শমসের গাজী


শমসের গাজী  আঠারো শতকের ৪০ এর দশকের প্রথম দিকে ‘ভাটির বাঘ’ নামে খ্যাত। তিনি নোয়াখালীর এক সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করে দক্ষিণ কুমিল্লা ও উত্তর নোয়াখালী জুড়ে বিস্তৃত চাকলা রওশনাবাদের অধিপতি হয়েছিলেন। ক্রমে তিনি সমগ্র কুমিল্লা জেলাই দখল করেন। তিনি নিজামপুর পরগনা জয় করে মেঘনা, মুহরী ও মনুগঙ্গার মধ্যবর্তী অঞ্চলের মুকুটহীন রাজা হন। তিনি শৈশব থেকে সাহসী ও তীক্ষ্ণবুদ্ধির অধিকারী ছিলেন। তখন চাকলা রওশনাবাদ ছিল ত্রিপুরা রাজ্যের অধীন। জমিদার ছিলেন নাসির মাহমুদ। জমিদার যত্ন করে শমসেরকে লালন-পালন করেন। যুবক শমসের অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী হয়ে ওঠেন। ইংরেজ রাজত্বের প্রারম্ভে জমিদার-তালুকদারের জোর-জুলুম ও লুণ্ঠনে প্রজাগণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। শমসের গাজী সমগ্র অঞ্চল দখল করে শাসন শুরু করেন। দরিদ্র কৃষকের কর তিনি মওকুফ করেন। তাঁর অর্থনৈতিক সুব্যবস্থার জন্য জিনিসপত্রের দাম হ্রাস পায়। তিনি বহু হিন্দু-মুসলমানকে লাখেরাজ ভূমি দিয়েছিলেন। তিনি রাজধানী জগন্নাথ সোনাপুর ও রাজধানীর বাইরে বহু দিঘি খনন ও বিদ্যালয় নির্মাণ করেছিলেন। দিঘিগুলির মধ্যে ‘কৈয়ার সাগর’ ছিল বৃহত্তম।

ত্রিপুরাধিপতি কৃষ্ণমাণিক্য তাঁর বিরুদ্ধে দুর্ধর্ষ কুকী বাহিনীর দুটি শক্তিশালী অভিযান পাঠিয়েছিলেন। শমসের গাজীর অসাধারণ সমর-কৌশল ও শৌর্যবীর্যের দরুন দুটি অভিযানই ব্যর্থ হয়। গাজী ত্রিপুরার রাজধানী উদয়পুর দখল করেন। রাজা আগরতলায় পলায়ন করেন এবং বাংলার নওয়াব মীরকাসিমের শরণাপন্ন হন। নওয়াবের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বলে যড়যন্ত্র করে শমসের গাজীকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয় (১৭৬০)। কৃষ্ণমাণিক্য তাঁর হূতরাজ্য পুনর্দখল করেন। [আলি নওয়াজ]