মধুপুর কর্দম


মধুপুর কর্দম (Madhupur Clay)  মধুপুর গড়, বরেন্দ্রভূমি ও লালমাই পাহাড় অঞ্চলে অতিমাত্রায় বিচূর্ণিত ও জারিত লালচে বাদামি অবক্ষেপ। মধুপুর কর্দম নবীন প্লাইসটোসিন যুগে জলবায়ুগত ঘটনাপ্রবাহে বিভক্ত কয়েকটি উত্তর-দক্ষিণ প্রলম্বিত সারিবদ্ধ প্লাইসটোসিন সোপানকে নির্দেশ করে। মধুপুর কর্দম লালমাই পাহাড়, মধুপুর গড় ও বরেন্দ্র এলাকায় মনোরম দৃশ্যের অবতারণা করেছে।  মহাস্থানগড়পাহাড়পুরময়নামতী ইত্যাদি স্থানে যেসব প্রাচীন সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল, সেগুলো সবই মধুপুর কর্দম স্তরসমষ্টি বেষ্টিত অঞ্চলের অন্তর্গত।

ঢাকা, ময়মনসিংহ ও টাংগাইল জেলায় বিস্তৃত ভাওয়াল ও মধুপুর গড়ে মধুপুর কর্দমের ব্যাপক সঞ্চয়ন পরিদৃষ্ট হয়। বৃহত্তর রাজশাহী ও বগুড়া জেলায় বিস্তৃত বরেন্দ্রভূমি মধুপুর কর্দম অবক্ষেপ দ্বারা গঠিত। কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত লালমাই পাহাড়ের প্রায় সব শৃঙ্গচূড়াই মধুপুর কর্দম দ্বারা আবৃত। মধুপুর ও বরেন্দ্র এলাকায় মধুপুর কর্দম সঞ্চয়ন সংলগ্ন প্লাবনভূমি থেকে সামান্য উঁচু এবং উত্তর-দক্ষিণ প্রলম্বিত ভূভাগ গঠন করেছে। ভূতাত্ত্বিকভাবে এই কর্দম সঞ্চয়ন মধুপুর কর্দম স্তরসমষ্টি নামে আখ্যায়িত। মধুপুর কর্দম হ্যালোইসাইট (halloysite) ও ইলাইট (illite) দ্বারা গঠিত এবং এগুলো স্মারক প্রত্নমৃত্তিকার (palaeosol) অন্তর্ভুক্ত। আজকাল মধুপুর ও বরেন্দ্র এলাকায় এই কর্দমকে যথাক্রমে মধুপুর ও বরেন্দ্র স্তরসমষ্টি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। স্তরতাত্ত্বিকভাবে, মধুপুর কর্দমকে তিনটি উপবিভাগে বিভক্ত করা হয়েছে: নবীনতর স্তরকে ঢাকা কর্দম গ্রুপ বলা হয় যাতে রয়েছে লৌহময় গুটি, নল তুল্য ও ম্যাংগানিজের ক্ষুদ্র দাগ সম্বলিত অতি বিচূর্ণীভবনের শিকার গভীর কর্দম পদার্থ; মধ্যবর্তী স্তর মিরপুর পলিময় কর্দম গ্রুপ নামে অভিহিত; এবং ভালুকা বালি গ্রুপ নামে অভিহিত প্রবীণতর স্তর যাতে হলদে বাদামি অতিমাত্রায় অভ্রসমৃদ্ধ বালি রয়েছে। প্রত্ন-চুম্বকীয় সমীক্ষায় এই স্তরসমষ্টি স্বাভাবিক মেরু প্রবণতা প্রদর্শন করে। এই কর্দমের বয়সকাল প্রায় ০.৯৭ থেকে ০.৯০ মিলিয়ন বছরের মধ্যে বলে ভূতত্ত্ববিদদের ধারণা। মধুপুর কর্দমের সঞ্চয়নজাত পরিবেশ নদীজ (fluvial)।  [মোঃ হোসেন মনসুর]