ভূমিধস


ভূমিধস (Landslide)  আভিকর্ষিক প্রভাবে অপেক্ষাকৃত শুকনা ভূখন্ড, শিলা বা উভয়ের প্রত্যক্ষভাবে নিম্নমুখী অবনমন বা পতন। প্রায়শই এর কারণ পানির প্রবেশ, যা স্ফীত কাদামাটিকে আরও তরল করে তোলে। ভূমিধস ভূমিক্ষয়ের একটা বড় কারণ এবং জানামতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবক্ষয়, যা প্রায়শ বছরে প্রতি বর্গ কিমি ১০০০ টন ছাড়িয়ে যায়। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ি এলাকায় এটা বহুল প্রচলিত। এই অঞ্চলের অনবস্থার (instability) দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ভূমিধস ঘটনার লিখিত নথিপত্র খুব কম হলেও এখানে বসবাসকারী লোকজনের এটা একটা স্থায়ী দুর্ভোগ। প্রকৃতপক্ষে প্রতি বছরই, বিশেষ করে বর্ষাকালে প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট উভয়বিধ ঢালে ভূমিধস সংঘটিত হয়। বাংলাদেশ ঘন বসতিপূর্ণ দেশ হলেও জনসংখ্যার বিন্যাসের দিক থেকে পাহাড়ি অঞ্চল একেবারে বিপরীত। আর এর পেছনেও বড় কারণ এই ভূমিধস ভীতি, যা সেখানে বসবাস করতে অথবা অবকাঠামো গড়ে তুলতে নিরুৎসাহিত করে, যদিও অসমতা, গভীর অরণ্য এবং বন্ধুর ভূ-প্রকৃতিও এর জন্য দায়ী। ভূমিধসের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সড়ক প্রতিবন্ধকতা। বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় এটা অহরহ ঘটছে। গোটা দেশের সঙ্গে বান্দরবান শহরকে যুক্তকারী প্রধান সড়কসমূহ প্রায় প্রতিবছর ভূমিধসের মুখোমুখী হচ্ছে, যা শহরটি ও সংলগ্ন অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। ভবনাদি ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কারণে সৃষ্ট ভূমিধস সাধারণত পার্বত্য জেলা শহরের শহর ও উপশহর কেন্দ্রে সীমিত। বহু ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো, বিশেষ করে খাড়া উঁচু ঢালের উপর যেগুলি বিদ্যমান সেগুলি, ভূমিধসের কারণে ধসে পড়ে জানমালের ক্ষতি সাধন করে। বিগত বছরগুলিতে খাড়া উঁচু ঢালে জুমচাষ এবং অন্যান্য চাষাবাদও ভূমিধস সংঘটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতসব সমস্যা সত্ত্বেও দেশের মোট প্রায় ১৮% অঞ্চলব্যাপী পার্বত্য অঞ্চল খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চল প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। সম্প্রতি বহু বিদেশি কোম্পানি এই অঞ্চলে তেল ও গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের জন্য উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রয়োজন। কিন্তু পাহাড়ি এলাকায় যখন রাস্তাঘাট নির্মাণ করা হয় তখন ভূমিধসপ্রবণ অঞ্চলগুলির কথা বিবেচনায় আনা হয় নি। এ কারণে প্রতিবছর এসব সড়কে ভূমিধস ঘটছে এবং যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে শুধু সড়কই নয়, জানমাল ও বিভিন্ন অবকাঠামোও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

ভূমিধস, পার্বত্য চট্টগ্রাম

মানব সমাজ ও অর্থনীতির ওপর ভূমিধসের সুনির্দিষ্ট বিরূপ প্রভাব সত্ত্বেও এ সম্পর্কে এদেশে গবেষণা শুরু হয়েছে অপেক্ষাকৃত দেরিতে। ১৯৫০ সালের শেষ দিকে চট্টগ্রাম জেলার মার্কেনটাইল মেরিন একাডেমীতে ঢাল-অনবস্থা ও নির্মাণ স্থাপনার ক্ষতির ওপর কয়েকজন কর্মী গবেষণা শুরু করেন। তারা মতামত ব্যক্ত করেন যে, ডুপিটিলা স্তরসমষ্টি দ্বারা গঠিত পাহাড়ে পার্শ্বিক বিস্তার (lateral spreading) ব্যর্থতাই মেরিন একাডেমীর ক্ষতির কারণ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক ঢালের নতিমাত্রা (১২০ বেশি) স্তরের প্রতিন্যাস (bedding altitude) শিলার লক্ষণ (rock lithology) ও তৃণহীন ঢালে বৃষ্টির পানির অনুপ্রবেশ ঐ অঞ্চলের ভূমিধসের জন্য দায়ী। চট্টগ্রাম নগরীর ভূমিক্ষয়ের জন্য তিন ধরনের ভূমিধস ও ঢাল বিচ্যুতি, যথা পার্শ্বিক প্রসারণ ব্যর্থতা, ডুপিটিলা স্তরসমষ্টি দ্বারা গঠিত পাহাড়ে ঘূর্ণন ও স্থানান্তরিক ব্যর্থতা (rotational and transitional failure) এবং বোকাবিল স্তরসমষ্টি দ্বারা গঠিত পাহাড়ে ত্রিমাত্রিক ব্যর্থতা (block failure) ও টিপাম স্তরসমষ্টি ঘূর্ণন, স্থানান্তরিক ও ত্রিমাত্রিক ব্যর্থতা দায়ী। রাঙ্গামাটি জেলার ঝাগর (Jhagar) বিল অঞ্চলে নরম নদীবাহিত অবক্ষেপের উপর ভর করে থাকা নদীর তীরের বিপুল বোঝা এবং উঁচু পার্শ্বঢাল (১:০.৭৫) ভূমিধসের প্রধান কারণ। ১৯৯৭ সালে জিআইএস (Geographical Information System) পদ্ধতি ব্যবহার করে খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলায় ১৬০টি ভূমিধসপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়। ১৯৯৮-২০০০ সালে বান্দারবান সদর উপজেলা ও রাঙ্গামাটি শহরে ভূমিধসের উপর বেশি কাজ হয়েছে।

