"শাকসবজি"-এর বিভিন্ন সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য


 
২ নং লাইন: ২ নং লাইন:
 
'''শাকসবজি'''  লতা-গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ যাদের, ফুল, ফল, বীজ, মূল, কন্দ, কান্ড বা পাতা খাদ্য হিসেবে ব্যবহূত হয়। বাংলাদেশে দেশি-বিদেশী প্রায় ১০০টিরও বেশি জাতের শাকসবজি উৎপন্ন হয়। শাকসবজির পুষ্টিগত, অর্থনৈতিক ও খাদ্যনিরাপত্তার ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হলেও কার্যত এদেশে প্রতিটি ব্যক্তির জন্য শাকসবজির সুপারিশকৃত (প্রতিদিন মাথাপিছু ২০০ গ্রাম) মাত্রার মাত্র অর্ধেক পাওয়া যায়।
 
'''শাকসবজি'''  লতা-গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ যাদের, ফুল, ফল, বীজ, মূল, কন্দ, কান্ড বা পাতা খাদ্য হিসেবে ব্যবহূত হয়। বাংলাদেশে দেশি-বিদেশী প্রায় ১০০টিরও বেশি জাতের শাকসবজি উৎপন্ন হয়। শাকসবজির পুষ্টিগত, অর্থনৈতিক ও খাদ্যনিরাপত্তার ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হলেও কার্যত এদেশে প্রতিটি ব্যক্তির জন্য শাকসবজির সুপারিশকৃত (প্রতিদিন মাথাপিছু ২০০ গ্রাম) মাত্রার মাত্র অর্ধেক পাওয়া যায়।
  
