ভূমি রেকর্ড


ভূমি রেকর্ড  সরেজমিনে জরিপ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ভূমি রেকর্ড তৈরির প্রস্ত্ততি আরম্ভ হয়। খসড়া গ্রাম (মৌজা) মানচিত্রই হলো ভূমি রেকর্ডের ভিত্তি। এই মৌজা ম্যাপ বা মানচিত্র প্রণয়নকে কিশ্তওয়ার বলা হয়। এই মানচিত্র সাধারণত ১৬ ইঞ্চি = ১ মাইল স্কেলে প্রণয়ন করা হয়। প্রথমে রেকর্ড তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় প্রকৃত অবস্থা দেখিয়ে প্লটের পর প্লট ভিত্তিতে। একে খানাপুরি বলা হয়। এতে জমির মালিকানা, আয়তন, জমির শ্রেণী, মালিকানায় অংশীদারির বিবরণ ও অবস্থা লিপিবদ্ধ থাকে। আর এগুলি খসড়া নামে একটি তালিকায় দেখানো হয়।

কিশ্তওয়ার ও খানাপুরির গোটা কার্যক্রম ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের (১৮৮৫ সালের আইন নং ৮) বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই আইনের অধ্যায় ১০-এ খতিয়ান (records of rights) তৈরির বিষয় সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। তবে প্রকৃতপক্ষে সরেজমিনে যে জরিপের ভিত্তিতে মৌজা ম্যাপ প্রণীত হয়ে থাকে সে জরিপ পরিচালনা করা হয় ১৮৭৫ সালের ৫ নং জরিপ আইনে। এই আইনটি আজও এক্ষেত্রে নির্দেশক আইন। খতিয়ান তৈরির ক্ষেত্রে এখন ১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গীয় জমিদারি তালুক অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন-এর সাম্প্রতিক বিধানগুলি বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের বিধানসমূহের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক, দেশব্যাপী কিশ্তওয়ার জরিপের কাজের আগে সর্বদাই আড়ি (traverse) জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ পরিদপ্তরের আড়ি পার্টি এই জরিপ কাজ পরিচালনা করে। আড়ি জরিপ চলাকালে আড়িকর্মী (traverser) তার মাঠবহি প্রস্ত্তত করে। এই বহিতে থাকে তার নেওয়া সকল কৌণিক ও রৈখিক পরিমাপসমূহ। মাঠবহিটি গণনামূলক হিসাবনিকাশ ও প্লটশিট বা কাঠামো ম্যাপের (skeleton map) সরবরাহ পাওয়ার জন্য সদর দপ্তরে পাঠানো হয়। এরপর সরেজমিনে কাজ নির্ভুল দেখা গেলে চৌকা কাগজের ওপর আড়িবিন্দুগুলি ছকা হয়। এই কাগজটিকে পি-৭০ নামে অভিহিত করা হয়। এভাবে ছকা কাগজ বা শিট মাঠ কর্মকর্তাদের কাছে ফেরত পাঠানো হয়। এর পরবর্তী পর্যায়ের কাজ হলো, বিস্তারিত আকারে ১৬ ইঞ্চি = ১ মাইল স্কেলে মৌজা ম্যাপ বা নকশা তৈরি। এটিই আধুনিক কিশত্ওয়ার জরিপের সূচনা পর্যায়। এই কিশ্তওয়ারি কাজ করেন জরিপকারীরা অথবা কানুনগোর তত্ত্বাবধানে আমিনগণ। কানুনগোরা সহকারী ভূবাসন বা বন্দোবস্ত কর্মকর্তা ও ভূবাসন কর্মকর্তাদের (settlement officer) প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কাজ করেন। সিনিয়র এএসও-দেরকে চার্জ অফিসার বলা হয়। এরা সবাই ১৮৭৫ সালের জরিপ আইনবলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত।

