শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়


শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়  বাংলাদেশের অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ১৯৮৬ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইন নং LXVIIL বলে ১৯৮৭ সালে সিলেটের কুমারগাঁওতে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর ভৌত সুবিধাদি ৩১০ একর পরিমাণ এলাকা নিয়ে বিস্তৃত। বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ সালে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন এবং অর্থনীতি এ তিনটি বিভাগ, ১৩ জন শিক্ষক এবং ২০৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষাক্রম শুরু করে। বর্তমানে এর ৭টি অনুষদ ও ২২টি বিভাগ, প্রায় ৮৮৭২ জন শিক্ষার্থী, ৪১৮ জন অনুষদ সদস্য রয়েছে। এছাড়া স্কুল অব মেডিক্যাল সায়েন্সের আওতায় চারটি মেডিক্যাল কলেজ আছে যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০৩৫ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ছাত্রাবাসে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর স্থান সংকুলান হয়।

একাডেমিক ভবন (১)

ফলিত বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত বিভাগসমূহের মধ্যে আছে স্থাপত্যবিদ্যা, ইলেকট্রনিক্স ও কম্পিউটার বিজ্ঞান, রাসায়নিক প্রযুক্তি ও পলিমার বিজ্ঞান, সিভিল ও পরিবেশ কৌশল, শিল্প ও উৎপাদন কৌশল, জিওরির্সোসেস কৌশল, খাদ্য কৌশল এবং চা কৌশল বিভাগ। জীব বিজ্ঞান অনুষদে আছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বায়োটেকনলজি বিভাগ। ভৌত বিজ্ঞান অনুষদে আছে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত এবং পরিসংখ্যান বিভাগ। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত বিভাগসমূহের মধ্যে আছে সমাজতত্ত্ব, সমাজকর্ম, নৃবিজ্ঞান, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সরকার ব্যবস্থা। বর্তমানে কলা অনুষদ নেই। বাংলা এবং ইংরেজি সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সঙ্গে একীভূত হয়েছে। ব্যবসায় অনুষদে ব্যবসায় প্রশাসন সম্পর্কিত পাঠদান করা হয়। কৃষি এবং খনিজ বিজ্ঞান অনুষদে আছে বন বিভাগ। চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত চারটি মেডিকেল কলেজ হলো: সিলেট সরকারি এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, জালালাবাদ রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ, নর্থ-ইস্ট মেডিকেল কলেজ এবং সিলেট উইম্যান’স মেডিকেল কলেজ। ফলিত বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত আছে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ।

সাবিপ্রবি বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সমন্বিত সিস্টেম চালু করে। এটি ১৯৯৬-৯৭ সাল থেকে দেশের প্রথম সেমিস্টার সিস্টেমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে, যা দেশে এবং বিদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা এবং ইংরেজি দুটো ভাষা এবং দুটো কম্পিউটার কোর্স পড়তে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সেন্টার তাদের নিজস্ব কর্মী এবং বাইরের লোকজনের জন্য বিভিন্ন কোর্স অফার করে।

শহীদ মিনার

স্নাতক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের তৈরি করা বিভিন্ন গবেষণা প্রোগ্রামের জন্য সাবিপ্রবি এর স্নাতক পর্যায়ের প্রগ্রামগুলি ইতোমধ্যে খ্যাতি অর্জন করেছে। এটি বিভিন্ন গবেষণা জার্নাল প্রকাশ, প্রতি বছর জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক কনফারেন্স, সেমিনার এবং কর্মশালার আয়োজন করছে। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (এলএএন)-এর সাথে যুক্ত এবং বিশ্বের সেরা গ্রন্থাগারসমূহের সাথে একে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এটি বিভিন্ন অন-লাইন জার্নাল এবং একাডেমিক ওয়েব পোর্টালের সাবস্ক্রিপশান নিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পাশাপাশি ইনফরমেশন টেকনোলজিতে এক বছর মেয়াদি পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া রয়েছে পেশাগত (প্রফেশনাল) ডিপ্লোমা অর্জনের সুযোগ। দুধরনের পেশাগত ডিপ্লোমা রয়েছে: ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন এবং ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং। নিয়মিত পাঠদান কর্মসূচির বাইরে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের এক্সটা কারিকুলাম এবং কো-কারিকুলাম কার্যক্রমরে সঙ্গে যুক্ত। শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকটি সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন গঠন করেছে যা বছর জুড়েই বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। শিক্ষার্থীদের এই সংগঠনগুলির মধ্যে আছে ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, ফটোগ্রাফিক সমিতি, চলচ্চিত্র সমিতি, বিজ্ঞান ক্লাব, ভ্রমণকারীদের ক্লাব, রোভার-স্কাউট ক্লাব, বিএনসিসি প্রভৃতি। এছাড়া শিক্ষার্থীরা প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে। এছাড়া সাবিপ্রবি নানা ধরনের খেলাধুলা: ফুটবল, ভলিবল এবং বাস্কেটবলে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকটি নতুন বিভাগ খোলার পরিকল্পনা আছে। যার মধ্যে আছে ডেমোগ্রাফি, মিনারোলজি, আর্থসাইন্স, জুট অ্যান্ড ফাইবার টেকনোলজি, পাবলিক হেলথ এবং আরবান অ্যান্ড রুরাল প্ল্যানিং। এছাড়া ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, চীনা, আরবি ও জাপানি ভাষা শেখানোর জন্য একটি আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট নির্মাণাধীন রয়েছে।

সংস্কৃতিচর্চা, মুক্ত ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশের লক্ষ্যে, শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে মেলামেশা ও মত বিনিময়ের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় একটি আধুনিক ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) নির্মাণ করছে।

বর্তমান পরিকল্পনার মধ্যে আছে একটি মিলনায়তন, ছাত্রদের জন্য সাতটি ছাত্রাবাস ও ছাত্রীদের জন্য তিনটি ছাত্রীনিবাস, একটি স্টেডিয়াম, সুইমিং পুলসহ একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স, একটি ব্যায়ামাগার, আধুনিক সুবিধাসহ একটি চিকিৎসা কেন্দ্র এবং অনুষদ সদস্যবর্গ ও অন্যান্য সহায়ক কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য একটি বিদ্যালয় নির্মাণ করা। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের চাহিদা মেটানোর জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ একটি বহুমুখী বিপণি কেন্দ্রও নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।  [এ.কে.এম মাযহারুল ইসলাম]