শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ


শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ (১৪৭৪-১৪৮১ খ্রি.)  বাংলার পরবর্তী ইলিয়াস শাহী বংশের সুলতান। রুকনুদ্দীন বারবক শাহের পুত্র ও উত্তরাধিকারী। তিনি শামসুদ্দীন আবুল মুজাফ্ফর ইউসুফ শাহ উপাধি ধারণ করে ৮৭৯ হিজরিতে (১৪৭৪ খ্রি.) সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁর শিলালিপি থেকে জানা যায় যে, তিনি ‘খলিফাতুল্লাহ বিল হুজ্জত ওয়াল বুরহান’, ‘সুলতান-উস-সালাতীন’, ‘জিল্লুল্লাহ ফিল আলামীন’ এবং ‘খলিফাতুল্লাহ ফিল আরদিন’ উপাধিও গ্রহণ করেছিলেন।

তাঁর রাজত্বকালে বাংলা সালতানাতের কোন অঞ্চল হাতছাড়া হয় নি, বরং এর সীমা পশ্চিম ও উত্তর বাংলায় বিস্তার লাভ করেছিল। পূর্ব বাংলার বিস্তীর্ণ অংশ তাঁর সালতানাতের অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে প্রতীয়মান হয়।

শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ একজন আদর্শ, বিচক্ষণ ও দক্ষ শাসক ছিলেন। তাঁর শাসন ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল যে, তিনি তাঁর সালতানাতে শরীয়া আইন কঠোর (শরীয়া’ত) ও নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করেছিলেন এবং তাঁর রাজ্যে মদ্যপান নিষিদ্ধ ছিল। ন্যায় বিচারের প্রতি অনুরাগী ইউসুফ শাহ প্রায়ই আলেম ও কাজীদের তাঁর দরবারে ডেকে পাঠাতেন এবং নিরপেক্ষভাবে বিচার করার জন্য তাদেরকে উপদেশ দিতেন। আইন বিশারদ হিসেবে জটিল মামলায় তিনি প্রায়শ কাজীদের সাহায্য করতেন।

সুলতানের পৃষ্ঠপোষকতায় কবি জৈনুউদ্দীন তাঁর রসুল বিজয় কাব্য রচনা করেন। ধার্মিক মুসলমান হিসেবে তিনি ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল প্রজার সঙ্গে অভিন্ন আচরণ করতেন।

ইউসুফ শাহের রাজত্বকালে অনেক মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এগুলির মধ্যে মালদহের সাকোমোহন মসজিদ, তাঁতিপাড়া মসজিদ, লট্টন মসজিদ,  কদম রসুল মসজিদ এবং গৌড়ের দরাসবাড়ি মসজিদ সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য। মেজর ফ্রাঙ্কলিনের মতে ইউসুফ শাহ পান্ডুয়ার সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন।

সুলতান ইউসুফ শাহ সাত বছর সগৌরবে রাজত্ব করার পর সম্ভবত ৮৮৬ হিজরিতে (১৪৮১ খ্রি) মৃত্যু হয়। [এ.বি.এম শামসুদ্দীন আহমদ]