জরিপের পরবর্তী পর্যায়ের নাম খানাপুরি। এর আক্ষরিক অর্থ খতিয়ান (ROR) ফরমের বিভিন্ন স্তম্ভ পূরণ। বাস্তবিকপক্ষে এ হলো খসড়া খতিয়ান তৈরির প্রস্ত্ততির প্রথম স্তর। এই পর্যায়ে, প্রতিটি প্রজাস্বত্বের সাথে বন্দোবস্তধারী প্রতিটি মালিকের জন্য একটি করে পৃথক খতিয়ান খোলা হয়। খতিয়ানে মালিকানার অধিকার বা স্বার্থধারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের নাম, তাদের অংশের পরিমাণ, মর্যাদাগত অবস্থান বা বিশেষ কোন ঘটনা প্রজাস্বত্বের সাথে সম্পর্কিত থাকলে তা লিপিবদ্ধ থাকে। সম্পর্কিত খাজনা স্তম্ভে প্রজা তার ঊর্ধ্বতন মালিকানা স্বার্থধারী ও সেইসাথে তার অধস্তন প্রজা বা স্বার্থধারীকে কত খাজনা দেয় তার পরিমাণ লিপিবদ্ধ থাকে। খানাপুরির সাথে সাথে প্রতিটি জোতের বা খতিয়ানের নানা উপাত্ত খসড়ায় যেভাবে থাকে সেগুলি এবং একই উদ্দেশ্যে তৈরি জন-পথাধিকার (right of public easement) নকশা দেওয়া থাকে। গোটা মৌজা বা গ্রামের খানাপুরির কাজ শেষ হলে, কিশ্তওয়ার ম্যাপ বা নকশা সদর দপ্তরে (ভূবাসন দপ্তরের অধিশাখায়) পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এখানে প্রতিটি প্লট বা ভূমিখন্ড এলাকার উদ্ধৃতির কাজ করা হয়।

খানাপুরি কাজের পর্যায়ে তৈরি খতিয়ানগুলির সহকারী ভূবাসন (বন্দোবস্ত) কর্মকর্তার কিশ্তওয়ার জরিপ বা ক্যাডাস্ট্রাল সার্কেল অফিসে নকলের কাজ সম্পাদন করা হয়। এই নকলকৃত খতিয়ানগুলি পরচা নামে অভিহিত। এগুলি জমির প্রজা-ঊর্ধ্বতন খাজনা আদায় স্বার্থধারীদের মধ্যে বিলি করা হয়। ইতোমধ্যে খসড়া মৌজা ম্যাপ তৈরি করা হয় এবং কোবাল্ট কালিতে পাকা করে তৈরি করে তা সংশ্লিষ্ট এলাকার ভূবাসন (বন্দোবস্ত) কানুনগোর কাছে ফেরত পাঠানো হয়। পরবর্তী পর্যায়ের কাজকে বলা হয় বুইহারাত বা বুঝারত। বুইহারাত কথাটি একটি ফারসি শব্দ যার অর্থ ব্যাখ্যা বা বোঝানো। এর অন্তর্নিহিত ধারণা হলো, সংশ্লিষ্ট প্রতিটি প্লট (ভূমিখন্ড) ও খতিয়ানের সরেজমিনে রেকর্ডকৃত বিস্তারিত বিবরণ সংশ্লিষ্ট প্রজা বা ঊর্ধ্বতন স্বার্থধারীদের কাছে ব্যাখ্যা করা ও তাদেরকে ধারণা দেওয়া। কানুনগো বা সর্দার আমিনগণ (ঊর্ধ্বতন জরিপকারী) বুইহারাত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তারা প্রতিটি জমিতে সরেজমিনে যান এবং ম্যাপ ও রেকর্ড পরীক্ষা-যাচাই করে ভুল-ক্রটি থাকলে, প্রয়োজনে প্রজা ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন খাজনা স্বার্থধারীদের উপস্থিতিতে তা সংশোধন করেন। এই পর্যায়ে তিনি প্রতিটি খতিয়ানের জন্য প্রদেয় খাজনার অঙ্কটি প্রাথমিকভাবে রেকর্ডভুক্ত বা লিপিবদ্ধ করেন, তবে তিনি প্রজাস্বত্বের মর্যাদা বা এর সাথে সম্পর্কিত বিশেষ ঘটনাবলির কোন বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন না। খানাপুরি কিংবা বুইহারাত চলাকালে কোন বিরোধ দেখা দিলে এই পর্যায়ে সেসবের নিষ্পত্তি করা হয়।