বাংলাদেশে উৎপন্ন কয়েকটি গোত্রের প্রধান শাকসবজির একটি তালিকা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
+
বাংলাদেশে উৎপন্ন কয়েকটি গোত্রের প্রধান শাকসবজির একটি তালিকা নিম্নে উল্লেখ করা হলো: Cruciferae- বাঁধাকপি, ''Brassica oleracea var. capitata''; ফুলকপি, ''Brassica oleracea'' var. botrytis; ওলকপি, ''Brassica oleracea'' var. gongyloides; সরিষাশাক, ''Brassica campestris;'' শালগম, ''Brassica rapa''; এবং মূলা, ''Raphanus sativus''। Leguminoseae- মটর, ''Pisum sativum''; শিম, ''Lablab niger''; বরবটি, Vigna sesquipedalis; জোড়শিম, Phaseolus vulgaris; কামরাঙা শিম, Psophocarpus tetragonolobus; এবং শাকালু, Pachyrrhizus tuberosa। Cucurbitaceae- মিষ্টিকুমড়া, ''Cucurbita maxima''; লাউ, ''Lagenaria siceraria''; চালকুমড়া, ''Benincasa hispida''; শসা, ''Cucumis sativus''; খিরা, ''Cucumis anguina''; ঝিঙ্গা, ''Luffa acutagula''; ধুন্দুল, ''Luffa cylindrica''; উচ্ছে/করলা, ''Momordica charantia''; কাঁকরোল, ''Momordica cochinchinensis''; পটল, ''Trichosanthes dioica''; চিচিঙ্গা, ''Trichosanthes anguina''; স্কোয়াশ, ''Cucurbita pepo''; ফুটি, Cucumis melo var. momordica; বাঙ্গি, ''Cucumis melo''; এবং তরমুজ, ''Citrullus lanatus''। Solanaceae- আলু, ''Solanum tuberosum''; বেগুন, ''Solanum melongena''; টমেটো, ''Lycopersicon esculentum''; মরিচ, Capsicum annuum, C. frutescens। Malvaceae- ঢেঁড়স, Abelmoschus esculentus। Amaranthaceae- ডাঁটা, Amaranthus lividus; লালশাক, Amaranthus gangeticus; এবং নটেশাক, Amaranthus viridis। Basellacease- পুঁইশাক (সবুজ), Basella alba; এবং পুঁইশাক (লাল), Basella rubra। Chenopodiaceae- পালংশাক, Spinacia oleracea; এবং বীট, Beta vulgaris। Compositeae- হেলেঞ্চা, ''Enhydra fluctuans''; এবং লেটুস, ''Lactuca sativa var capitata''। Convolvulaceae- কলমি, ''Ipomoea aquatica''; গিমা কলমি, ''Ipomoea reptans''; এবং মিষ্টিআলু,''Ipomoea batatas''। Umbelliferae- গাজর, ''Daucus carota''; এবং থানকুনি, ''Centella japonica''। Dioscoreaceae- মেটেআলু, ''Dioscorea alata''। Araceae- মুখীকচু, ''Colocasia antiquorum''; পানিকচু, ''Colocasia esculenta''; দুধকচু, ''Xanthosoma violaceum''; মৌলভীকচু, ''Xanthosoma atrovirens''; মানকচু, ''Alocasia macrorrhiza''; এবং ওলকচু, ''Amorphophallus campanulatus''। Moringaceae- শজিনা, ''Moringa oleifera''। Musaceae- কাঁচকলা, ''Musa paradisiaca''। Caricaceae- পেঁপে, ''Carica papaya''। Liliaceae- পিঁয়াজ, Allium fistulosum, ''A. cepa''। Tiliaceae- পাটপাতা, ''Corchorus capsularies''। Nymphaceae- শাপলা, ''Nymphaea stellata''।
Cruciferae- বাঁধাকপি, ''Brassica oleracea var. capitata''; ফুলকপি, ''Brassica oleracea'' var. botrytis; ওলকপি, ''Brassica oleracea'' var. gongyloides; সরিষাশাক, ''Brassica campestris;'' শালগম, ''Brassica rapa''; এবং মূলা, ''Raphanus sativus''। Leguminoseae- মটর, ''Pisum sativum''; শিম, ''Lablab niger''; বরবটি, Vigna sesquipedalis; জোড়শিম, Phaseolus vulgaris; কামরাঙা শিম, Psophocarpus tetragonolobus; এবং শাকালু, Pachyrrhizus tuberosa। Cucurbitaceae- মিষ্টিকুমড়া, ''Cucurbita maxima''; লাউ, ''Lagenaria siceraria''; চালকুমড়া, ''Benincasa hispida''; শসা, ''Cucumis sativus''; খিরা, ''Cucumis anguina''; ঝিঙ্গা, ''Luffa acutagula''; ধুন্দুল, ''Luffa cylindrica''; উচ্ছে/করলা, ''Momordica charantia''; কাঁকরোল, ''Momordica cochinchinensis''; পটল, ''Trichosanthes dioica''; চিচিঙ্গা, ''Trichosanthes anguina''; স্কোয়াশ, ''Cucurbita pepo''; ফুটি, Cucumis melo var. momordica; বাঙ্গি, ''Cucumis melo''; এবং তরমুজ, ''Citrullus lanatus''। Solanaceae- আলু, ''Solanum tuberosum''; বেগুন, ''Solanum melongena''; টমেটো, ''Lycopersicon esculentum''; মরিচ, Capsicum annuum, C. frutescens। Malvaceae- ঢেঁড়স, Abelmoschus esculentus। Amaranthaceae- ডাঁটা, Amaranthus lividus; লালশাক, Amaranthus gangeticus; এবং নটেশাক, Amaranthus viridis। Basellacease- পুঁইশাক (সবুজ), Basella alba; এবং পুঁইশাক (লাল), Basella rubra। Chenopodiaceae- পালংশাক, Spinacia oleracea; এবং বীট, Beta vulgaris। Compositeae- হেলেঞ্চা, ''Enhydra fluctuans''; এবং লেটুস, ''Lactuca sativa var capitata''। Convolvulaceae- কলমি, ''Ipomoea aquatica''; গিমা কলমি, ''Ipomoea reptans''; এবং মিষ্টিআলু,''Ipomoea batatas''। Umbelliferae- গাজর, ''Daucus carota''; এবং থানকুনি, ''Centella japonica''। Dioscoreaceae- মেটেআলু, ''Dioscorea alata''। Araceae- মুখীকচু, ''Colocasia antiquorum''; পানিকচু, ''Colocasia esculenta''; দুধকচু, ''Xanthosoma violaceum''; মৌলভীকচু, ''Xanthosoma atrovirens''; মানকচু, ''Alocasia macrorrhiza''; এবং ওলকচু, ''Amorphophallus campanulatus''। Moringaceae- শজিনা, ''Moringa oleifera''। Musaceae- কাঁচকলা, ''Musa paradisiaca''। Caricaceae- পেঁপে, ''Carica papaya''। Liliaceae- পিঁয়াজ, Allium fistulosum, ''A. cepa''। Tiliaceae- পাটপাতা, ''Corchorus capsularies''। Nymphaceae- শাপলা, ''Nymphaea stellata''।
+
  
