ভিত্তিশিলা


ভিত্তিশিলা (Basement)  আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলার জটিল গঠন (complex) যার উপরে পাললিক শিলা অসংগতভাবে অধিশায়িত থাকে। আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলা সাধারণত ভূতাত্ত্বিক শিলাদল-স্তরসমষ্টির ভিত্তিশিলা হিসেবে কাজ করে। ফলে আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলাকে ভিত্তিশিলা কমপ্লেক্স হিসেবে গণ্য করা হয়। অধিকাংশ স্থানেই ভিত্তিশিলা হলো প্রাক-ক্যামব্রিয়ান সময়ের শিলা (ভূত্বক কঠিন হবার পর থেকে ক্যামব্রিয়ানের ভিত পর্যন্ত সময় অর্থাৎ আজ থেকে ৫৭ কোটি বছর আগে থেকে ৪৬০ কোটি বছর আগে পর্যন্ত), অবশ্য কোন কোন ভিত্তিশিলার বয়স ক্রিটেসিয়াসও (১৪ কোটি ৪০ লক্ষ বছর আগে থেকে ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগে পর্যন্ত) হতে পারে।

বাংলাদেশে ভিত্তিশিলার উপরে অবস্থিত পাললিক শিলার পুরুত্ব রংপুর স্যাডল এলাকায় প্রায় ১২৮ মিটার এবং অববাহিকা অঞ্চলে প্রায় ২১ কিলোমিটার। গন্ডোয়ানা, রাজমহল, তুরা, জৈন্তিয়া ও সুরমা শিলাদল এবং ডুপিটিলা ও মধুপুর কর্দম স্তরসমষ্টির শিলাসমূহ ভিত্তিশিলার উপরে শায়িত যাদের পুরুত্ব প্রাক-ক্যামব্রীয় ভারতীয় প্ল্যাটফর্ম এলাকায় ০.১২ কিমি থেকে ৩ কিলোমিটার এবং অববাহিকা অঞ্চলে ৩ কিলোমিটার থেকে ২১ কিলোমিটার। ভারতীয় প্ল্যাটফর্ম এলাকায় খননকৃত কূপের বিভিন্ন গভীরতায় ভিত্তিশিলা পাওয়া গেছে যার মধ্যে আছে গ্রানাইট, গ্রানোডায়োরাইট, ডায়োরাইট, গ্যাবরো, নিস, সিস্ট, এ্যমফিবোলাইট প্রভৃতি। এইসব শিলায় মূল্যবান ধাতব মনিক পাওয়া যেতে পারে। প্ল্যাটফর্ম এলাকায় অনেক স্থানে সুরমা শিলাদল সরাসরি ভিত্তিশিলার উপরে অবস্থান করে। রংপুর স্যাডল অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় ডুপিটিলা স্তরসমষ্টি অসংগতভাবে ভিত্তিশিলার উপরে অবস্থান করে। এই অঞ্চলে ভিত্তিশিলার উপরিভাগ চারিদিকে সমতল নতিমাত্রা বিশিষ্ট এবং শিলাসমূহ মারাত্মকভাবে চ্যুতিপূর্ণ।  [ইউনুস আকন]