মদন উপজেলা


মদন উপজেলা (নেত্রকোনা জেলা)  আয়তন: ২২৫.৮৫ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২৪°৩৬´ থেকে ২৪°৪৫´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৫১´ থেকে ৯১°০৪´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে আটপাড়া উপজেলা ও মোহনগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে ইটনা ও তাড়াইল উপজেলা, পূর্বে খালিয়াজুরী উপজেলা, পশ্চিমে কেন্দুয়া উপজেলা।

জনসংখ্যা ১৪২০৭২; পুরুষ ৭২৮৫০, মহিলা ৬৯২২২। মুসলিম ১৩১৭৪১, হিন্দু ১০১৭৫, বৌদ্ধ ১২ এবং অন্যান্য ১৪৪।

জলাশয় প্রধান নদী: বলী, সাইদুলী, ধলাই, ছেলা, বারুনী, চিনাই, ধনু, সোমেশ্বরী।

প্রশাসন মদন থানা গঠিত হয় ১৯১৭ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে।

উপজেলা
পৌরসভা ইউনিয়ন মৌজা গ্রাম জনসংখ্যা ঘনত্ব(প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
শহর গ্রাম শহর গ্রাম
- ৯৫ ১২২ ১৫৮৭০ ১২৬২০২ ৬৩০ ৪৩.৩ ২৫.০
উপজেলা শহর
আয়তন (বর্গ কিমি) মৌজা লোকসংখ্যা ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
১৫.৬১ ১৫৮৭০ ১০১৭ ৪৩.৩
ইউনিয়ন
ইউনিয়নের নাম ও জিও কোড আয়তন (একর) লোকসংখ্যা শিক্ষার হার (%)
পুরুষ মহিলা
কাইটাল ৪২ ৮৯৫৮ ৯৯৯২ ৯৬৩৯ ২৬.৯৩
গোবিন্দশ্রী ২১ ৬৭৯৩ ৮৯৪৯ ৮৬৭৮ ২৮.১৩
চাঁদগাঁও ৩১ ৪৩৬১ ৯৭২৫ ৮৬৬৯ ৩৫.৭২
তিয়শ্রী ৮৪ ৫৫৯৭ ৮৬৬৯ ৮৪২৮ ২৫.৫৯
নায়েকপুর ৭৩ ৬৩৮২ ৯৮২৯ ৯৭৭৬ ২৬.৮৬
ফতেপুর ১০ ৮৮৫৯ ৮৯৫২ ৮২০৯ ২২.০৬
মদন ৫২ ৬৭৫৪ ১০০৮৭ ৯৫৫৯ ২৭.৫৮
মাঘান ৬৩ ৮১১৭ ৬৬৪৭ ৬২৬৪ ২৩.৪০

সূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

MadanUpazila.jpg

প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ মুগল আমলে নির্মিত মসজিদ (চাঁদগাঁও ইউনিয়ন), বুড়া পীরের মাযার।

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি ১৯৭১ সালের ১ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত মদন উপজেলায় পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের একাধিক লড়াই সংঘটিত হয়। ৭ নভেম্বর সংঘটিত লড়াইয়ে বেশসংখ্যক পাকসেনা নিহত হয়। ৮ নভেম্বর বাঙ্কারে আটকা পড়া পাকসেনাদের উদ্ধারের সময় মদন থানায় পাকবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ হলে ৫৪ জন পাকসেনা নিহত হয়।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান  মসজিদ ৮৮, মন্দির ১১, মাযার ১।

শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ২৭.১%; পুরুষ ৩০.৭%, মহিলা ২৩.৪%। কলেজ ৩, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৩, প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭৫, স্যাটেলাইট স্কুল ১০, মাদ্রাসা ৫। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: মদন ডিগ্রি কলেজ (১৯৮৬), জোবায়দা রহমান মহিলা কলেজ (২০০২), জাহাঙ্গীরপুর তহুরা আমিন উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪৬), বালালী বাঘমারা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৪), খাগড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৫), ফতেপুর এসওসি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৮), মদন শহীদ স্মরণিকা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৭৩), আলহাজ্ব মোজাফফর আলীম মাদ্রাসা (১৯৮০)।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান লাইব্রেরি ৩, ক্লাব ২৫, মহিলা সংগঠন ১, খেলার মাঠ ৭।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৭৮.৮৩%, অকৃষি শ্রমিক ২.৬৩%, শিল্প ০.১৮%, ব্যবসা ৮.০৮%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ০.৯৭%, চাকরি ৩.৩২%, নির্মাণ ০.৭%, ধর্মীয় সেবা ০.২৯%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.১% এবং অন্যান্য ৪.৯%।

কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৫৮.১২%, ভূমিহীন ৪১.৮৮%। শহরে ৪৮.৩৪% এবং গ্রামে ৫৯.৩৭% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে।

প্রধান কৃষি ফসল ধান, পাট, সরিষা, ভুট্টা, তুলা।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি তিল, তিসি।

প্রধান ফল-ফলাদি আম, কাঁঠাল।

মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার এ উপজেলায় মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার রয়েছে।

যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ৬৫ কিমি, আধা-পাকারাস্তা ৬ কিমি, কাঁচারাস্তা ২২৫ কিমি; নৌপথ ১০ নটিক্যাল মাইল।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন পাল্কি, গরু ও মহিষের গাড়ি।

শিল্প ও কলকারখানা ফ্লাওয়ার মিল, স’মিল, রাইস মিল, ওয়েল্ডিং কারখানা।

কুটিরশিল্প স্বর্ণশিল্প, লৌহশিল্প, দারুশিল্প, সেলাই কাজ, বাঁশের কাজ।

হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ১৭, মেলা ৩। দেওয়ান হাট, আরশিরা হাট, গোবিন্দশ্রী হাট, জয়বাংলা হাট, কাইটাল হাট, তিয়শ্রী হাট এবং চৈত্র সংক্রান্তির কাটিহালি মেলা, বাড়রি মেলা ও মদন সদরের মেলা উল্লেখযোগ্য।

প্রধান রপ্তানিদ্রব্য ধান।

বিদ্যুৎ ব্যবহার এ উপজেলার সবক’টি ইউনিয়ন পল্লিবিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। তবে ২১.৯৭% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৯৫.৪৭%, ট্যাপ ০.৩৩%, পুকুর ১.৪% এবং অন্যান্য ২.৮%। এ উপজেলার অগভীর নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে।

স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ উপজেলার ১৫.৫২% (গ্রামে ১১.৭৪% ও শহরে ৪৫.১৫%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৭১.৮৫% (গ্রামে ৭৫.১৪% ও শহরে ৪৬.০৭%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ১২.৬৩% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ৮।

এনজিও ব্র্যাক, কারিতাস, প্রশিকা, আশা। [সৈয়দ মারুফুজ্জামান]

তথ্যসূত্র  আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো; মদন উপজেলা সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭।