"রহমান, বিচারপতি হামুদুর"-এর বিভিন্ন সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য


(Text replacement - "\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]" to "[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]")
৯ নং লাইন: ৯ নং লাইন:
 
জজিয়তি পেশায় নিয়োজিত থাকাকালে বিচারপতি হামুদুর রহমান কতিপয় মর্যাদাসম্পন্ন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব আরবিট্রেশনের সদস্য (হেগ, ১৯৫৯-৬০), ছাত্র সমস্যা ও ছাত্র কল্যাণ বিষয়ক কমিশনের চেয়ারম্যান (১৯৬৪), আইন সংস্কার কমিশনের সদস্য (১৯৬৭), যুদ্ধ তদন্ত কমিশনের সদস্য (১৯৭২), অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য গঠিত জাতিসংঘ কমিটির সদস্য (১৯৭২-৭৩) এবং কাউন্সিল অব ইসলামিক আইডিওলজির (পাকিস্তান) চেয়ারম্যান (১৯৭৪-৭৭) ছিলেন।  
 
জজিয়তি পেশায় নিয়োজিত থাকাকালে বিচারপতি হামুদুর রহমান কতিপয় মর্যাদাসম্পন্ন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব আরবিট্রেশনের সদস্য (হেগ, ১৯৫৯-৬০), ছাত্র সমস্যা ও ছাত্র কল্যাণ বিষয়ক কমিশনের চেয়ারম্যান (১৯৬৪), আইন সংস্কার কমিশনের সদস্য (১৯৬৭), যুদ্ধ তদন্ত কমিশনের সদস্য (১৯৭২), অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য গঠিত জাতিসংঘ কমিটির সদস্য (১৯৭২-৭৩) এবং কাউন্সিল অব ইসলামিক আইডিওলজির (পাকিস্তান) চেয়ারম্যান (১৯৭৪-৭৭) ছিলেন।  
  
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর হামুদুর রহমান স্বেচ্ছায় পাকিস্তানের নাগরিকত্ব বহাল রাখেন। পাকিস্তান সরকার তাঁকে পাকিস্তান বিভক্তির কারণ এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভূমিকা তদন্তের জন্য গঠিত কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে। তাঁর প্রতিবেদনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে রাজনীতি চর্চার বিভিন্ন দিক এবং বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে তাঁদের অত্যাচার-নিপীড়নের বিষয়টি বিশদভাবে প্রকাশ পায়। হামুদুর রহমান ১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর মৃতুবরণ করেন।  [মুয়ায্যম হুসায়ন খান]
+
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর হামুদুর রহমান স্বেচ্ছায় পাকিস্তানের নাগরিকত্ব বহাল রাখেন। পাকিস্তান সরকার তাঁকে পাকিস্তান বিভক্তির কারণ এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভূমিকা তদন্তের জন্য গঠিত কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে। তাঁর প্রতিবেদনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে রাজনীতি চর্চার বিভিন্ন দিক এবং বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে তাঁদের অত্যাচার-নিপীড়নের বিষয়টি বিশদভাবে প্রকাশ পায়। হামুদুর রহমান ১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর মৃতুবরণ করেন।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]
  
 
[[en:Rahman, Justice Hamoodur]]
 
[[en:Rahman, Justice Hamoodur]]

২২:১৭, ১৭ এপ্রিল ২০১৫ তারিখের সংস্করণ

বিচারপতি হামুদুর রহমান

রহমান, বিচারপতি হামুদুর (১৯১০-১৯৭৫)  পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি। হামুদুর রহমান ১৯১০ সালের ১ নভেম্বর ভারতের পাটনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.বি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি লন্ডনের গ্রে’স ইন থেকে বার-এট-ল সম্পন্ন করে ১৯৩৭ সালে স্বল্পকালের জন্য লন্ডনে আইন ব্যবসায়ে নিয়োজিত ছিলেন।

হামুদুর রহমান ১৯৩৮ সালে কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তাঁর পেশাগত জীবন শুরু করেন। তিনি কলকাতা কর্পোরেশনের কাউন্সিলর (১৯৪০) এবং কলকাতার ডেপুটি মেয়র (১৯৪৩) ছিলেন। হামুদুর রহমান ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বাংলা প্রদেশের জুনিয়র স্ট্যান্ডিং কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর তিনি পূর্ববাংলায় অবস্থানের পক্ষে মত দেন এবং ১৯৪৮ সালে ঢাকায় আসেন। ১৯৫৩ সালে তাঁকে পূর্ববাংলায় অ্যাডভোকেট জেনারেল নিয়োগ করা হয়। ১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি পদে উন্নীত হন।

ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি থাকাকালে হামুদুর রহমান ১৯৫৮ সালের নভেম্বর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হন। ১৯৬০ সালের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি এ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৬০ সালে হামুদুর রহমান পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন। ১৯৬৮ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ লাভ করেন।

জজিয়তি পেশায় নিয়োজিত থাকাকালে বিচারপতি হামুদুর রহমান কতিপয় মর্যাদাসম্পন্ন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব আরবিট্রেশনের সদস্য (হেগ, ১৯৫৯-৬০), ছাত্র সমস্যা ও ছাত্র কল্যাণ বিষয়ক কমিশনের চেয়ারম্যান (১৯৬৪), আইন সংস্কার কমিশনের সদস্য (১৯৬৭), যুদ্ধ তদন্ত কমিশনের সদস্য (১৯৭২), অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য গঠিত জাতিসংঘ কমিটির সদস্য (১৯৭২-৭৩) এবং কাউন্সিল অব ইসলামিক আইডিওলজির (পাকিস্তান) চেয়ারম্যান (১৯৭৪-৭৭) ছিলেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর হামুদুর রহমান স্বেচ্ছায় পাকিস্তানের নাগরিকত্ব বহাল রাখেন। পাকিস্তান সরকার তাঁকে পাকিস্তান বিভক্তির কারণ এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভূমিকা তদন্তের জন্য গঠিত কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে। তাঁর প্রতিবেদনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে রাজনীতি চর্চার বিভিন্ন দিক এবং বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে তাঁদের অত্যাচার-নিপীড়নের বিষয়টি বিশদভাবে প্রকাশ পায়। হামুদুর রহমান ১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর মৃতুবরণ করেন। [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]