রমজান


রমজান হিজরি বর্ষপঞ্জির নবম মাস। ইসলামপূর্ব যুগেও এ মাসটি পবিত্র মাস হিসেবে গণ্য হতো এবং এটি ছিল যুদ্ধবিরতি মাসগুলির অন্যতম। এ মাসে রোজা রাখা ইসলামের পঞ্চ মূল নীতির অন্যতম। রোজার মাস শুরু হয় নতুন চাঁদ দেখার পর থেকে। টেলিভিশন ও রেডিওর মাধ্যমে এই চাঁদ দেখার ঘোষণা দেওয়া হয়।

রমজান মাসে মুসলমানরা সকাল-সন্ধ্যা খাদ্য-পানীয় গ্রহণে বিরত থাকে। এ সময় তাদের সকল প্রকার পাপচিন্তা ও পাপকর্ম থেকেও বিরত থাকা উচিত। সূর্যাস্তের সময় মাগরিবের  আযান রোজাশেষ ঘোষণা করে। তখন খেজুর বা অন্য কোনো খাবার এবং ঠান্ডা পানীয়, যেমন এক গ্লাস পানি বা সরবত দিয়ে রোজা ভাঙ্গা হয়। যে খাবার খেয়ে রোজা শেষ করা হয় তার নাম ইফতার। ইফতারের জন্য সাধারণত বিশেষ খাবার তৈরি ও সরবরাহ করা হয়। পরে পুরুষরা মসজিদে গিয়ে তারাবি  নামায পড়ে। এ সময় কুরআনের একেকটি অধ্যায় থেকে আবৃত্তি করা হয় এবং রোজার মাসে সম্পূর্ণ কুরআন শেষ করা হয়। মহিলারা এ নামায পড়ে বাড়িতে বসে। তারাবি নামাযের পর সন্ধ্যায় পরিপূর্ণ আহার গ্রহণ করা হয়। অধিকাংশ মুসলমানই ভোরবেলা কিছু খাবার গ্রহণ করে যাকে বলে সেহ্রি। সেহ্রি শেষ হয় ফজর বা প্রাতঃপ্রার্থনার আগে। এক সময় ছোট ছোট দলে লোকেরা পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়াত এবং প্রতিবেশীদের জানিয়ে দিত সেহ্রি খাওয়ার সময় হয়েছে। এ জন্য রমজান শেষে তারা প্রতিবেশীদের নিকট থেকে অর্থ উপহার পেত। যদিও সেই দলগুলির এখন আর প্রয়োজন নেই, কিন্তু কোনো কোনো পাড়ায় সেই ঐতিহ্যটি এখনও টিকে আছে।

শারীরিকভাবে সক্ষম সকল মুসলমানেরই রোজা রাখা বাধ্যতামূলক। শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, ভ্রমণকারী এবং রজঃস্বলা ও স্তন্যদানকারী মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক নয়। তবে পরবর্তীকালে বছরব্যাপী এই দিনগুলি মহিলাদের রোজা রাখা বিধেয়।

বাংলাদেশে রমজান মাসে রাস্তার পাশের অস্থায়ী দোকানগুলি মুখরোচক ইফতার তৈরি ও বিক্রি করে। ইফতারে প্রায় সকল রেস্তোরাঁ বিশেষ খাবার তৈরি করে। এ সময় পোশাক ও কাপড়ের দোকান, এমনকি অলঙ্কারের দোকানগুলিও পর্যাপ্ত কেনা-বেচা করে। কারণ এ মাসে লোকেরা নিজেদের জন্য এবং পরিবারের জন্যও নতুন পোশাক, অলঙ্কার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করে। অনেকে অপেক্ষাকৃত দরিদ্রদের মধ্যে পোশাক হিসেবে  যাকাত বিতরণ করে।

হিজরি সাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গে রমজান শেষ হয়ে যায়। এরপরই মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব  ঈদুল ফিত্‌র পালিত হয়।  [নিয়াজ জামান]