 
'''''জমির পরিমাণ ও উৎপাদন'''''  শাকসবজির চাষাধীন জমির পরিমাণ ১৯৯০-২০০৫ সালের মধ্যে প্রায় ১,৭১,৮৩০ হেক্টর থেকে ২,৯১,৮৫৪ হেক্টরে বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে ওই সময়ে শাকসবজির উৎপাদনও প্রায় ১০ লক্ষ ৯ হাজার মে টন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ লক্ষ ৮০ হাজার মে টনে পৌঁছে। অবশ্য, প্রতিকূল আবহাওয়া ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের আক্রমণে গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়। প্রধান প্রধান শীতকালীন সবজি হলো বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, বেগুন, মূলা, শিম, লাউ প্রভৃতি; আর গ্রীষ্মকালে ফলে মিষ্টিকুমড়া, করলা, কাঁকরোল, ঝিঙ্গা, চালকুমড়া, ঢেঁড়স, বরবটি, পুঁইশাক ইত্যাদি। বেগুন, মিষ্টিকুমড়া, ঢেঁড়স ও লালশাকের মতো কিছু শাকসবজি উভয় মৌসুমে জন্মাতে দেখা যায়।
 
'''''জমির পরিমাণ ও উৎপাদন'''''  শাকসবজির চাষাধীন জমির পরিমাণ ১৯৯০-২০০৫ সালের মধ্যে প্রায় ১,৭১,৮৩০ হেক্টর থেকে ২,৯১,৮৫৪ হেক্টরে বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে ওই সময়ে শাকসবজির উৎপাদনও প্রায় ১০ লক্ষ ৯ হাজার মে টন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ লক্ষ ৮০ হাজার মে টনে পৌঁছে। অবশ্য, প্রতিকূল আবহাওয়া ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের আক্রমণে গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়। প্রধান প্রধান শীতকালীন সবজি হলো বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, বেগুন, মূলা, শিম, লাউ প্রভৃতি; আর গ্রীষ্মকালে ফলে মিষ্টিকুমড়া, করলা, কাঁকরোল, ঝিঙ্গা, চালকুমড়া, ঢেঁড়স, বরবটি, পুঁইশাক ইত্যাদি। বেগুন, মিষ্টিকুমড়া, ঢেঁড়স ও লালশাকের মতো কিছু শাকসবজি উভয় মৌসুমে জন্মাতে দেখা যায়।

