ভূমি ব্যবস্থাপনা


ভূমি ব্যবস্থাপনা  ১৯৫২-৫৬ সালে বাংলাদেশে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের আগে পূর্ব পাকিস্তানে ভূমি ব্যবস্থাপনার কাজ বর্তমানের তুলনায় ছিল সীমিত। তখন এই খাতে সরকারের কাজ ছিল জমিদারের নিকট থেকে রাজস্ব আদায় করা। এই রাজস্বের পরিমাণ প্রত্যেক জমিদারের জন্য স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট করা ছিল। যে সমস্ত এলাকা চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আওতায় ছিল না, সেখানেও পর্যায়ক্রমে রাজস্ব স্থির করে দেওয়া হতো। এছাড়া, সরকারের অধীনে প্রচুর খাসজমি ছিল, যার কিছু অংশ আসত সমুদ্র বা বড় বড় নদীর তলদেশ থেকে পয়স্তি হয়ে নতুন জেগে ওঠা চরভূমি আকারে এবং অপর কিছু অংশ ছিল কোর্ট অব ওয়ার্ডস-এর অন্তর্গত জমিদারিগুলির নিজস্ব খাসজমি। এইসব খাসজমি কোর্ট অব ওয়ার্ডস আইনের আওতায় সরকার কর্তৃক নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রিত ম্যানেজার বা এজেন্ট দ্বারা পরিচালিত হতো। এর উপরে আরও বেশকিছু ভূমিভিত্তিক প্রকল্প ও রেলওয়ের জন্য অধিগ্রহণ করা দেশের সর্বত্র বিস্তারিত বিরাট ভূমি এলাকা সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। স্টেট অ্যাকুইজেশন আইনে যে সমস্ত জমিদার, জোতদার বা ভূমি মালিকদের পরিবারপ্রতি ১০০ বিঘার বেশি অরক্ষণীয় খাসজমি ছিল সেসব জমি সরকারের খাস খতিয়ানে চলে আসে। এতদ্ব্যতীত ট্রাস্ট, দেবোত্তর ও ওয়াক্ফ সম্পত্তির খাস জমিসমূহ সরকার নিয়ন্ত্রিত ট্রাস্টি বা ম্যানেজার, সেবাইত ও মুতাওয়াল্লিদের দ্বারা পরিচালিত হতো। সর্বোপরি ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের ফলে পূর্বের মালিক কর্তৃক পরিত্যক্ত ভূসম্পত্তি ও দালানকোঠা সরকারের ব্যবস্থাপনার আওতায় চলে আসে। প্রথমে এগুলির নাম দেওয়া হয়েছিল পরিত্যক্ত বা ইভাকুয়ি সম্পত্তি, ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময়ে এই সম্পত্তি পরিণত হয় শক্র সম্পত্তিতে এবং সর্বশেষে মুক্তিযুদ্ধের পরে বাংলাদেশে এগুলির নাম হয় ভেস্টেড (অর্পিত) সম্পত্তি। স্টেট অ্যাকুইজেশন আইন দ্বারা সমগ্র দেশে জমিদারি উচ্ছেদের পূর্বপর্যন্ত সরকারের খাসমহল ডিপার্টমেন্ট শুধু ভূমিরাজস্ব আদায় এবং কালেক্টরের খাস খতিয়ানের এখতিয়ারভুক্ত সমস্ত খাসজমি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। বলা যেতে পারে, সরকারের ভূমি ব্যবস্থাপনার কাজ এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

কিন্তু পরবর্তীকালে বিভিন্ন সুদূরপ্রসারী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, সরকারের ভূমি-সংক্রান্ত কাজ বিস্তৃতি লাভ করে। সারা প্রদেশব্যাপী জমিদারি, মধ্যস্বত্বাধিকার ও সর্বপ্রকার খাজনা-আদায়ি স্বত্ব বিলোপের ফলে রাজস্ব প্রদানকারী জমিদার ও খাজনা আদায়কারী বিভিন্ন মধ্যস্বত্বের মালিকগণের বদলে অসংখ্য ভূমিচাষকারী রায়ত-প্রজা প্রত্যক্ষভাবে সরকারের অধীনে চলে আসে। জমিদার, মধ্যস্বত্বাধিকারী ও বড় জোতদারদের নিজ দখলে অরক্ষণযোগ্য যেসব খাস জমি ছিল সেগুলিও সরকারে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। তাছাড়া সব হাটবাজার, বনভূমি, বাগান, অভ্যন্তরীণ জলমহাল, নদী পারাপারের ফেরি, চা বাগান, বড় বড় সমবায়ভিত্তিক খামার সরকারের কাছে অর্পিত হয় এবং এর সাথে সাথে এইসব সম্পত্তির যথাযোগ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও সরকারের ওপর বর্তায়।

পূর্ববর্তী সময়ে যে ভূমিব্যবস্থা ছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে জমিদারগণ এবং বড় বড় মধ্যস্বত্বাধিকারীরা সমাজের শীর্ষস্থানে অবস্থান করত, অথচ লাঙলের পিছনে থেকে যেসব মানুষ হাল চাষ করত এবং জনগণের জন্য খাদ্য উৎপাদন করত, তারা ছিল সমাজের সর্বনিম্ন সিঁড়িতে। এর ফলে, পল্লী অঞ্চলে এমন একটি ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল যাতে সর্বনিম্ন স্তরের লোকেরা নিজেদের ভাগ্যনিয়ন্ত্রণে তাদের জমিদার বা মধ্যস্বত্বাধিকারীদের কোন সহায়তা পেত না, যদিও এদেরই মানবিক দায়িত্ব ছিল প্রজাসাধারণের ভাগ্যগঠনে সহায়তাদান করা। মধ্যস্বত্বাধিকার ও ছোট ছোট খাজনা-আদায়ি স্বত্বের এরূপ বিস্তার ঘটেছিল মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ব্যাপক প্রসারের ফলে। এতে সমাজশীর্ষে অবস্থানকারী জমিদার এবং নিম্নধাপের প্রজাদের মধ্যে এক বিরাট ব্যবধানের সৃষ্টি হয় এবং এই দুই শ্রেণীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, যে ভূমিকর্ষণ দ্বারা সকলের খাদ্য উৎপাদন হয়, সেই ভূমিরই উন্নয়ন গৌণ হয়ে পড়ে এবং এই ব্যাপারে, না জমিদার না চাষি কারোরই দায়িত্ববোধ থাকে না। ফলে, ভূমিচাষের মাধ্যমে খাদ্য উন্নয়নের প্রয়োজনে যথাযথ পরিমাণ অর্থ ও উপকরণের অভাব দেখা দেয় এবং অনিবার্যভাবে চাষিরা গ্রাম্য লগ্নিকারীদের দয়ার পাত্র হয়ে পড়ে, যারা সুযোগ বুঝে অতি উচ্চহারে ঋণদান করা শুরু করে। আসলে, জমিদারি উচ্ছেদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, জমিদারি ও সমস্ত খাজনা-আদায়ি স্বত্বের বিলোপের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং চাষি, রায়তদের ও সরকারের মধ্যে একটি প্রত্যক্ষ সম্পর্কের সৃষ্টি করা। কিন্তু এই উদ্দেশ্য সফল হওয়ার পরিবর্তে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, তার ফলস্বরূপ ভূমি-আশ্রয়ী মধ্যবিত্ত সমাজ ক্ষয় পেতে থাকে এবং সেই জায়গায় সৃষ্টি হতে থাকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি আর বিরাট এক ভূমিহীন চাষিগোষ্ঠী ও বর্গচাষি শ্রেণি। ভূমিহীন বর্গাচাষি তাদেরই জমি চাষ করে, যারা নিজে চাষ করেন না বা অন্যত্র বসবাস করেন। বর্গাচাষিরা প্রায়শ ভূমির মালিক নন। পল্লী অঞ্চলের বৃহৎ ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর অংশ হিসেবে এই শ্রেণীর জন্যই একটি সুষ্ঠু ভূমি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন ছিল।

১৯৫১ সালের স্টেট অ্যাকুইজিশন আইনের বিধান অনুযায়ী কোন ব্যক্তি বা পরিবারের তার নিজ দখলে রাখা জমির সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল একশত বিঘা (১ বিঘা = ৩৩ শতাংশ)। পরবর্তীকালে ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের মার্শাল ল’ আমলে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ভূমিরাজস্ব কমিশনের সুপারিশ অনুসারে এই সীমা ৩৭৫ বিঘায় উন্নীত করা হয়। হয়তো, আইয়ুব প্রবর্তিত ‘তথাকথিত মৌলিক গণতন্ত্র’ ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি গ্রাম্য মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ভিত্তিকে দৃঢ়তর করার প্রয়োজনে এই ভূমিসিলিং বৃদ্ধি করা হয়। এই সীমা আবার ১৯৭১-পরবর্তীকালে ১০০ বিঘায় নামিয়ে আনা হয়। ১৯৮৪ সালের নব প্রবর্তিত রিফর্মস অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী যে কোন ব্যক্তি বা তার পরিবারের মালিকানায় ৬০ বিঘা পর্যন্ত জমি রেকর্ড করা থাকলে, তারা নতুন কোন ভূসম্পত্তি বাড়াতে পারবেন না, এমনকি, উত্তরাধিকারসূত্রে অর্জিত হলেও অতিরিক্ত পরিমাণ জমি ছেড়ে দিতে হবে এবং তার পরিবর্তে ক্ষতিপূরণ পাবেন। ১৯৮৪ সালে ভূমি প্রশাসনের উন্নতিকল্পে আরও দুটি আইন পাশ হয়। এগুলি হলো, ল্যান্ড রিফর্মস বোর্ড অ্যাক্ট ও ল্যান্ড আপিল বোর্ড অ্যাক্ট। এই দুটো আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ভূমি প্রশাসন ও ভূমি আপিল ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি হয়। একটির লক্ষ্য হচ্ছে ভূমি প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করা এবং অন্যটির কাজ হচ্ছে ভূমি আইন সম্পর্কিত আপিল ও পুনর্বিবেচনা বা সংশোধনী মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি সাধন। অধিকন্তু জেলা ও তফশিল পর্যায়ে সকল রাজস্ব কর্মচারীদেরকে উপর্যুক্ত দুটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের নিকট দায়বদ্ধ করার বিধান চালু করা হয়।

বর্তমানের ধারণা অনুযায়ী, ভূমি ব্যবস্থাপনার মূল কাজ শুধু খাজনা আদায়ে সীমাবদ্ধ নয়। খাজনাকে নতুন আইনের ভাষায় বলা হয় ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ট্যাক্স বা ভূমি উন্নয়ন কর। ভূমি ব্যবস্থাপনার আওতায় প্রকৃত কাজ হচ্ছে রায়ত প্রজাদের নামে রেকর্ডকৃত ভূমির যথারীতি হালনাগাদ করা, সরকারের নিজ মালিকানায় বিস্তৃত চরভূমিসহ সমস্ত খাস জমির সুষ্ঠু বন্দোবস্ত দেওয়া এবং প্রজাদের ভূমি শিকস্তির কারণে জমার কমবেশি পরিবর্তন সাধন করা, ভূমিহীন বা প্রান্তিক কৃষকদের চাষের উন্নয়ন প্রয়োজনে নানাবিধ উপকরণ, যথা সেচব্যবস্থা, উন্নত বীজ, সার বিতরণের সুব্যবস্থা এবং ব্যাংক থেকে আর্থিক সাহায্যের বা কৃষিঋণের ব্যবস্থা করা। এছাড়া, খাজনা বাকি পড়লে তা আশু আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া ভূমি ব্যবস্থাপনার একটি বিশেষ কর্তব্য।

সর্বপর্যায়ের রাজস্ব কর্মচারীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং এদের দৈনন্দিন কার্যকলাপের প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ  এই দুটি বিষয় নিশ্চিত করা অতি জরুরি। রাজস্ব অফিসে যে রেকর্ড, ম্যাপ বা খতিয়ান রাখা হয়, তার সার্বক্ষণিক সংশোধনের মাধ্যমে তাকে হালনাগাদ করে রাখা অপরিহার্য। কারণ জমির মালিকানা স্বত্বের নানা ধরনের পরিবর্তন অনবরত ঘটছে, জমির ক্রয়-বিক্রয় ব্যবস্থাপনাসূত্রে বা উত্তরাধিকারসূত্রে মালিকানা বদল, বন্ধক প্রদান বা মালিকদের নিজেদের মধ্যে বণ্টননামার মাধ্যমে মালিকানা স্বত্বের পরিবর্তন ইত্যাদি স্থানীয় রেজিস্ট্রারের দপ্তরে দলিল মারফৎ সম্পাদিত হয়ে থাকে। এসব দলিল সম্পাদনের সঙ্গে সঙ্গে তহসিল অফিসে প্রত্যেকটির জন্য একটি করে ফিরিস্তি আসে এবং তার ওপর ভিত্তি করে তহসিল অফিসের রেকর্ড সংশোধন করার আশু ব্যবস্থা থাকার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তহসিলের রেকর্ড ঠিকমত রাখতে হলে ভূমি জরিপ বিভাগের দায়িত্ব হবে সরেজমিনের অবস্থান মাফিক মাঝে মাঝে ভূমি রেকর্ড ও মাপকে নতুনভাবে নির্মাণ বা সংশোধন করা। বিশেষত, যেখানে বড় বড় নদীতীরের দিয়ারা এলাকায়, ম্যাপ ও রেকর্ড নতুনভাবেই নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দেয়। বর্তমানে আপত্তি ও আপিলের নিষ্পত্তির মাধ্যমে রেকর্ড সংশোধনের ব্যবস্থা থাকায় রেকর্ডের শুদ্ধতা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে আছে। অবশ্য, যেখানে বড় কৃষকের ভূমি বিভিন্ন গ্রামে বিস্তৃত থাকে, সেখানে প্রতিটি জমির রকম, এরিয়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদিসহ থানাভিত্তিক এই মালিকানা একত্রিত করার চেষ্টা করা হয়।

রাজস্ব অফিসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে যে দফতর আছে, তার নাম তহসিল অফিস। তহসিলদারদের দৈনন্দিন কার্যকলাপের তদারকি যিনি করেন তার নাম হচ্ছে সহকারী ভূমি কমিশনার। এখানে পাবলিক ডিম্যান্ড রিকভারি অ্যাক্টের বিধান অনুযায়ী বকেয়া খাজনা আদায়ের জন্য যেসব সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয় সেগুলির শুনানি দেন সহকারী কমিশনার। সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ক্রয়, বিক্রয়, বন্ধক ইত্যাদি বিষয়ে ভূমি-সংক্রান্ত যেসব দলিল সম্পাদন হয়, সেগুলির ভিত্তিতে তহসিল অফিসে মিউটেশন করা হয় এবং এগুলিরও শুনানি দেন সহকারী কমিশনার। মিউটেশন হওয়ার পর সেই ভিত্তিতে তহসিল রেকর্ড সংশোধন করতে হয়। তহসিল অফিসে সরকারি খাসজমির একটি পরিপূর্ণ ও নির্ভুল তালিকা থাকা প্রয়োজন। এই অফিসকেই নিশ্চিত করতে হবে ভূমির মালিকানার উচ্চ সীমার বাইরে কার মালিকানায় কত পরিমাণ অরক্ষণীয় খাসজমি আছে তার নথিবদ্ধকরণের দায়িত্ব। এছাড়াও বকেয়া খাজনার জন্য সময়মতো পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাক্ট-এর বিধান অনুযায়ী সার্টিফিকেট কেস রুজু করতে হবে, যাতে করে এই কেসগুলি উপযুক্ত সময়ের মধ্যে সহকারী ভূমি কমিশনার নিষ্পত্তি করতে পারেন। কিন্তু তহসিলদার এসব কাজের কেন্দ্রবিন্দু বিধায়, তাকে নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ের বিপরীতে যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণের প্রোগ্রামে আনতে হবে।

ভূমি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু সংস্কারমুখী পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে গত কয়েক বছরে সরকার কয়েকটি পাইলট প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো ভূমি রেকর্ড সংশোধন ও ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ সংক্রান্ত। তবে এর বেশির ভাগ কাজই এখনও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। ভূমি প্রশাসন এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে দুই-একটি সুপারিশ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রিফর্মস কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর একটি হলো ভূমিমালিকানা সার্টিফিকেট সম্বন্ধে। এটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, নিকট ভবিষ্যতে ভূমির মালিকানা নির্ধারিত হবে প্লট বা দাগ ভিত্তিতে এবং এই উদ্দেশ্যে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ বিভাগ সমগ্র দেশে দাগভিত্তিক রেকর্ড নির্মাণ বা সংশোধন করবে। একবার এটা হয়ে গেলে মালিকানার দৈনন্দিন পরিবর্তনসমূহ সহকারী ভূমি কমিশনার অফিসেই সম্পাদিত হবে। প্রারম্ভিকভাবে, সহকারী ভূমি কমিশনার প্রতিটি প্লটের মালিককে মালিকানা সার্টিফিকেট প্রদান করবেন এবং এর পরবর্তীকালে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিলের ভিত্তিতে উক্ত সার্টিফিকেট প্রয়োজনীয় সংশোধন অন্তর্ভুক্ত করে নিজ স্বাক্ষর দ্বারা প্রত্যয়িত করবেন। সুপারিশটি কার্যকর করতে বহু সময়ের প্রয়োজন। তাছাড়া দেশের ৬৮,০০০ গ্রামে সর্বত্র বিরাজিত অসংখ্য দাগের ভিতর এক-একটি দাগ এত ক্ষুদ্রাকারে খন্ডিত যে এ কাজটি আদৌ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কি-না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।  [তফাজ্জল হোসেন]