রেডিং, লর্ড


লর্ড রেডিং

রেডিং, লর্ড (১৮৬০-১৯৩৫)  ১৯২১ থেকে ১৯২৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয়। ইহুদি বংশোদ্ভূত রুফাস ড্যানিয়েল আইজ্যাকস রেডিং ১৮৬০ সালের ১০ অক্টোবর লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ স্কুল এবং বিদেশে লেখাপড়া করার পর অবশেষে তিনি আইন বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ১৮৮৭ সালে মিডল টেম্পলে আইন ব্যবসায় যোগ দেন।

আইনজীবী হিসেবে নিরবচ্ছিন্ন ও সফল জীবনের ঐতিহ্য নিয়ে তিনি ১৯০৪ সালে রেডিং থেকে উদার সাম্রাজ্যবাদী হিসেবে কমন্স সভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯১০ সালে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল নিযুক্ত হন এবং ১৯১৩ সালে তাঁকে ইংল্যান্ডের লর্ড চীফ জাস্টিস করা হয়। তিনি এ পদে ১৯২১ সাল পর্যন্ত অধিষ্ঠিত ছিলেন। এসময় তাঁকে ভারতের ভাইসরয় করে প্রেরণ করা হয়।

ভারতে তাঁর কার্যকাল খিলাফত আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন ও অন্যান্য স্থানীয় বিদ্রোহের কারণে উল্লেখযোগ্য। ভাইসরয় হিসেবে তিনি বিকাশমান রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতি কঠোর প্রতিক্রিয়াশীল মনোভাবের পরিচয় দেন এবং সমঝোতার নীতি পছন্দ করলেও তিনি উত্তরোত্তর কঠোর দমনমূলক নীতি অবলম্বন করেন। ১৯২১ সালে তিনি আলী ভ্রাতৃদ্বয় এবং ১৯২৪ সালে গান্ধীকে কারারুদ্ধ করেন এবং পাঞ্জাবের শিখ বিদ্রোহী ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির মোপলাদের দমন করতে শক্তি প্রয়োগ করেন। ১৯২৬ সালের প্রথম দিকে ভারতে রেডিং-এর কার্যকালের মেয়াদ শেষ হয় এবং ওই বছরের মে মাসে তিনি ‘মারকুইস’ উপাধিতে ভূষিত হন। ডিউক অব ওয়েলিংটনের সময়ে মারকুইস উপাধিটি সৃষ্ট হওয়ার পর সাধারণ লোক হিসেবে তিনিই প্রথম এটি লাভ করেন। ১৯৩১ সালে তিনি রামজে ম্যাকডোনাল্ডের জাতীয় সরকারের পররাষ্ট্র সচিব নিযুক্ত হন। কিন্তু সাধারণ নির্বাচনের পর তিনি এ পদ ছেড়ে দেন। তাঁর পুত্র ১৯৪২ থেকে ১৯৪৪ সালের মধ্যে রুফাস আইজ্যাকস (Rufus Isaacs), ফার্স্ট মারকুইস অব রেডিং (First Marquess of Reading) শিরোনামে দুখন্ডে তাঁর জীবনী লেখেন। ১৯৩৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর লন্ডনে তাঁর মৃত্যু হয়।  [কে.এম মোহসীন]