মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপি


মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপি (আনু. ৩য় খ্রি.পূ.)  ব্রাহ্মী রীতিতে উৎকীর্ণ একটি খন্ডিত শিলালিপি। এ শিলালিপি বাংলাদেশের বগুড়া জেলার মহাস্থানে পাওয়া গেছে। এটি হচ্ছে বাংলার প্রাচীনতম লিপিতাত্ত্বিক দলিল। সাত লাইনের এ দলিল উৎকীর্ণ করা হয়েছে একটি গোলাকৃতি পাথরের উপর- যার অংশবিশেষ ভেঙ্গে গেছে। লেখমালার আঙ্গিক বিচারে শিলালিপিটি মৌর্য যুগের (আনু. ৩য় খ্রিস্টপূর্বাব্দ)। শিলালিপিটির ভাষা মাগধী প্রভাবিত প্রাকৃত ভাষা। শিলালিপির পাঠ সম্পর্কে পন্ডিতগণ নানা রকম ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপি

এ শিলালিপিতে ‘পুডনগল’-এ (বাংলাদশের উত্তরাঞ্চলের পুন্ড্রনগর> মহাস্থান) কর্তব্যরত মহামাত্রের নিকট জারিকৃত জনৈক শাসকের একটি আদেশ লিপিবদ্ধ করা হয়। এতে সংবঙ্গীয় নামে পরিচিত শহর ও শহরতলীর অধিবাসীদের দুর্দশা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিলালিপিতে চারটি প্রয়োজনীয় জিনিসের কথা বলা হয়েছে, যেমন তেল (তৈল), ডুম (গাছ), ধান্য (ধান) এবং দুধরনের ক্ষুদ্রাকৃতি মুদ্রা-যার নাম গন্ডক (গন্ডা-একটি গণনার একক, চার কপর্দক অথবা কড়িতে এক গন্ডা) ও কাকমিক (কাকনিক-কপর্দক অথবা কড়ি)। গোলাঘর (কোঠাগল>কোষ্ঠাগার) উল্লিখিত প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীতে পূর্ণ করার নির্দেশ ছিল, যাতে যে কোন জরুরি অবস্থা- যেমন বন্যা, অগ্নিকান্ড বা তোতা পাখি দ্বারা শষ্য নষ্ট হলে তার মোকাবিলা করা যায়।

এ শিলালিপির ঐতিহাসিক গুরুত্ব এখানে যে, এটি পুন্ড্রবর্ধন অঞ্চলে মৌর্য শাসনের প্রাচীনতম সাক্ষ্য বহন করছে। এ শিলালিপি বাংলার যে কোন অঞ্চলের মধ্যে প্রথম নগরায়ণের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেয়। এটি পুন্ড্রবর্ধন অঞ্চলে বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে কড়ি প্রচলনের বিষয়েও আলোকপাত করে। এ লিপি থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনগণের দুর্দশার কথা এবং দুর্গতদের সাহায্যের জন্য গৃহীত প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কেও জানা যায়।  [সারিতা ক্ষেত্রী]