ভূমিধসের কাললিপি

১৯৬৮ কাপ্তাই-চন্দ্রঘোনা সড়কে গাছপালা প্রতিনিয়ত কাটার ফলে সেখানকার মাটি বর্ষাকালে বৃষ্টির প্রত্যক্ষ প্রকোপে পড়ে দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এর ফলে ভূমিধস ঘটে এবং আলগা মাটি পানির তোড়ে ঢাল বেয়ে নিচে নেমে আসে, যা নদীবাহিত হয়ে কাপ্তাই লেকে প্রবেশ করে। এর ফলে এই লেক পলিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে। কর্তৃপক্ষীয় হিসাবে লেকটি সৃষ্টির পর গত ৩০ বছরে পলি জমে এর প্রায় ২৫% আয়তন হ্রাস পেয়েছে।
১৯৭০ রাউজান-ঘাগরা-রাঙ্গামাটি সড়ক বরাবরও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
১৯৯০ ভূমিধস সংঘটিত হয় ৩০ মে। ফলে রাঙ্গামাটি জেলার ঝাগরবিল অঞ্চলে সংযোগ সড়ক বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
১৯৯৭ জুলাই মাসে বান্দরবানের ছড়াইপাড়ায় বড় ভূমিধস সংঘটিত হয়, মোট ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা প্রায় ৯০,০০০ বর্গ মিটার। বান্দরবান শহর বা অন্য কোন জেলা শহরে এটা ঘটলে ধ্বংসের পরিমাণ আরো ভয়াবহ হতো।
১৯৯৯ ১১ ও ১৩ আগস্ট যথাক্রমে বান্দরবান পার্বত্য জেলা ও চট্টগ্রামে দুটি বড় ভূমিধসে ১৭ ব্যক্তি নিহত হয়। এর মধ্যে ১০ জন চট্টগ্রামে ও বাকিরা বান্দরবানে প্রাণ হারায়। সে সময়ের অবিরাম ভারি বর্ষণ এই বির্পযয়ের প্রধান কারণ ছিল। বান্দরবানের লামা ও আজিজনগর এই ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আজিজনগর প্রায় অগম্য, রুক্ষ পাহাড়ি অঞ্চল। ভূমিধসের ফলে চিত্তাপুট্টি, মোনারগিরি, মুন্ডা, মুসলিম পাড়া, সোনাইসারি, বাজাপাড়া, কালারগিরি, মাইশকাটা, অউঙ্গ্রাতলী, চিওনিপাড়া ও কারিউংপাড়া গ্রাম ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ১১ আগস্টের পর ১৩ আগস্ট দ্বিতীয় ভূমিধস চিত্তাপুট্টি এলাকায় আঘাত হানে। এতে অন্তত ৫০টি ঘর ভূগর্ভে সম্পূর্ণভাবে তলিয়ে যায় এবং ৩০০ ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ২৮৩.৫০ হেক্টর কৃষিজমি, ৮১০ হেক্টর বাগান এবং ৫০ কিমি কাঁচা রাস্তা বিধ্বস্ত হয়। বান্দরবান সদর ও দূরবর্তী থানাসমূহের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে পঁচিশটি স্থানে সড়কের ওপর বিপুল মাটি জমে যাওয়ায় আজিজনগর-বাজালিয়া সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। চট্টগ্রামে কোতোওয়ালী থানার গোপাইপুর অঞ্চলে ১৩ আগস্ট ভূমিধস সংঘটিত হয়। ধসের চাপে পাহাড়ের পাদদেশে দুটি পর্ণকুটির বিধ্বস্থ হলে সেখানে ঘুমন্ত লোকজন প্রাণ হারায়। ২৪ জুন শনিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ও চট্টগ্রাম শহরের অন্যান্য এলাকায় ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ১৩ ব্যক্তি নিহত ও ২০  জন আহত হয়। অবিরাম বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন অঞ্চল পানি ও কাদায় সয়লাব হয়ে গেলে এই দুর্যোগ সংঘটিত হয়। কয়েক লক্ষ টাকার সম্পত্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২০০৩ ২৭ জুলাই চট্টগ্রামে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে পাহাড় ধ্বসে কক্র্বাজারে ছয়জনের প্রাণহানি ঘটে।
২০০৭ ১১ জুন সোমবার চট্টগ্রামে বৃষ্টিজনিত ভূমিধ্বসে অন্তত ১২২ জনের প্রাণহানি ঘটে। প্রবল বর্ষনের ফলে পাহাড় থেকে মাটি ও কাদার ঢল পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বস্তি ও কাঁচা ঘরবাড়ি উপরে ধ্বসে পড়লে বহু মানুষ চাপা পড়ে যায় এবং অনেকে নিখোঁজ হয়। বেশ কিছুদিন ধরে চলা টানা বর্ষণ এই ঘটনার মূল কারণ। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা হচ্ছে হাটহাজারী যেখানে তিনটি পরিবার চার মিটার মাটির নিচে চাপা পড়ে। দোকানপাট, বিদ্যালয় এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বিশেষজ্ঞের মতে এটি চট্টগ্রামের ইতিহাসে ভয়াবহতম ভূমিধ্বস। চট্টগ্রাম শহরের প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মানুষ যা শহরের মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ, তিন থেকে চার ফুট পানিতে আটকা পড়েন। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের সকল ফ্লাইট বাতিল করা হয় এবং বাংলাদেশের আমদানী-রপ্তানীর ৯০ শতাংশ যে বন্দর থেকে আসে, সেই চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর বন্ধ হয়ে যায়। ১২ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৬৯৭ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
২০০৯ ১৮ মে সোমবার বৃষ্টিজনিত ভূমিধ্বসে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা মৌলভীবাজারে ছয়জনের প্রাণহানি ঘটে।
২০১০ ১৫ জুন মঙ্গলবার ভূমিধ্বস এবং বন্যায় বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কমপক্ষে ৫৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। বেশিরভাগ মৃত্যুই কক্সবাজারে সংঘটিত হয় এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয় পাশ্ববর্তী বান্দরবনে।
২০১১ ১ জুলাই শুক্রবার চট্টগ্রামে বৃষ্টিজনিত ভূমিধ্বসে অন্তত ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে। প্রবল বর্ষণের ফলে পাহাড় থেকে মাটি ও কাদার ঢল পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বস্তি ও কাঁচা ঘরবাড়িতে সংঘটিত হয়।

ভূমিধসের প্রকার, কারণ ও প্রকৃতি  বাংলাদেশে ভূমিধস সংঘটনের প্রকৃতি ও প্রক্রিয়াদি সমুহ হচ্ছে: ১) পার্শ্বিক সমর্থনের (lateral support) অপসারণ, যার মধ্যে রয়েছে- (ক) পাহাড়ি নদী কর্তৃক পার্শ্বক্ষয়, (খ) পূর্ববতী ঢাল বিচলন, যেমন স্খলন (slum), যা নতুন ঢালের সৃষ্টি করে, (গ) মানুষ কর্তৃক ঢালের পরিবর্তন, যেমন পাহাড় কাটা, গর্ত করা বা খাল খনন; ২) ঢালে ওজন বৃদ্ধি, যার মধ্যে রয়েছে- (ক) বৃষ্টির পানি জমা, (খ) গাছপালার বৃদ্ধি, (গ) কৃত্রিমভাবে শিলা বা গন্ডশিলা নির্মাণ, (ঘ) ভবনাদি ও অন্যান্য কাঠামোর ভর, (ঙ) ছিদ্রযুক্ত পাইপ লাইন, পয়ঃপ্রণালী, খাল ও জলাধারের নিঃসারিত পানির ওজন; ৩) ভূমিকম্প; ৪) ভূ-অভ্যন্তরস্থ প্রচন্ড শক্তির কারণে পাহাড়সমূহের আঞ্চলিকভাবে একদিকে কাত হওয়া; ৫) ভূনিম্নস্থ সমর্থনের (underlying support) অপসারণ, যার মধ্যে রয়েছে (ক) উজানভাগের পাহাড়ি নদীর স্রোতের দ্বারা নদীখাতের ক্ষয় এবং নদী ও তরঙ্গের দ্বারা কর্তন, (খ) কর্দমশিলার স্ফীতি এবং ৬) জুমচাষ।

