ভাঙ্গুরা উপজেলা


ভাঙ্গুরা উপজেলা (পাবনা জেলা)  আয়তন: ১৩৬ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২৪°০৯´ থেকে ২৪°২১´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°২০´ থেকে ৮৯°২৮´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে তাড়াস, চাটমোহর ও উল্লাপাড়া উপজেলা, দক্ষিণে ফরিদপুর উপজেলা (পাবনা), পূর্বে উল্লাপাড়া ও ফরিদপুর উপজেলা (পাবনা), পশ্চিমে চাটমোহর উপজেলা।

জনসংখ্যা ৯৯৪৭৪; পুরুষ ৫০৪৮৬, মহিলা ৪৮৯৮৮। মুসলিম ৯৪৯২১, হিন্দু ৪৫২৭ এবং অন্যান্য ২৬।

জলাশয় প্রধান নদী: আত্রাই ও বড়াল।

প্রশাসন ভাঙ্গুরা থানা গঠিত হয় ১৯৮০ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮১ সালে।

উপজেলা
পৌরসভা ইউনিয়ন মৌজা গ্রাম জনসংখ্যা ঘনত্ব(প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
শহর গ্রাম শহর গ্রাম
৬৭ ১১০ ২৩৪৪১ ৭৬০৩৩ ৭৩১ ৪৫.৬ ৩৬.০
পৌরসভা
আয়তন (বর্গ কিমি) ওয়ার্ড মহল্লা লোকসংখ্যা ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
৫.১৩ ৩২ ১৫০৪৪ ২৯৩৩ ৫২.৪
পৌরসভার বাইরে উপজেলা শহর
আয়তন (বর্গ কিমি) মৌজা লোকসংখ্যা ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
১৩.৪৬ ৮৩৯৭ ৬২৪ ৩৩.৩
ইউনিয়ন
ইউনিয়নের নাম ও জিও কোড আয়তন (একর) লোকসংখ্যা শিক্ষার হার (%)
পুরুষ মহিলা
অষ্টমনিষা ১৫ ৪২৩৬ ৭২৭৯ ৬৮৮৮ ৩৮.৫২
খানমরিচ ৬৩ ৭৪৯৫ ১০৫৫৬ ১০৮০৯ ৩০.০৮
দিলপাশার ৪৭ ৫১২৭ ৮৩৪১ ৭৯৭৩ ৩৫.০৬
পার-ভাঙ্গুরা ৭৯ ৬৪৮৫ ৬৬৭৩ ৬৪৪১ ৩৮.৫৫
ভাঙ্গুরা ৩১ ৬৪১৩ ৬৬২৩ ৬৪১৮ ৩৬.৫৩
মনোতোষ ১৯ ২৮৫০ ৩৩০৮ ৩১২১ ৪২.৫৩

সূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

BhanguraUpazila.jpg

প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ তিন গম্বুজবিশিষ্ট প্রাচীন মসজিদ (কাজীপাড়া, চন্ডীপুর)।

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি ১৯৭১ সালে বড়ালব্রিজের কাছে পাকসেনা ও রাজাকারদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইয়ে পাকসেনারা পরাজিত হয় এবং বহু সংখ্যক রাজাকার অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে। ১৫ ডিসেম্বর এ উপজেলা শত্রুমুক্ত হয়।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান  মসজিদ ১৬২, মন্দির ২৯। উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: ভাঙ্গুরা জামে মসজিদ, কালীবাড়ি মন্দির, অষ্টমনিষা কালীমন্দির।

শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৩৮.৩%; পুরুষ ৪২.৭%, মহিলা ৩৩.৮%। কলেজ ২, কলেজিয়েট স্কুল ১, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১১, প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯১, স্যাটেলাইট স্কুল ১৩, কমিউনিটি স্কুল ৩, মাদ্রাসা ৩। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: হাজী জামালউদ্দিন ডিগ্রি কলেজ (১৯৭০), ভাঙ্গুরা মহিলা কলেজ (১৯৯৮), খানমরিচ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ (২০০২), বি বি স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১৯৮৫), ভাঙ্গুরা জরিনা-রহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৯), হাসিনা-মোমিন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় (১৯৭২), ভাঙ্গুরা ইউনিয়ন পাইলট বহুমুখী বিদ্যালয়, শরৎনগর ফাজিল মাদ্রাসা (১৯২৭), হাজী গয়েজ উদ্দিন মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা (১৯৮৫)।

পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী তাওহীদ, সচেতন, বেদুঈন, মঞ্জিল, ঝর্ণা, উন্মোচন, চেতনা, পল্লী সাহিত্য, স্মৃতি লেখা, নেপথ্যের সংলাপ, নিশীথ প্রদীপ। অবলুপ্ত: জমিদার, বিজলী, সোমবারের চিঠি, পতিতার মুক্তি, বুলি, তাছবীর, অভ্যুদয়, আখেরী তকরীর।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান লাইব্রেরি ২, ক্লাব ৮২, সিনেমা হল ২, নাট্যদল ১, মহিলা সংগঠন ৬।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৭০.৪৯%, অকৃষি শ্রমিক ২.৬১%, শিল্প ২.২১%, ব্যবসা ১১.৫১%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ১.৮৪%, চাকরি ৫.৭০%, নির্মাণ ০.৯৮%, ধর্মীয় সেবা ০.২০%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.০৯% এবং অন্যান্য ৬.৫৮%।

কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৬১.৫৮%, ভূমিহীন ৩৮.৪২%। শহরে ৪৫.৮৫% এবং গ্রামে ৬৬.৩০% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে।

প্রধান কৃষি ফসল ধান, পাট, গম, খেসারি, মসুর, শাকসবজি, পিঁয়াজ, রসুন।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি কাউন, চীনা, ছোলা, ভুরা, যব।

প্রধান ফল-ফলাদি আম, কাঁঠাল, জাম, পেঁপে, কলা, লিচু।

মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার মৎস্য ৫০, গবাদিপশু ৬৩৭, হাঁস-মুরগি ১৩০।

যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ১৮.০৪ কিমি, আধা-পাকারাস্তা ৬.৪৭ কিমি, কাঁচারাস্তা ২১০ কিমি; নৌপথ ১০.৮০ নটিক্যাল মাইল; রেলপথ ১১ কিমি। রেলস্টেশন ৪।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন পাল্কি, ডুলি, গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি।

শিল্প ও কলকারখানা ফ্লাওয়ার মিল, অয়েল মিল, স’মিল, ওয়েল্ডিং কারখানা।

কুটিরশিল্প স্বর্ণশিল্প, লৌহশিল্প, বুননশিল্প, দারুশিল্প, সূচিশিল্প, বাঁশের কাজ।

হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ২০, মেলা ৩। অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুরা বাজার, শরৎনগর বাজার, ভেড়ামারা বাজার ও বড়ালব্রিজ বাজার উল্লেখযোগ্য।

প্রধান রপ্তানিদ্রব্য  ধান, গম, পাট, মাছ, দুধ, পিঁয়াজ, রসুন, হাঁস-মুরগি।

বিদ্যুৎ ব্যবহার এ উপজেলার সবক’টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পল্লিবিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। তবে ২৪.১০% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৯৩.৭০%, পুকুর ০.৩৫%, ট্যাপ ০.২৭% এবং অন্যান্য ৫.৬৮%।

স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ উপজেলার ২১.০৪% (গ্রামে ১৪.৭১% ও শহরে ৪২.১১%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৭৫.৬৩% (গ্রামে ৮১.৭৫% ও শহরে ৫৫.২৮%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ৩.৩৩% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১, পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ৫, ক্লিনিক ১।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ১৭৭০ (বাংলা ১১৭৬) সালের দুর্ভিক্ষে এ উপজেলার বহু লোক প্রাণ হারায়। এছাড়া ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যায় এ উপজেলার প্রায় সব মানুষ পানিবন্দী হয় এবং ঘরবাড়ি, গবাদিপশু ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

এনজিও ব্র্যাক, আশা, টিটিএমএসএস, প্রশিকা। [মুহাম্মদ নুরুজ্জামান মুসাফির]

তথ্যসূত্র   আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো; ভাঙ্গুরা উপজেলা সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭।