন যে, তাঁর পরবর্তীতে শিখ জনগোষ্ঠীর গুরু হিসেবে কেবলমাত্র পবিত্র গ্রন্থ,  গ্রন্থ সাহেব বিবেচিত হবে (গুরুমানিক্য রীতিতে লিখিত)।

সতের শতকের দ্বিতীয়ার্ধে নবম শিখ গুরু তেগবাহাদুর বাংলায় এসেছিলেন। তিনি আসাম থেকে ঢাকায় আগমন করেন ও প্রায় দুই বছর এখানে অবস্থান করেন (১৬৬৬-৬৮) ও ঢাকার বাংলাবাজার এলাকার ১৪নং শ্রীসদাস লেনে ‘গুরুদুয়ারা সঙ্গতটোলা’ প্রতিষ্ঠা করেন।

বাংলাদেশে মোট গুরুদুয়ারার সংখ্যা পাঁচটি: ঢাকায় দু’টি, চট্টগ্রামে দু’টি ও একটি ময়মনসিংহ শহরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত গুরুদুয়ারা ব্যতীত অন্যান্য গুরুদুয়ারার অবকাঠামোগত অবস্থা ভগ্নপ্রায়। ঢাকার ইংলিশ রোডে মোহন সিং কর্তৃক নির্মিত আরেকটি গুরুদুয়ারার অবস্থান ছিলো যা সময়ের ব্যবধানে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। উর্দু বাজারে সংগত সূত্রশশী নামের একটি মন্দির ছিলো। এটিকেও পরবর্তীকালে সূত্র সাধুগন ধ্বংস করেছিলেন।

১৯৪৫ সালে ময়মনসিংহ এর গুরুদুয়ারাটি গঞ্জের পার্কের একটি কালী মন্দিরের পাশে নির্মিত হয়েছিল। হীরা সিং নামের এক বাঙালি শিখ এই গুরুদুয়ারা তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের সময়ে এ অঞ্চলের সকল শিখ দেশ ছেড়ে চলে যায়।

বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে স্বল্প সংখক শিখ সম্প্রদায়ের বাস। এদের অধিকাংশই হয় ব্যবসায়ী নতুবা ভারতীয় হাই কমিশনে কর্মরত। সে কারণেই গুরুদুয়ারার শুক্রবারের ধর্মীয় সমাবেশে শিখ ধর্মাবলম্বী ছাড়াও অন্যান্য সম্প্রদায়ের ধর্মাবলম্বীদেরও অংশগ্রহণ দেখা যায়।

গুরুদুয়ারা ব্যবস্থাপনা  স্বাধীনতা যুদ্ধের পরবর্তীকালে গুরুদুয়ারা নানকশাহী ও অন্যান্য শিখ মন্দিরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ‘বাংলাদেশ গুরুদুয়ারা ম্যানেজমেন্ট কমিটি’ এর উপর ন্যস্ত করা হয়। এ কমিটি কলকাতা হতে তার দায়িত্ব পালন করত। গুরুদুয়ারা নানকশাহীর প্রতিদিনের ধর্মীয় আচার পালনের জন্য কমিটি ১৯৭২ সালে ভাই কর্তর সিংকে প্রধান যাজক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে।

সাধারনত বাল্মিকী সম্প্রদায়ের শিখগণ এখানে আসেন। গত কয়েক প্রজন্ম ধরে এ সম্প্রদায় গুরুনানকের অনুসারী। তারা গ্রন্থ সাহেব (পাঞ্জাবী) ভালো করে পড়তেও জানেন না তবে প্রতি শুক্রবার শিখ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ও বিশেষ অনুষ্ঠান সমূহে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন।

গুরুদুয়ারা, পশ্চিমবঙ্গ  মহনন্দা নদীর তীরে গড়ে ওঠা জেলা শহর মালদায় গুরুনানক ও গুরু তেগবাহাদুর ভ্রমণ করেছিলেন এবং তাদের সম্মানার্থে সেখানে শিখ মন্দির নির্মিত হয়। মন্দিরটির নাম ‘গুরু দুয়ারা নিমা সিরাই শ্রী গুরু তেগবাহাদুর’। নদী তীরবর্তী অংশে নতুন মালদা শহরের উত্থানের সাথে পুরনো মালদা শহরের অস্তিত্ব ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে থাকে এবং জনশূন্য হয়ে গেলে এ গুরুদুয়ারার কার্যক্রমও থেমে যায়। তবে এখনো দুটি ভিত্তি ও একটি পুরনো কূপ সেখানে টিকে আছে। মালদার রাজস্ব সংক্রান্ত দলিল-দস্তাবেজে এখনো এর উলে­খ পাওয়া যায়। ১৯৬০ এর দশকে এক শিখ কন্ট্রাক্টর পুরনো গুরুদুয়ারা স্থলে একটি নতুন কূপ খনন করলে শিখ গুরুদুয়ারাটির ব্যাপারে জনমনে নতুন করে আগ্রহ জন্মে। স্বভাবতই পরবর্তীকালে শিখ সম্প্রদায়ের অন্যান্যরা, বিশেষ করে সড়ক-যান মালিক কর্তৃপক্ষ পুরনো মালদার ঐতিহাসিক শিখ মন্দিরের সংস্কার কাজ শুরু করেন। সংস্কারকৃত গুরুদুয়ারাটির বর্তমান নাম ‘শ্রী প্রয়াগ সাহেব, সর্বরী’।

মুর্শিদাবাদের গঙ্গার তীরবর্তী হাওড়া-লালাগোলা সেকশন-এর পাশ্ববর্তী অংশে এবং ইস্টার্ন রেইলওয়ের হাওড়া কূল সেকশনেও গুরু নানক শাহীর সম্মানার্থে উৎসর্গকৃত গুরুদুয়ারটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছিল উদাসী শিখদের হাতে। বলা হয়ে থাকে যে, গুরু নানকদেব এ অঞ্চল ভ্রমণ করেছিলেন। তবে এখন তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই।

গুরু নানকদেব কালীঘাটের প্রাচীন হিন্দুমন্দির ভ্রমণের আরো পরে কলকাতা শহরের উত্থান হয়েছিল। কলকাতা শহরে বহু বছর ‘বড়িসংগত’ ও ‘ছোটিসংগত’ নামের দুটি শিখ সংগত এর অস্তিত্ব টিকে ছিল। পশ্চিমবঙ্গের তুলা পট্টির (কটন স্ট্রিট) গুরু দুয়ারা বড়িসংগতটি পশ্চিমবঙ্গের একটি উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক গুরুদুয়ারা। রাজা হাজুরী চাঁদ কর্তৃক সংগতটি নির্মিত ও পরিচালিত হতো। ১২৫৯ (১৮৫২) ফসলি সনে গুরু দুয়ারিটির সংস্কারের জন্য একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠিত হয়েছিলো। ১৯১০-১৯২২ সালের মধ্যে গুরুদুয়ারার মূল দালান ও তার সম্পত্তি মোট চার বার বন্দকী রাখা হয়েছিলো। ১৯২০ সালে ষোল সদস্য বিশিষ্ট নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হলেও একই সনের ডিসেম্বরের এটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব অমৃৎসরের ‘শিরোমনি গুরুদুয়ারা প্রবন্ধক’ কমিটির হাতে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যদিও ১৯২৩-২৫ সাল পর্যন্ত স্থানীয় ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন সরদার সুন্দর সিং মাজিথিয়া ও ভাই মোহন সিং ভাইড। দমদম বিমান বন্দরের কাছে গুরুদুয়ারা ছোট সংগতটির অবস্থান।

বিভিন্ন অঞ্চলে গুরুদুয়ার স্থাপন করে শিখ সম্প্রদায় তাদের নিজেদের সমাজ গড়ে তুলেছে এবং গুরু নানক-এর দর্শনের বিস্তার ঘটাতে সাহায্য করেছে।  [নাসরীন আক্তার]

আরও দেখুন শিখধর্ম