বৃষ্টিপাত


Rainfall.jpg

বৃষ্টিপাত (Rainfall)  নির্দিষ্ট সময়ে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় পতিত হওয়া বৃষ্টির সর্বমোট পরিমাণ। বৃষ্টিপাত নির্ভর করে ঋতু এবং মহাকাশগত অবস্থার ওপর। বাংলাদেশে শীত মৌসুম (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) খুবই শুষ্ক। এসময়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাৎসরিক সর্বমোট বৃষ্টিপাতের ৪ শতাংশেরও নিচে থাকে। ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা পশ্চিমা বায়ু শীত মৌসুমে দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে ২০ মিমি এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৪০ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে থাকে।

বাংলাদেশের বাৎসরিক মোট বৃষ্টিপাতের ১০-২৫% হয় বর্ষাপূর্ব উষ্ণ মৌসুমে (মার্চ-মে), যা এসময়ে সংঘটিত বজ্রঝড় অথবা বায়ুকোণ থেকে আগত কালবৈশাখীর অনুষঙ্গ হিসেবে ঘটে থাকে। এ মৌসুমে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দেশের পশ্চিম-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ২০০ মিমি এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে ৮০০ মিমি। মেঘালয় পর্বতের প্রভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়।

বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সংঘটিত হয় বর্ষা মৌসুমে (জুন থেকে অক্টোবর)। দেশের পূর্বাঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের ৭০% ঘটে এ মৌসুমে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৮০% এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ৮৫%। বর্ষা মৌসুমে দেশের পশ্চিম-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১০০০ মিমি, কিন্তু দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে তা ২০০০ মিমি-এর ওপরে। এ মৌসুমে অধিক বৃষ্টিপাতের মূল কারণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট দুর্বল নিম্নচাপসমূহ এবং সমুদ্র থেকে বাংলাদেশের ভূখন্ড অভিমুখী আর্দ্র মৌসুমি বায়ু। বর্ষা মৌসুমেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অধিক মাত্রায় বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে মেঘালয় পর্বতের প্রভাব রয়েছে। সাধারণত মধ্য অক্টোবরের পর আর্দ্র মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ স্তিমিত হয়ে গেলে দ্রুত বৃষ্টিপাত হ্রাস পেতে থাকে।

বাংলাদেশে অঞ্চল ভেদে বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাতের তারতম্য রয়েছে। পশ্চিম-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে এর পরিমাণ ১৫০০ মিমি, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে ৩০০০ মিমি। সুরমা উপত্যকা এবং পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের হার অতি উচ্চ। সিলেটে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪১৮০ মিমি, মেঘালয় মালভূমির পাদদেশ সংলগ্ন সুনামগঞ্জে এর পরিমাণ ৫৩৩০ মিমি এবং লালাখাল (জৈন্তিয়াপুর উপজেলা) নামক স্থানে ৬৪০০ মিমি। বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ঘটে থাকে এই লালাখালে। মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলা থেকে সরাসরি উত্তর দিকে মাত্র ১৬ কিমি দূরে অবস্থিত। চেরাপুঞ্জিতে বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বিস্ময়কর রকমের বেশি, ১০৮২০ মিমি।  [রফিক আহমেদ]

আরও দেখুন জলবায়ু; মৌসুমি বায়ু