বৈরাগীর ভিটা


বৈরাগীর ভিটা মহাস্থান (পুন্ড্রনগর) নগরদুর্গের মধ্যে অবস্থিত একটি মন্দির এলাকা। এলাকাটি মহাস্থানের উত্তর দুর্গ-প্রাকার থেকে ৭৬ মিটার দক্ষিণে অবস্থিত। ১৯২৮-২৯ সালে খননের ফলে এখানে পাল যুগের প্রাথমিক ও শেষ পর্যায়ের (আট-নয় ও এগারো শতক) দুটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। এ মন্দিরদ্বয়ের উত্তরে একটি উন্মুক্ত অঙ্গনে প্রাচীর ঘেরা আরও কয়েকটি স্থাপত্য কাঠামো পাওয়া গেছে।

বৈরাগীর ভিটা, মহাস্থান

প্রাথমিক পাল যুগীয় মন্দিরের ভিত্তি প্রাচীর (২৯.৮৭ মি × ১২.৮ মি) উত্তর ও পূর্ব দিকে পরিলক্ষিত হয়। এ প্রাচীর মোল্ডেড ব্যান্ড দ্বারা অলঙ্কৃত। অন্যদিকে এর দক্ষিণের অর্ধাংশে রয়েছে পরবর্তীকালে নির্মিত মন্দির। উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত একটি নালা মন্দিরটিকে দুভাগে বিভক্ত করেছে। নালার একটি অংশ ইটের তৈরি এবং অন্য অংশ কালো কষ্টি পাথরের, যা ছিল প্রাথমিক গুপ্ত পর্যায়ের। এ পাথরগুলির মধ্যে জমকালো অলঙ্করণে সমৃদ্ধ দুটি স্তম্ভ আছে। এ স্তম্ভ দুটির মজবুত অংশে খোদাই করে আনুমানিক ১২.৭ সেন্টিমিটার গভীর নালার আকার দেওয়া হয়েছে। সম্ভবত এটা করা হয়েছিল মন্দিরের তর্পণজল বাইরে নিষ্কাশনের জন্য। কোণাগুলি গোলাকারভাবে কর্তিত (chamfered) বর্গাকৃতি পাথরের এ স্তম্ভগুলি অর্ধ-পদ্মফুলাকৃতি পদক, কীর্তিমুখ (kirtimukha) এবং গুপ্তযুগীয় বিশেষ রীতির সুন্দর ফুলেল নকশায় শোভিত ছিল।

পরবর্তী পালযুগীয় মন্দিরটি (প্রায় এগারো শতক) প্রত্নস্থলে পূর্বেকার মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের দক্ষিণ অর্ধাংশে নির্মিত। এটি বৃহত্তর এবং আকারে আয়তাকার (৩৩.৮৩ মি × ১৩.৩৭ মি)। কিন্তু ধ্বংসাবশেষের বিচ্ছিন্নতার কারণে এর পরিকল্পনা স্পষ্ট করে বোঝা যায় না। বেশ কিছু সংখ্যক সুন্দরভাবে খোদাইকৃত প্রস্তর স্তম্ভের ভিত্তি এবং পেরেক চিহ্নিত দরজাবাজুর আবিষ্কার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, এর উত্তর অংশের মাঝখানে একটি বারান্দা (porch) ছিল।

মন্দির কমপ্লেক্সের পূর্ব পার্শ্বে একটি মঞ্চের ধ্বংসাশেষ পরিলক্ষিত হয়। এ ধ্বংসাবশেষে ২৩টি কামরার অস্তিত্ব দেখা যায়। প্রত্যেকটি কামরা ইট অথবা এজ (Edge) ব্যান্ড দ্বারা চিহ্নিত। এগুলি সম্ভবত স্নানকারীরা ব্যবহার করত। উপরোক্ত বিষয় ছাড়াও প্রত্নস্থলে লুকিয়ে থাকা গভীর গর্তগুলি পালযুগীয় কাঠামোসমূহের নিচে পরবর্তী গুপ্ত যুগের (ছয় শতক) ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন বহন করে।  [আইয়ুব খান]