১৬:৫৮, ১২ মার্চ ২০১৫ তারিখে সম্পাদিত বর্তমান সংস্করণ

শাকসবজি  লতা-গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ যাদের, ফুল, ফল, বীজ, মূল, কন্দ, কান্ড বা পাতা খাদ্য হিসেবে ব্যবহূত হয়। বাংলাদেশে দেশি-বিদেশী প্রায় ১০০টিরও বেশি জাতের শাকসবজি উৎপন্ন হয়। শাকসবজির পুষ্টিগত, অর্থনৈতিক ও খাদ্যনিরাপত্তার ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হলেও কার্যত এদেশে প্রতিটি ব্যক্তির জন্য শাকসবজির সুপারিশকৃত (প্রতিদিন মাথাপিছু ২০০ গ্রাম) মাত্রার মাত্র অর্ধেক পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে উৎপন্ন কয়েকটি গোত্রের প্রধান শাকসবজির একটি তালিকা নিম্নে উল্লেখ করা হলো: Cruciferae- বাঁধাকপি, Brassica oleracea var. capitata; ফুলকপি, Brassica oleracea var. botrytis; ওলকপি, Brassica oleracea var. gongyloides; সরিষাশাক, Brassica campestris; শালগম, Brassica rapa; এবং মূলা, Raphanus sativus। Leguminoseae- মটর, Pisum sativum; শিম, Lablab niger; বরবটি, Vigna sesquipedalis; জোড়শিম, Phaseolus vulgaris; কামরাঙা শিম, Psophocarpus tetragonolobus; এবং শাকালু, Pachyrrhizus tuberosa। Cucurbitaceae- মিষ্টিকুমড়া, Cucurbita maxima; লাউ, Lagenaria siceraria; চালকুমড়া, Benincasa hispida; শসা, Cucumis sativus; খিরা, Cucumis anguina; ঝিঙ্গা, Luffa acutagula; ধুন্দুল, Luffa cylindrica; উচ্ছে/করলা, Momordica charantia; কাঁকরোল, Momordica cochinchinensis; পটল, Trichosanthes dioica; চিচিঙ্গা, Trichosanthes anguina; স্কোয়াশ, Cucurbita pepo; ফুটি, Cucumis melo var. momordica; বাঙ্গি, Cucumis melo; এবং তরমুজ, Citrullus lanatus। Solanaceae- আলু, Solanum tuberosum; বেগুন, Solanum melongena; টমেটো, Lycopersicon esculentum; মরিচ, Capsicum annuum, C. frutescens। Malvaceae- ঢেঁড়স, Abelmoschus esculentus। Amaranthaceae- ডাঁটা, Amaranthus lividus; লালশাক, Amaranthus gangeticus; এবং নটেশাক, Amaranthus viridis। Basellacease- পুঁইশাক (সবুজ), Basella alba; এবং পুঁইশাক (লাল), Basella rubra। Chenopodiaceae- পালংশাক, Spinacia oleracea; এবং বীট, Beta vulgaris। Compositeae- হেলেঞ্চা, Enhydra fluctuans; এবং লেটুস, Lactuca sativa var capitata। Convolvulaceae- কলমি, Ipomoea aquatica; গিমা কলমি, Ipomoea reptans; এবং মিষ্টিআলু,Ipomoea batatas। Umbelliferae- গাজর, Daucus carota; এবং থানকুনি, Centella japonica। Dioscoreaceae- মেটেআলু, Dioscorea alata। Araceae- মুখীকচু, Colocasia antiquorum; পানিকচু, Colocasia esculenta; দুধকচু, Xanthosoma violaceum; মৌলভীকচু, Xanthosoma atrovirens; মানকচু, Alocasia macrorrhiza; এবং ওলকচু, Amorphophallus campanulatus। Moringaceae- শজিনা, Moringa oleifera। Musaceae- কাঁচকলা, Musa paradisiaca। Caricaceae- পেঁপে, Carica papaya। Liliaceae- পিঁয়াজ, Allium fistulosum, A. cepa। Tiliaceae- পাটপাতা, Corchorus capsularies। Nymphaceae- শাপলা, Nymphaea stellata