এর পরের পর্যায়টি হলো খসড়া রেকর্ডের তসদিক। কাজটি করেন যথাক্ষমতাপ্রাপ্ত রাজস্ব কর্মকর্তা যার পদবি তসদিক কর্মকর্তা (attestation officer)। তসদিকের কাজ হয় মৌজাভিত্তিতে, বিজ্ঞপ্তিতে প্রদত্ত তারিখ অনুযায়ী। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সম্মুখে খসড়া খতিয়ানের লিপিবদ্ধ তথ্যগুলি পড়ে শোনানো হয়। আবশ্যক হলে, তসদিক কর্মকর্তার সীলমোহরযুক্ত অনুস্বাক্ষরে, প্রকৃত সংশোধনী করা হয়। তসদিক কালের এর আগে সাধারণত বিরোধ সম্পর্কিত ও অন্যান্য আবেদন আসে প্লট বা সংশ্লিষ্ট ভূমিখন্ডের পুনঃপরিমাপ গ্রহণের বা ফদর-এর জন্য, এই তসদিক পর্যায়ে সেগুলির ওপর শুনানি গ্রহণ করার পর তদন্তক্রমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সেগুলির নিষ্পত্তি করা হয়। এ পর্যায়ে খতিয়ান তথা প্লট বা ভূমিখন্ডের একীভূতকরণ বা বিভাজনের আবেদনও বিবেচনা করা হয় এবং প্রতিটি আবেদনের গুরুত্ব সেভাবেই নিষ্পত্তি করা হয়। প্রতিটি মৌজার খসড়া রেকর্ড তসদিক সমাপ্ত হওয়ার পর কেরানির ভুল কিংবা প্রকৃত ভুল সংশোধনের জন্য একটি সাধারণ যাচাই-পরীক্ষা করা হয় এবং এরপর উক্ত মৌজা রেকর্ড অন্যূন ৩০ দিনের জন্য খসড়া প্রকাশনা হিসেবে প্রকাশ করা হয়। এই সময়ের মেয়াদে খসড়া রেকর্ডে কোন লিপিবদ্ধ তথ্যের বিষয়ে সন্তুষ্ট না হলে কিংবা ঐ রেকর্ডে অনবধানতাবশত কোন ভুল ঘটে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্ধারিত ফরমে তার আপত্তি দাখিল করতে পারবেন। এ বিষয়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সহকারী ভূবাসন (বন্দোবস্ত) কর্মকর্তা এসব আপত্তির নিষ্পত্তি করেন। খসড়া রেকর্ডে কোন সংশোধন বা রদবদল সহকারী ভূবাসন (বন্দোবস্ত) কর্মকর্তার সিদ্ধান্তক্রমে হয়ে থাকলে সেগুলিও ঐ রেকর্ডভুক্ত করা হয়। ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের আওতায় আপত্তির মামলায় সহকারী ভূবাসন কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোন আপিল করার সুযোগের বিধান ছিল না। পরে অবশ্য ১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গীয় জমিদারি তালুক অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনে এ ধরনের আপিল আবেদন দায়ের করার বিধান সংযোজন করা হয়। এই আপিল আবেদন মামলাগুলির শুনানি গ্রহণ করেন ভূবাসন (বন্দোবস্ত) কর্মকর্তা নিজে কিংবা তার ঊর্ধ্বতন চার্জ অফিসারগণ। তাদেরকে এ বিষয়ে ক্ষমতা প্রদান করা হয়।

রেকর্ড তৈরি কার্যকলাপের যে বিবরণ দেওয়া হলো তার সাথে, সরকার যদি সেমতে বিজ্ঞপ্তি দেন, জমির খাজনা যুক্তিসিদ্ধকরণের প্রক্রিয়াটিও ১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গীয় জমিদারি তালুক অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের আওতায় যুক্তভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে। এভাবে যখন খাজনা যুক্তিসিদ্ধকরণের কাজটি সম্পন্ন হয় তখন নতুন করে যুক্তিসিদ্ধকৃত বিষয়গুলি জমির বর্তমান খাজনার পরিবর্তে রেকর্ডভুক্ত করা হয়।

উল্লিখিত প্রক্রিয়াগুলি সম্পন্ন হলে, রেকর্ডের চূড়ান্ত পরীক্ষার কাজ হাতে নেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়া সাধারণত চূড়ান্ত যাচ (যাচাই) হিসেবে পরিচিত। এভাবে যে খতিয়ান পাওয়া যায় তা সাধারণের দেখার জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রকাশ করা হয়। এই রেকর্ডে ধারাবাহিক কতগুলি নম্বর দেওয়া খতিয়ান (নির্দিষ্ট ফরমে এগুলি প্রণীত হয়) সন্নিবেশিত থাকে আর এই নম্বরগুলি নেওয়া হয় খানাপুরি কাজ থেকে। এভাবে ধারাবাহিক যে খতিয়ানগুলি তৈরি করা হয় ও চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয় তারই নাম খতিয়ান (ROR)। এই খতিয়ান পরে সাধারণত বিভিন্ন বালাম বইয়ের আকারে ছাপিয়ে তা সংরক্ষণের জন্য কালেক্টরেটের রেকর্ডরুমে পাঠানো হয়। এই ছাপানো রেকর্ডের খোলা অনুলিপি প্রজা ও জমিদারদের (ঊর্ধ্বতন খাজনা স্বার্থধারীর) মধ্যে বিলি করা হয়।

