রায়, গোপাল লাল


রায়, গোপাল লাল (১৮৮৭-১৯৫৫)  রংপুরের (তাজহাট) জমিদার, সমাজসেবক। জন্ম ১৮৮৭ সালে কলকাতায়। পিতা গোবিন্দ লালের মৃত্যুর পর (জুন ১৮৯৭) অপ্রাপ্তবয়ষ্ক গোপাল লাল কোর্ট অব ওয়ার্ডসের অধীনে তাজহাটের জমিদার হন। গোপাল লাল প্রথমে কলকাতা হেয়ার স্কুল এবং পরে মধ্য প্রদেশের (ভূপাল) রাজকুমার কলেজে পড়াশুনা করেন। কিন্তু মাতা মহারাণী শরৎসুন্দরী দেবী ১৯০৫ সালে মারা গেলে শিক্ষা অসমাপ্ত রেখেই তাজহাটে ফিরে আসেন এবং ১৯০৮ সালে জমিদারির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯১২ এবং ১৯১৮ সালে তিনি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক যথাক্রমে ‘রাজা’ এবং ‘রাজা বাহাদুর’ উপাধি লাভ করেন। তিনি ১৯১৪-১৯২৩ সালে রংপুর মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যান এবং ৩ বছর জেলা বোর্ডের সদস্য ছিলেন। ১৯০৭ সালে তিনি রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯১৭ সালে রঙ্গপুর জমিদার অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন এবং জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ পর্যন্ত (১৯৫০) এর সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া তিনি বঙ্গীয় জমিদার সভা, ইন্ডিয়া ল্যান্ড হোল্ডারস্ অ্যাসোসিয়েশন এবং ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিলেন। ১৯৩০-৩১ সালে তিনি ব্রিটিশ ইন্ডিয়া এসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন ১৯১৬ সালে রংপুরে অনুষ্ঠিত উত্তরবঙ্গ সাহিত্য সম্মিলনীর নবম সম্মিলনীর অন্যতম উদ্যোক্তা। ১৯১০ সালে তিনি রাজশাহী বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির সদস্য হন। রংপুর কারমাইকেল কলেজের গোপাল লাল হোস্টেল, রংপুর বার লাইব্রেরি এবং জি. এল. রায় রোড তাঁর অর্থে নির্মিত হয়। খেলাধুলার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তিনি কলকাতায় তাজহাট প্যালেস টীম (১৯২১-২২) গঠন করেন। এ ছাড়া গোবিন্দ লাল রায় শিল্ড, কে.সি.দত্ত শিল্ড, কুমার বাহাদুর চ্যালেঞ্জ রৌপ্যকাপ প্রবর্তন করে তিনি রংপুরে ফুটবল খেলার পৃষ্ঠপোষকতা করেন। ১৯৪৪ সাল থেকে আমৃত্যু তিনি ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি প্রতি বছর তাজহাট রাজবাড়িতে মহিলাদের জন্য নববর্ষের প্রথম দু’দিন ‘বৌ মেলা’, ছোটদের জন্য ‘ঘুড়ি উড়ানো অনুষ্ঠান’ এবং বৈশাখের শেষ দিন অতি ধুমধামের সাথে পালন করতেন। ১৯৫৫ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।  [মুহম্মদ মনিরুজ্জামান]