জমির পরিমাণ ও উৎপাদন  শাকসবজির চাষাধীন জমির পরিমাণ ১৯৯০-২০০৫ সালের মধ্যে প্রায় ১,৭১,৮৩০ হেক্টর থেকে ২,৯১,৮৫৪ হেক্টরে বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে ওই সময়ে শাকসবজির উৎপাদনও প্রায় ১০ লক্ষ ৯ হাজার মে টন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ লক্ষ ৮০ হাজার মে টনে পৌঁছে। অবশ্য, প্রতিকূল আবহাওয়া ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের আক্রমণে গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়। প্রধান প্রধান শীতকালীন সবজি হলো বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, বেগুন, মূলা, শিম, লাউ প্রভৃতি; আর গ্রীষ্মকালে ফলে মিষ্টিকুমড়া, করলা, কাঁকরোল, ঝিঙ্গা, চালকুমড়া, ঢেঁড়স, বরবটি, পুঁইশাক ইত্যাদি। বেগুন, মিষ্টিকুমড়া, ঢেঁড়স ও লালশাকের মতো কিছু শাকসবজি উভয় মৌসুমে জন্মাতে দেখা যায়।

বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি

উৎপাদন ব্যবস্থা  উৎপাদনের পরিমাণ ও চাষের লক্ষ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশে সবজি সাধারণত তিনভাবে ফলানো হয়: ১. বসতবাড়িতে সবজি উৎপাদন-  অঙ্গসংস্থান, বৃদ্ধির প্রকৃতি, আলো ও পুষ্টিদ্রব্যের চাহিদার নিরিখে কয়েক ধরনের শাকসবজি বসতবাড়িতে ফলানো হয়। এক্ষেত্রে কৃষক পরিবার প্রধানত নিজস্ব চাহিদা পূরণ এবং উদ্বৃত্ত বিক্রয়ের জন্য স্থানীয় জাতের সবজি ও সেকেলে প্রযুক্তির সাহায্যে শাকসবজি ফলায়। এতে মহিলারা নামভূমিকায় থাকেন। ২. বাজারে বিক্রয়যোগ্য সবজি উৎপাদন-  বাণিজ্যিকভাবে সবজি উৎপাদনে মাঠে সেচ ও বৃষ্টিনির্ভর পরিবেশে আধুনিক ও সেকেলে প্রযুক্তি ব্যবহূত হয়। এতে সাধারণত উচ্চফলনশীল অথবা সংকর জাত ব্যবহার, নিবিড় রোপণ, সুষ্ঠু সার প্রয়োগ ও ক্ষেত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বহুফসলি চাষ, সুযোগ্য বিপণন ব্যবস্থা ইত্যাদি অনুসৃত হয়। অনুকূল কৃষি বাস্ত্তসংস্থানিক অবস্থা ও উন্নততর বিপণন অবকাঠামোর কারণে কিছু কিছু শাকসবজি উৎপাদনের নির্দিষ্ট স্থানীয় এলাকা রয়েছে।

কেন্দ্রীভূত অঞ্চলের উদাহরণ হিসেবে উলে­খযোগ্য পটল বগুড়ায়, পিঁয়াজ ফরিদপুরে, শিম চট্টগ্রামে, ফুলকপি টাঙ্গাইলে এবং টমেটো যশোর ও নবাবগঞ্জে প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়। বর্তমানে লাউ, বরবটি, ঢেঁড়স, কাঁকরোল, জোড়শিমের মতো সবজি রপ্তানির জন্যও সীমিত পরিমাণে উৎপন্ন হচ্ছে। ৩. বীজ উৎপাদন-  বাংলাদেশে সবজি বীজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩,০০০ মে টন। উন্নত জাতের ভাল মানসম্পন্ন বীজের অভাব সবজি উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায়। সবজি বীজের মোট চাহিদার মাত্র প্রায় ৪% সরকারি খাত সরবরাহ করে, ১০% আমাদানি করা হয় এবং অবশিষ্ট চাহিদা কৃষকদের মধ্যে বিনিময় ও স্থানীয় বীজ খামারগুলি পূরণ করে থাকে।[এস.এম মনোয়ার হোসেন এবং এ.কে.এম মতিয়ার রহমান]

ক্ষতিকর প্রাণী  বিভিন্ন প্রজাতির কীটপতঙ্গ ও মাইট শাকসবজির ক্ষতি করে। নিম্নে প্রধান কয়েক ধরনের সবজির মুখ্য ক্ষতিকর প্রাণীর নাম উলে­খ করা হলো: কপিজাতীয় সবজি (বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি, লেটুস, মূলা ইত্যাদি) শুয়াঁপোকা, Spodoptera litura; কপির সুরুই পোকা, Plutella xylostella; জাবপোকা, Lipaphis erysimi এবং কাটুই পোকা, Agrotis ypsilon

বেগুন জাতীয় সবজি, বেগুন কান্ড ও ফল ছিদ্রকারী, Leucinodes orbonalis; লাল মাকড়, Tetranychus প্রজাতি; কাঁটালেপোকা, Epilachna vigintioctopunctata, E. dodecostigma এবং E. corupta। টমেটো জাবপোকা, Aphis craccovora; এবং ফল ছিদ্রকারী, Helicoverpa armigera। আলু আলুর মথ, Phthorimaea operculella; এবং জাবপোকা Myzus persicae

শিমজাতীয় সবজি ফুলের কুঁড়ি ও শুঁটি ছিদ্রকারী পতঙ্গ: Maruca testulalis; Euchrysops cnejus ও Heliothis armigera

কুমড়াজাতীয় সবজি তরমুজের মাছি, Dacus cucurbitae; লাউপোকা, Raphidopalpa (Aulacophora) foveicollis, R. abdominalis ও R. frontalis  প্রাপ্তবয়স্ক R. foveicolli লাল রঙের, R. abdominalis কমলা রঙের ও R. frontalis নীল রঙের বিটল।

অন্যান্যদের মধ্যে ঢেঁড়সের কচি কান্ড ও ফল ছিদ্রকারী, Earias vittella এবং জ্যাসিড পোকা, Amrasca devastans উলে­খযোগ্য।  [মো. নূরুল ইসলাম]

সবজির রোগ  টমেটোর রোগ Fusarium oxysporum ছত্রাক সৃষ্ট ‘নেতিয়ে পড়া’ রোগটি ব্যাপক বিস্তৃত। Alternaria solani ছত্রাক সৃষ্ট টমেটোর আগাম ধ্বসা রোগটিও বেশ সাধারণ। পাতায় দাগ সৃষ্টি ও ধ্বসা অবস্থা সৃষ্টির মাধ্যমে এ ছত্রাকের আক্রমণ ঘটে। Phytophthora infestans ছত্রাক সৃষ্ট টমেটোর নাবী ধ্বসা রোগ আলুর নাবী ধ্বসা রোগের অনুরূপ। Septoria lycopersici সৃষ্ট টমেটোর সেপ্টোরিয়া রোগ বেশ ধ্বংসাত্মক। টমেটো গাছের যেকোন বৃদ্ধি-ধাপে এ রোগের আক্রমণ ঘটতে পারে। Phytophthora infestans, Alternaria spp., Fusarium spp.ও Aspergillus niger ছত্রাকের সাহায্যে মাঠে ও পরিবহনকৃত টমেটোতে ফল পচা রোগ হয়ে থাকে। ব্যাকটেরিয়াল নেতিয়ে পড়া রোগের জীবাণু Pseudomonas solanacearum পরিবহন কলাগুচ্ছের একটি গুরুত্বপূর্ণ রোগজীবাণু। কান্ড ও ফল ক্যাঙ্কার রোগের জীবাণু Corynebacterium michiganense টমেটো গাছের অনেক অংশেই আক্রমণ ঘটায়। এ রোগজীবাণু মৃত্তিকা ও বীজবাহিত।

টমেটো মোজাইক ভাইরাস সৃষ্ট টমেটোর সাধারণ মোজাইক রোগ সারা বিশ্বে বিস্তৃত। এ রোগে টমেটোর পাতায় বিশেষ ধরনের কোঁকড়ানো লক্ষণ প্রকাশ পায়। বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতের টমেটো ফসলে কয়েক ধরনের মোজাইক রোগ লক্ষ্য করা যায়। এ রোগের বাহক Bemisia tabaci নামের এক পতঙ্গ।

বেগুন গাছ ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া, নিমাটোড ও ফাইটোপ­াজমা সৃষ্ট অনেক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। বেগুনের নেতিয়ে পড়া ও মূল পচন রোগের জন্য দায়ী ছত্রাকগুলি একটি অপরটির সহযোগী হিসেবে কাজ করে। ছত্রাকগুলি হচ্ছে Macrophomina phaseolina, Fusarium solani এবং Sclerotium rolfsii। এই রোগজীবাণুগুলি মৃত্তিকা ও বীজবাহিত। Phomopsis vexans ছত্রাকের সাহায্যে বেগুনের ড্যাম্পিং অফ, চারা ধ্বসা, পাতায় দাগ, কান্ডের বাকল-ক্ষত ও ফল পচন রোগ হয়।

বাংলাদেশে ঢেঁড়সের শিরাস্বচ্ছতা রোগই সবচেয়ে মারাত্মক। যেকোন বয়সের ঢেঁড়স গাছের পাতার শিরা বা উপশিরাগুলি হলুদ হয়ে যায়। Bemisia tabaci নামক বাহক পোকার সাহায্যে পরিবাহিত হয়ে এ রোগ খুব দ্রুত বিস্তার লাভ করে। এ রোগে ঢেঁড়সের পাতা, ফুল ও ফল আক্রান্ত হয়ে বিকৃত আকার ধারণ করে, যার ফলে ফলন খুব কমে যায়।

সাধারণত Pythium ও Phytophthora প্রজাতির ছত্রাকের সংক্রমণে নার্সারীতে বাঁধাকপির চারায় ড্যাম্পিং অফ রোগ হয়। আক্রান্ত চারা পরিশেষে মারা যায়।Xanthomonas campestris ছত্রাক সৃষ্ট কালো পচন রোগে বাঁধাকপির পাতার কিনারায় V- আকারের হলদে দাগ দেখা দেয়, যা কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এ রোগে সংক্রমিত স্থানের শিরা ও উপশিরা বা অণুশিরাগুলি বাদামি থেকে কালো রঙে পরিবর্তিত হয়। Plasmodiophora brassicae ছত্রাক সৃষ্ট মূল দলাবদ্ধ হওয়া রোগের ক্ষেত্রে রোগজীবাণু বাঁধাকপির মূলের ভেতরে বেশ কিছুটা প্রবেশ করে। এতে বাঁধাকপির মাটির উপরের অংশ সংকুচিত হয়ে যায়।

কুমড়াজাতীয় সবজির রোগের মধ্যে উলে­খযোগ্য Erysiphe cichoracearum ছত্রাক সৃষ্ট পাউডারি মিলডিউ, Cercospora ছত্রাকের সৃষ্ট লিফ স্পট বা গ্রে স্পট এবং মোজাইক ভাইরাসের সংক্রামিত কুমড়ার মোজাইক রোগ।

এছাড়া Pseudomonas cubensisPeronospora pisi ছত্রাক দ্বারা তৈরি ডাউনি মিলডিউ রোগ অনেক স্থানে পরিলক্ষিত হয়। ঠান্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এ ছত্রাকের সংক্রমণ বেড়ে যায় এবং রোগের প্রচন্ডতাও বৃদ্ধি পায়। মাঠ পরিস্থিতিতে অথবা পরিবাহিত অবস্থায় Pythium, Phytophthora অথবা Fusarium ছত্রাকগুলির কোনটি এককভাবে অথবা সম্মিলিতভাবে কুমড়াজাতীয় সবজিকে আক্রমণ করে, ফলে কটোনি লিক (cottony leak) রোগ হয়ে থাকে। [আবুল খায়ের]