বৈশ্য


বৈশ্য  হিন্দুদের চতুর্বর্ণের তৃতীয় বর্ণ। পশুপালন ও ব্যবসা-বাণিজ্য তাদের প্রধান পেশা। প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারতবর্ষে একটি বিশিষ্ট ও উদীয়মান ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আত্মপ্রকাশ করে। তারা অন্তর্বাণিজ্য ও বহির্বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্তর্বাণিজ্যে সমগ্র ভারতবর্ষ ছিল তাদের বিচরণ ক্ষেত্র এবং তারা তখন ব্যবসা-বাণিজ্যাদি নিয়ন্ত্রণ করত।

‘বৈশ্য’ শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহূত হলেও তা মূলত ব্যবসায়ী বর্ণ ও সম্প্রদায়কেই নির্দেশ করে। ভারতে এদের মধ্যে রয়েছে আগরওয়ালা, মহেশ্বরী, খাদেলওয়ালা, অসোয়াল, জশোয়াল, পলোয়াল, দাস এবং মহাজন সম্প্রদায়। গুজরাটের বানিয়া ও প্যাটেল এবং মারওয়ারের মারোয়ারি সম্প্রদায় অত্যন্ত ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সম্প্রদায়। এরা সকলে বৈশ্য হিসেবে পরিচয় দেয়।

বাংলাদেশে কোনোকালেই বৈশ্য একটি স্বতন্ত্র ও বিশিষ্ট উপবর্ণ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেনি, যদিও বাংলায় প্রাচীনকাল থেকেই একশ্রেণীর মানুষ অন্তর্বাণিজ্য ও বহির্বাণিজ্যে নিয়োজিত ছিল। তবে বাংলায় তাম্বুলী ও স্বর্ণকার নামে বহু উপবর্ণের মানুষের উল্লেখ আছে। তারা ব্যবসা-বাণিজ্যে নিযুক্ত ছিল। বর্তমান বাংলাদেশে সাহা, কুন্ডু ও বণিকরা নিজদিগকে বৈশ্য বললেও প্রকৃতপক্ষে তারা আর্য বৈশ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়নি। বৈশ্যরা এখন ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি লেখাপড়া শিখে বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত আছে।  [হীরালাল বালা]

আরও দেখুন বর্ণপ্রথা