লেবু


লেবু (Lemon)  ভারতীয় উপমহাদেশের স্থানীয় লেবুজাতীয় ফল (Citrus spp)। লেবু বাংলাদেশে সর্বত্র জন্মালেও বাণিজ্যিক উৎপাদন সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে সীমাবদ্ধ। প্রধানত জোড়কলম ও কলম থেকে বসতবাড়ির আশেপাশে বা বাগানে এর চাষ হয়। লেবুর গাছ মাঝারি আকারের, ছড়ানো। পাতা সবুজ, লম্বা-ডিম্বাকৃতি, আগা চোখা। ফুলের কুঁড়ি লালচে, পাপড়ি উপরে সাদা, নিচে বেগুনি অাঁচ। ফল ডিম্বাকার অথবা উপবৃত্তাকার; বাকল পুরু, পাকলে হালকা হলুদ, টক, ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ, রসালো। তাজা রস শরবৎ তৈরিতে ব্যবহূত হয়। লেবুতেল কোমল পানীয়, রুটি ও বিস্কুট সামগ্রীর উত্তম সুগন্ধি। কিছু স্থানীয় লেবু বীজশূন্য যেমন, এলাচি লেবু, পাতিলেবু, কালীগঞ্জ লেবু, শাসনি লেবু ইত্যাদি। সম্প্রতি বাংলাদেশে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারিলেবু-১ নামে একটি নতুন জাতের লেবু উদ্ভাবন করেছে। এলাচের গন্ধ ছাড়াও ফলটি বড়, আয়তাকার, ওজন হয় প্রায় ২৬০ গ্রাম, বাকল অমসৃণ, রসালো (২৬%), টক ও বীজ থাকে। গাছ প্রতি ফলন হয় বছরে ৬২টি থেকে ১০০টি।

এলাচি লেবু কাগজি লেবু

কাগজি লেবু এ লেবু (Citrus aurantifolia) সাধারণ লেবু থেকে আকারে ছোট, কিন্তু বাংলায় উভয়ই লেবু নামে পরিচিত। কাগজি লেবু ও লেবুর চাষাধীন জমি প্রায় ৯,০০০ একর। বসতবাড়ির আশেপাশে বা বাগানে সাধারণত জোড়কলম, কলম, কখনও বীজ থেকে চাষ হয়। ছয়-সাত বছরের একটি গাছে বছরে ১৫০ থেকে ২০০টি ফল ফলে। গাছ ছোটখাটো ৩-৫ মিটার লম্বা, ঝোপালো, ডালপালা এলোমেলো এবং কাঁটাগুলি ধারালো। পাতা ছোট, বৃন্ত পক্ষল। ফুল ছোট, হালকা সুগন্ধি ও সাদা। ফল ছোট, গোলাকার, রসালো, বাকল পাতলা ও মসৃণ, অত্যন্ত টক। পাকা ফল সবুজ-হলুদ, তাতে বহু ভ্রূণধর ছোট ছোট বীজ থাকে। বর্ষা মৌসুমেই বেশি ফলন হয়। তাজা রস ছাড়াও ফল আচার ও শরবতে ব্যবহার্য। প্রধানত কাগজি লেবু নামেই পরিচিত হলেও কিছু স্থানীয় নামও আছে যেমন, ঈশ্বরদীতে (পাবনা জেলা) কাগজা এবং চট্টগ্রামে পটিয়া কাগজি। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারিলেবু-২ ও বারিলেবু-৩ নামে দুটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। প্রথমটির ফল গোলাকার, মাঝারি, ওজন প্রায় ৮১ গ্রাম, টক ও রসালো (৩৩%) এবং দ্বিতীয়টি গোলাকার, ছোট, ওজন প্রায় ৫৫ গ্রাম, কম টক ও অত্যন্ত রসালো (৩৮%)।

টক কাগজি লেবু ছাড়াও বাংলাদেশে মিঠালেবু বা মিঠানেম্বু বা শরবতী লেবু (c. limettoides) পাওয়া যায়। এটির গাছ, ফুল ও ফল আকারে বড়। ফল অত্যন্ত রসালো (৪২.৫%) তাতে অম্লত্ব কম (০.০৯%), গোল বা লম্বাটে, আগায় একটি সুস্পষ্ট গুটিকা, তেমন টক নয়।  [এস.এম মনোয়ার হোসেন]