মধুদায়ী উদ্ভিদ


মধুদায়ী উদ্ভিদ  মধু উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় মিষ্টি নির্যাস প্রদায়ী গাছপালা। মৌমাছি নিজের খাদ্য হিসেবে নির্যাস ও পরাগ সংগ্রহ করে, আর সেজন্যই তারা মৌচাকের আশেপাশের গাছপালায় যায়। কিছু গাছকে কেবল পরাগের জন্যই ওরা বাছাই করে, যেগুলিতে নির্যাস নাও থাকতে পারে। কতকগুলি গাছ নির্যাস ও পরাগ দুটির জন্য, কিংবা শুধুই নির্যাসের জন্য বাছাই করা হয়। ফুলের নির্যাসগ্রন্থিগুলি পুষ্পাক্ষে, গর্ভাশয়ের আগা বা গোড়ায়, পরাগকেশরের নিচে ও পাপড়ির উপরে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে এ গ্রন্থি ফুলের বাইরে, দেহজ প্রত্যঙ্গে, পাতার নিচে, মধ্যশিরার উপরেও থাকে। কোন কোন মধুদায়ী উদ্ভিদের পুষ্পমধ্য ও পুষ্পবহিস্থ মধুগ্রন্থি আছে।

অনেকগুলি প্রধান কৃষিফসল মধুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান যোগানদার। বাংলাদেশে এ জাতীয় ফসলের মধ্যে কুমড়া, শিম, ঢেঁড়স, মুলা, ধনে, পিঁয়াজ, সরিষা, তিল ও তুলা গোত্রীয় গাছগাছালি উল্লেখযোগ্য। এগুলির অধিকাংশেই ফুল ফোটে ডিসেম্বর-মার্চ মাসে। এসব ফুলের নির্যাসে চিনির পরিমাণ ৪৫-৭০%। মধুদায়ী ফলগাছের মধ্যে রয়েছে লিচু, কালোজাম, নারিকেল, আম, লেবু ও পেয়ারা। এসব গাছে ফুল ফোটে মার্চ-মে মাসে, যোগায় বসন্তকালীন মধুসম্ভার। বাহারি ফুলগাছও উত্তম মধুদায়ী, তবে এগুলিতে মধুর পরিমাণ কম। এছাড়া এগুলির সংখ্যাও অল্প এবং বিক্ষিপ্ত বিধায় নির্যাসের প্রধান উৎস হতে পারে না, তবে সারা বছরই মধু যোগায়। এগুলির মধ্যে আছে Ageratum, Caesalpinea, Salvia এবং Compositae গোত্রের প্রজাতি তুলসী, জবা, কৃষ্ণচূড়া ইত্যাদি। মধুদায়ী বুনো গাছগাছালিও আছে এবং সেগুলি যথেষ্ট মধু যোগায়। বুনো গাছপালা বুনো ও পরিযায়ী মৌমাছির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দ্রোণ, শিশু, কুল, পলাশ, রাবার গাছ, অর্জুন, মহুয়া, বাবলা, শাল, সজিনা, কড়ই ইত্যাদি এ ধরনের গাছ-গাছালি।

মধুদায়ী উদ্ভিদে শুধু মৌমাছিই নয় বিভিন্ন জাতের মাছি, মথ, বিটল, বোলতা, ভিমরুল এবং পাখিও আসে। বেশি পরিমাণ মিষ্টি নির্যাস আছে এমন ফুলেই বোলতা ও ভিমরুল দেখা যায়।  [মোস্তফা কামাল পাশা]

আরও দেখুন মৌমাছি; মধু