মসুর


মসুর গাছ

মসুর (Lentil)  একটি ডাল ফসল। এর বৈজ্ঞানিক নাম Lens culinaris, গোত্র শিম্বি। এটি মিশর, দক্ষিণ ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ায় অতি প্রাচীনকাল থেকে আবাদ হয়ে আসছে এবং পরবর্তীতে এসকল এলাকা থেকে ইউরোপের অভ্যন্তরে উত্তর দিকে এবং পূর্ব দিকে ভারতীয় উপমহাদেশ এবং চীনে বিস্তৃত হয়। হালকা দোঅাঁশ মাটি থেকে শুরু করে কালো মাটি পর্যন্ত বহু শ্রেণীর মাটিতে এটি উৎপন্ন করা যেতে পারে এবং মসুর গাছ মাঝারি ধরনের ক্ষারীয় উপাদান সমৃদ্ধ মাটি সহ্য করতে পারে।

মসুর ডাল

মসুর ডাল বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকার অন্যতম প্রধান উপাদান।  শীতকালীন ফসল হিসেবে এটি চাষ করা হয়ে থাকে। এই ফসলটির খরা সহ্য করার নির্দিষ্ট ক্ষমতা থাকলেও এটি বেশি মাত্রার শীত বা অত্যধিক উষ্ণ জলবায়ু সহ্য করতে পারে না। এটি জলাবদ্ধতার প্রতিও খুব সংবেদনশীল। বাংলাদেশে প্রতি হেক্টরে মসুর উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ৬৮০ কেজি। এদেশে প্রায় ১,৫৩,৮৯৯ হেক্টর জমিতে মসুর ফলানো হয়ে থাকে এবং বার্ষিক প্রায় ১,১১,০৬৫ মে টন মসুর উৎপাদিত হয়।

মসুর চারা ঋজু অবস্থায় বৃদ্ধি ঘটে এবং লম্বা ও সরু কান্ডের মাধ্যমে এটি মুক্তভাবে শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে। পরিপূর্ণ গাছের উচ্চতা হয় ২৫-৪০ সেমি। পাতাগুলি এক-শিরাল এবং কুর্চ অথবা আকর্ষক দ্বারা সীমাবদ্ধ। উপপত্র হচ্ছে রৈখিক, উপপত্রিকার উপস্থিতি নেই; পত্রকসমূহ হচ্ছে প্রতিমুখ অথবা একান্তর, ৪-৭টি জোড়া, ভল্লাকার, প্রায় ১.৩ সেমি লম্বা। পুষ্পবিন্যাস কাক্ষিক, লম্বা ও সরু ১-৪টি ফুল শোভিত পুষ্পদন্ড। ফুলগুলি ক্ষুদ্র এবং লম্বায় ৮ মিমি পর্যন্ত। শিম্ব আয়তাকার, সংকুচিত, মসৃন, প্রশস্ত, ১.৩ সেমি-এর অধিক লম্বা খুবই বিরল, ১-২ বীজ সম্পন্ন। বীজ পরকলার আকৃতি সম্পন্ন, দ্বিউত্তল, ক্ষুদ্রাকার, ধুসর থেকে হালকা লাল রংয়ের হয়ে থাকে। সচরাচর যদিও এটি সুনিষিক্ত তবুও পরনিষেকের ঘটনাও ঘটতে পারে। বীজের অংকুরোদগম মৃদগত। প্রধান প্রধান রোগসমূহ হলো মরিচা রোগ, পাদমূল পচন রোগ, অবসমতা এবং কান্ডপর্ব ধ্বসা রোগ।

মসুরের চেরা বীজ ডাল রান্নায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আস্ত বীজগুলিতে প্রায় ১১.২% পানি, ২৫% আমিষ উপাদান, ১% স্নেহ পদার্থ, ৫৫.৮% শর্করা, ৩.৭% অাঁশ এবং ৩.৩% ছাই বিদ্যমান থাকে। ডালবীজ চূর্ণ করা ময়দা খাদ্যশস্যের চূর্ণের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় নানা রকম পিঠা তৈরিতে ব্যবহার হয়। মসুর ডাল অসুস্থ লোকের পথ্য এবং শিশু খাদ্যরূপে জনপ্রিয়।  [নিশিত কুমার পাল]