রহমান, কে.এম ওবায়দুর


রহমান, কে.এম ওবায়দুর (১৯৪০-২০০৭)  রাজনীতিক। জন্ম ১৯৪০ সালের ৫ মে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার লস্করদিয়া গ্রামে। পিতা খন্দকার মোঃ আতিকুর রহমান। কে এম ওবায়দুর রহমান ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাস করেন।

কে.এম ওবায়দুর রহমান

ওবায়দুর রহমান ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৬২-১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে তিনি আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৩ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিক্ষোভ প্রদর্শনের অভিযোগে তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। ১৯৬৪ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং ১৯৬৬ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ছয়দফা আন্দোলন এবং উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ওবায়দুর রহমান পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। ফরিদপুর জেলা সমন্বয় ও প্রতিরোধ কমিটির আহবায়ক হিসেবে তিনি অসহযোগ আন্দোলনে ফরিদপুরে যুব সমাজকে সংগঠিত করেন।

এপ্রিল মাসে পাকিস্তানি সৈন্যরা ফরিদপুর পুনর্দখল করলে তিনি ভারতে চলে যান। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারতের পুরুলিয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পলিটিক্যাল মোটিভেটর এবং পরে কলকাতায় আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয় পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।

ওবায়দুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে (১৯৭৩) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৩-৭৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের ডাক ও তার প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন এবং ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি প্রথমে মৎস্য ও পশুপালন এবং পরে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬-১৯৮৮ সালে তিনি বিএনপি’র মহাসচিব ছিলেন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। ওবায়দুর রহমান আমৃত্যু বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৬৪ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দশ বছরের অধিককাল কারান্তরীণ ছিলেন। মৃত্যু ২১ মার্চ ২০০৭।  [আ.ন.ম আবদুস সোবহান]