ময়নামতী ওয়ার সেমিট্রি


ময়নামতী ওয়ার সেমিট্রি  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের সমাধিস্থান। কুমিল্লা থেকে সিলেটমুখী মহাসড়কের এক কিলোমিটারের মধ্যে ও ময়নামতী মিলিটারী হাসপাতালের অল্প দূরত্বে এর অবস্থান। সেমিট্রিটি রাস্তার পশ্চিম পাশে একটি অনুচ্চ পাহাড়ের শীর্ষে অবস্থিত।

ক্রস অব সেক্রিফাইস

যুদ্ধের প্রাক্কালে ময়নামতী ছিল স্বল্প জনবসতিপূর্ণ একটি ছোট গ্রাম। এ গ্রামই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে সেনাবাহিনীর শক্ত ও বৃহৎ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। এ স্থানে একাধিক অর্ডন্যান্স ডিপো এবং ব্রিটিশ ও ভারতীয় সেনা হাসপাতাল স্থাপন করা হয়। এছাড়াও এখানে ছিল ১৪ ও ১৫০ নং ব্রিটিশ জেনারেল হাসপাতাল। যুদ্ধাহত সৈন্যদের এ হাসপাতাল সমূহে মত্যু হলে তাদেরকে ময়নামতী ওয়ার সেমিট্রিতে সমাধিস্থ করা হত। সেনাবাহিনীর Graves service এর সদস্যরা এবং পরবর্তীতে কমিশনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন সেনাসমাধি, বিশেষ করে সুদূর বার্মা থেকে সৈন্যদের সমাধি তুলে এনে ময়নামতী ওয়ার সেমিট্রিতে পুনরায় সমাধিস্থ করা হত। তাছাড়া ঢাকা, ফরিদপুর, পাকশি, সৈয়দপুর, সান্তাহার এবং সিরাজগঞ্জ থেকে ছোট ছোট সেনা সমাধিও তুলে এনে এ স্থানে সমাধিস্থ করা হয়েছে। কারণ উক্ত অঞ্চলে সমাধিসমূহের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যা ছিল।

ময়নামতী ওয়ার সেমিট্রি

ময়নামতী সেমিট্রিটি সেনাবাহিনী কর্তৃক স্থাপিত হলেও এর পরিকল্পনায় ছিল গ্যারিসনের প্রকৌশলীরা। একটি পাহাড়ী উঁচু ভূমির সমতল শীর্ষে অবস্থিত সেমিট্রির প্রবেশ পথের পরেই খ্রিস্টান সৈন্যদের এবং অনতি দূরত্বে রয়েছে মুসলিম সৈন্যদের সমাধি। প্রবেশ পথের দিকে মুখ করে পাহাড়ের দিকে অর্ধেক পথ অতিক্রম করলে দেখা যাবে একটি হলিক্রস বা Cross of Sacrifice দন্ডায়মান। অপরদিকে গাছ সদৃশ্য ছায়া বা আচ্ছাদনের নীচে রয়েছে মুসলিমদের সমাধি। এখানে বর্তমানে ১৯৩৯-৪৫ পর্যন্ত যুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধাহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া বা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত ৭৩৭ সৈন্যের সমাধি রয়েছে যাঁদের অধিকাংশের বাসস্থান ছিল ভারত, পাকিস্তান, জাপান, আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড প্রভৃতি অঞ্চলে।  [নাসরীন আক্তার]