বিধুশেখর শাস্ত্রী, মহামহোপাধ্যায়


বিধুশেখর শাস্ত্রী, মহামহোপাধ্যায় (১৮৭৮-১৯৫৭)  সংস্কৃত পন্ডিত ও ভারততত্ত্ববিদ। পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরে তাঁর জন্ম। স্থানীয় টোলে শিক্ষা শুরু করে সতেরো বছর বয়সে তিনি কাব্যতীর্থ উপাধি লাভ করেন। এ সময়  সংস্কৃত গদ্য ও পদ্য রচনায় তিনি দক্ষতার পরিচয় দেন এবং দুটি কাব্যগ্রন্থও রচনা করেন। পরে কাশীতে গিয়ে তিনি বহুবছর নানা শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। সেখানে কৈলাসচন্দ্র শিরোমণির নিকট ন্যায়শাস্ত্র এবং সুব্রহ্মণ্য শাস্ত্রীর নিকট বেদান্তশাস্ত্র অধ্যয়ন করে তিনি ‘শাস্ত্রী’ উপাধি লাভ করেন এবং সেই থেকে বিধুশেখর শাস্ত্রী নামে পরিচিত হন, যদিও তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘ভট্টাচার্য’।

বিধুশেখর ১৯০৭ সালে শান্তিনিকেতনের ব্রহ্মচর্য বিদ্যালয়ে সংস্কৃতের অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের অধ্যক্ষ ও আশুতোষ অধ্যাপক হন। বৈদিক সাহিত্যের তুলনামূলক চর্চার জন্য তিনি আবেস্তা ও বৌদ্ধশাস্ত্রের পর্যালোচনার জন্য ফরাসি, জার্মান, তিববতি ও চীনাভাষা আয়ত্ত করেন। ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় রচিত ও সম্পাদিত তাঁর গ্রন্থসংখ্যা সতেরো।

ন্যায়, দর্শন, ব্যাকরণ, শব্দকোষ, পালি,  বৌদ্ধধর্ম ইত্যাদি বিষয়ে বিধুশেখরের গভীর অনুরাগ ছিল। তিববতি অনুবাদ থেকে তিনিই লুপ্ত-সংস্কৃত মূলগ্রন্থ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শক ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: পালিপ্রবেশ, ভোটপ্রকাশ, অসঙ্গ প্রণীত যোগাচারভূমিশাস্ত্র (১ম খন্ড), বোধিচর্যাবতার (তিববতি পাঠসহ), নাগানন্দ নাটক, গৌড়পাদীয় আগমশাস্ত্র, বৌদ্ধ পাঠাবলী, আর্যদেবের চতুঃশতক (২য় খন্ড), মধ্যান্তবিভাগভাষ্যটীকা, নাগার্জুনকৃত মহাযানবিংশক, উপনিষৎ (বিশ্ববিদ্যা সংগ্রহমালা), মিলিন্দপঞ্হ, বিবাহমঙ্গল, Historical Introduction to the Indian Schools of Buddhism ইত্যাদি।

সংস্কৃত ও পালি ভাষা-সাহিত্য এবং ভারততত্ত্বে বিশেষ অবদানের জন্য ভারত সরকার বিধুশেখরকে ‘মহামহোপাধ্যায়’ (১৯৩৬),  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ডিলিট ডিগ্রি এবং বিশ্বভারতী ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৫৭) উপাধিতে ভূষিত করে।  [মঞ্জুলা চৌধুরী]