মরিচ


মরিচ  অতি পরিচিত মসলা। মরিচের আদি নিবাস মেক্সিকো হলেও বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এর চাষ হয়ে থাকে। বাংলাদেশে চাষাধীন জমি প্রায় ১,৫৪,৮১২ হেক্টর এবং উৎপন্ন ফসলের পরিমাণ প্রায় ১,৮৫,৬৩৬ মে টন।

মরিচ গাছ

মরিচে যথেষ্ট ভিটামিন ও ফসফরাস থাকে। গ্রীষ্ম ও শীত উভয় ঋতুতেই মরিচ ফলে। কাঁচা মরিচের গড় উৎপাদন হেক্টর প্রতি ৫-৬ মে টন। বাংলাদেশে মরিচ চাষ যথেষ্ট ব্যাপক। সব ধরনের দোঅাঁশ মাটিতেই মরিচ জন্মে। সাধারণত বীজতলায় চারা উৎপাদন করে জমিতে রোপণ করতে হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নানা জাতের মরিচ জন্মানো হয়। বাংলাদেশে উদ্ভাবিত তেমন জাত না থাকলেও এখানে বেশ কিছু স্থানীয় জাতের মরিচ আবাদ হয়। উল্লেখযোগ্য জাতগুলির মধ্যে রয়েছে বালিজুরী, বোনা, বাইন, সাইটা, সূর্যমুখী, পবা, হালদা, ধানী, শিকারপুরী এবং পাটনাই।

রবিশস্য হিসেবে অধিকাংশ মরিচ ফলানো হয় কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফরিদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও বগুড়ায়। বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মরিচ ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

গ্রামবাংলায় পান্তাভাতের সঙ্গে কাঁচা মরিচের ব্যবহার অনাদিকাল থেকে চলে আসছে। ভর্তা ও ভাজির এক অপরিহার্য উপকরণ কাঁচা অথবা শুকনো মরিচ। এছাড়া কাঁচা ও শুকনো উভয় প্রকার মরিচই নানারকম তরকারির মসলা হিসেবে ব্যবহূত হয়। শুকনো মরিচ গুঁড়া মসলা, সস্, চাটনি ও আচারের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিশ শতকের প্রথমভাগ পর্যন্ত বাংলা থেকে বিদেশে মরিচ রপ্তানি হতো।  ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যেসব মসলার জন্য ভারতের পূর্বাঞ্চলে এসেছিল, মরিচ তাদের অন্যতম। [এ.কে.এম মতিয়র রহমান]