১৬ ইঞ্চি = ১ মাইল স্কেলে তৈরি মৌজা ম্যাপগুলি খতিয়ানের অংশবিশেষ। এগুলিও মুদ্রিত করা হয় ও বিলি করার জন্য সেসব কালেক্টরেটে পাঠানো হয়ে থাকে। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ পরিদপ্তরে ফটোগ্রাফিক যন্ত্রের সাহায্যে গ্রাম বা মৌজা ম্যাপগুলিকে ৪ ইঞ্চি = ১ মাইল ও ২ ইঞ্চি = ১ মাইল স্কেলে ছোট করে ফেলা হয় ও পরে এই দুই আনুপাতিক আকারের ম্যাপকে মিলিয়ে ১ ইঞ্চি = ১ মাইল থানা এখতিয়ার এলাকার ম্যাপ তৈরি করা হয়। ১ ইঞ্চি = ৪ মাইল স্কেলের জেলা ম্যাপ ও উল্লিখিত তিন সেট ম্যাপ সাধারণত প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে ব্যবহূত হয়ে থাকে।

ভূবাসন (বন্দোবস্ত) দপ্তরের ছাপাখানায় খতিয়ান মুদ্রণের বিষয়টি অত্যন্ত দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ বিষয় ছিল। এতে বিপুল কাজ জমে উঠত ও তাতে গুরুতর সমস্যারও সৃষ্টি হতো। এ সমস্যা মোকাবেলার জন্য ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকার একটি সমীক্ষা শুরু করান। এ সমীক্ষার কাজ ছিল কম্পিউটার প্রযুক্তির সাহায্যে মুদ্রণ পদ্ধতি সমস্যার কোন সমাধান দিতে পারে কি-না তা খতিয়ে দেখা। ফাও/ ইউএনডিপি সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পের আওতায় এ সমীক্ষা কাজ শুরু হয়। বর্তমানে এ বিষয়ে একটি সঠিক সমাধান পাওয়ার জন্য কয়েকটি পাইলট প্রকল্পের কাজ চলছে।

বিস্তারিতভাবে খতিয়ান রেকর্ড তৈরির পরেও বর্তমান আইনের দৃষ্টিতে তার কেবল অনুমান মূল্যই (presumptive value) আছে। দেওয়ানি আদালতে কোন মামলায় এ রেকর্ড অস্বীকার না করা হলেই শুধু রেকর্ড সঠিক বলে ধরে নেওয়া হয়।

ভূমি জরিপ ও ভূমি রেকর্ড তৈরির কাজ জেলাওয়ারি ভিত্তিতে বিশ শতকের প্রথম দিকে হাতে নেওয়া হয়। প্রধানত রাজস্ব প্রশাসনের জন্য জরিপ ও ভূমি বন্দোবস্ত কার্যক্রম নামে পরিচিত জেলাভিত্তিক এই কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। তৎকালীন বাংলার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়া গোটা অবিভক্ত বাংলার এই জরিপ ও ভূমি বন্দোবস্ত কার্যক্রম এখন সম্পূর্ণ হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকার অধিবাসীর প্রায় সকলেই বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোক। জমিতে তাদের অধিকার ও দায়দায়িত্ব ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রবিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের আওতায় প্রথম জরিপ ও ভূমি বন্দোবস্ত কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয় চট্টগ্রাম জেলায়। ১৮৮৫-৯৮ মেয়াদে এ কাজ সম্পূর্ণ করেন তৎকালীন ভূবাসন (বন্দোবস্ত) কর্মকর্তা সি.জি. এইচ অ্যালেন। প্রায় একই সময়ে আরেকটি এ ধরনের ছোট কার্যক্রম সম্পন্ন হয় ত্রিপুরার মহারাজাদের চাকলা রওশনাবাদ তালুকে। এই চাকলা রওশনাবাদ ছিল ব্রিটিশ ত্রিপুরা ও নোয়াখালী জেলায় এক আধা-স্বাধীন তালুক। মহারাজাদের প্রশাসনিক সদর দপ্তর ছিল আগরতলায়, আর ব্রিটিশ ত্রিপুরার প্রশাসনিক সদর দপ্তর ছিল কুমিল্লায়। ভূবাসন (বন্দোবস্ত) কর্মকর্তা জেজি কুমিং-এর অধীনে চাকলা-রওশনাবাদ তালুকের জরিপ ও ভূবাসন কার্যক্রম ১৮৯২-৯৯ মেয়াদে সম্পূর্ণ হয়। এরপরে যে জেলায় কার্যক্রমটি গ্রহণ করা হয় সেটি ছিল দক্ষিণাঞ্চলীয় বাকেরগঞ্জ। গোটা জেলায় উক্ত কার্যক্রম ১৯০১ সালে গ্রহণ করা হয়। ভূবাসন কর্মকর্তা এমডি বিটসন বেল কার্যক্রমটি পরিচালনা করেন। এভাবে তৎকালীন গোটা বাংলা প্রদেশে ভূমি বন্দোবস্ত কার্যক্রমের প্রথম চক্রের কাজ সমাপ্ত হয় ১৯৩৪-৪০ মেয়াদে।  [তফাজ্জল হুসেন]