ভট্টাচার্য, মহেশচন্দ্র


ভট্টাচার্য, মহেশচন্দ্র (১৮৫৮-১৯৪৪)  ব্যবসায়ী, সমাজসেবক। তিনি ১৮৫৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটঘর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ঈশ্বরদাস তর্কসিদ্ধান্ত ছিলেন একজন পন্ডিত। তাঁর মাতার নাম রামমালা দেবী। চরম দারিদ্রে্যর কারণে মহেশচন্দ্রের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভের সুযোগ হয়নি। এ সময় তিনি ঘরে বসে লেখাপড়া করেছিলেন। তিনি বঙ্গ বিদ্যালয়ে কিছুদিন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৮৮৩ মাত্র পঞ্চান্ন টাকা পুঁজি করে ব্যবসায়ের লক্ষ্যে কলকাতা গমন করেন। কলকাতায় গিয়ে তিনি ঔষধের ব্যবসা শুরু করেন। সততা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায় বলে তিনি এ ব্যবসায় সফলতা লাভ করেন।

মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য আজীবন সমাজ সেবামূলক কাজ করে গেছেন। তিনি পিতার স্মৃতি রক্ষার্থে ১৯২৩ সালে কুমিল্লা শহরে প্রতিষ্ঠা করেন ঈশ্বর পাঠশালা। এছাড়া তিনি ১৯২০ সালে কুমিল্লা শহরের উপকণ্ঠে শাকতলা পল্লীতে রামমালা ছাত্রাবাস এবং ১৯৩৫ সালে রামমালা গ্রন্থাগার স্থাপন করেন। নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কুমিল্লায় নির্মিত হয় নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয় ও নিবেদিতা ছাত্রীনিবাস। তাঁর নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন শিক্ষা সংসদ। তিনি কাশীধামে প্রতিষ্ঠা করেন ঈশ্বর পাঠশালা টোল। তাঁর প্রচেষ্টায় ১৯৩৫ সালে স্থাপিত হয় রামমালা রোড ও রামমালা ডাকঘর। গ্রামের লোকের পানীয় জলের অভাব দূরীকরণের জন্য প্রায় ৫০ বছর পূর্বে তাঁর নিজ গ্রামে একটি পুকুর খনন করেন এবং জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেরই এখান থেকে পানীয় জল নেওয়ার অনুমতি ছিল। তীর্থ-ভ্রমণের সময় এক পর্যায়ে বৈদ্যনাথে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে তিনি দরিদ্র লোকদের সাহায্য করেন। তিনি এ সময় প্রতিদিন ৪০০/৫০০ জন মানুষকে খাওয়াতেন। ১৯৩৫ সালে তিনি কালীঘাটে যাত্রীদের সুবিধার্থে একুশ নম্বর টালিগঞ্জে কালীঘাট যাত্রীনিবাস নির্মাণ করেন। উল্লেখ্য যে, এ যাত্রী নিবাসে যাত্রীরা ৪/৫ দিন বিনা ভাড়ায় থাকতে পারত। তিনি বারানসীতে তার সহধর্মিণী হরসুন্দরী দেবীর নামে একটি ধর্মশালা প্রতিষ্ঠা করেন।

মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য ব্যবসায়িক ব্যস্ততার মধ্যে থেকেও লেখালেখি করতেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ব্যবসায়ী প্রকাশিত হয় ১৩১২ বঙ্গাব্দে। তিনি আত্মজীবনীও লিখেছেন। আত্মকথা নামে তাঁর একটি আত্মজীবনী রয়েছে। তাঁর মৃত্যু ১৯৪৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। [মোহাম্মদ কবিরুল হাসান]