প্রতিরোধ (Prevention)  ভূমিধস প্রতিরোধের প্রচলিত প্রকৌশল পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে ভূ-পৃষ্ঠস্থ ও অন্তর্ভূ-পৃষ্ঠস্থ নিষ্কাশন, অসংহত ঢাল পদার্থ অপসারণ, ধারক প্রাচীর নির্মাণ অথবা এসবের একত্র সমাবেশ। এই সব পদ্ধতির অনেকগুলি এখন বাংলাদেশে ব্যবহূত হচ্ছে।

ভূমিধস প্রতিরোধে একটি সফল সমন্বিত জীব প্রকৌশল ও পয়ঃনিয়ন্ত্রণ উদ্যোগ বান্দরবানে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের মৃত্তিকা সংরক্ষণ ও পানি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (SCWMC) বান্দরবান পাহাড়ের উপর অবস্থিত। পাহাড়ের ঢাল বেশ খাড়া। এ রকম খাড়া পাহাড়ের ঢাল সুস্থিত করতে বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন। ১৯৯৫ সালের জুনমাসে এক ভারি বর্ষণের সময় ২০০ বর্গ মিটার এলাকাজুড়ে একটি খাড়া ঢালে বড় ধরনের ভূমিধস সংঘটিত হলে নিরাপত্তার কারণে একটি অফিস ভবনের পুরো কাঠামো ভেঙ্গে ফেলার প্রয়োজন দেখা দেয়। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার স্থানীয় প্রকৌশলীরা ভবনটি রক্ষার্থে RCC-র তৈরি ধারক প্রাচীর নির্মাণের পরামর্শ দেন, যার আনুমানিক ব্যয় ৭০ লক্ষ টাকা (১২,৯৬,২৯ মার্কিন ডলার)। কিন্তু দপ্তর কর্তৃপক্ষ এই বড় অংকের ব্যয়ভার বহনে সক্ষম ছিল না। তখন ঐ কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা এর সুরাহা করতে এগিয়ে আসেন এবং ধস আক্রান্ত অঞ্চলের ঢাল সুস্থিত করতে জীবপ্রকৌশলী পদ্ধতি প্রয়োগের পরামর্শ দেন। পদ্ধতিটি প্রয়োগে গৃহীত পদক্ষেপ অনুযায়ী বিজ্ঞানীরা প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বীজ ছিটিয়ে দেন এবং জিও-জুট টেক্সটাইল দিয়ে এলাকাটি ঢেকে দেন। পরে বাঁশের বল্লী পুঁতে জিও-জুট টেক্সটাইলকে আরো সুদৃঢ় করা হয়। পরে ধস সংঘটিত এলাকায় পাহাড়ের মাথায় নালা কেটে পানির প্রবাহকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাইরে গতি পরিবর্তিত করে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯৬ সালে জিও জুট টেক্সটাইল পচে গিয়ে উদ্ভিদের সারে পরিণত হয়। এতে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। ধস ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় বর্ধিত গাছপালাও একই সঙ্গে পাহাড়ের মাথায় পানির নিম্নমুখী প্রবাহের গতিপথ কার্যকরভাবে পরিবর্তনের মাধ্যমে অর্জিত সুস্থিতি ভূমিধস বরাবর টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছিল। ফলে কংক্রিটের ধারক প্রাচীর নির্মাণে যেখানে ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয় হতো, সেখানে ঐ দপ্তর মাত্র ৪ হাজার টাকা ব্যয়ে জীব প্রযুক্তি পদ্ধতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে সমর্থ হয়েছিল। প্রতিবেশগত সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ক্ষুদ্র উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যয় সাশ্রয়ী পদ্ধতির এ এক অনুপম দৃষ্টান্ত। [সিফাতুল কাদের চৌধুরী]