বাড্ডা থানা


বাড্ডা থানা (ঢাকা মেট্রোপলিটন)  আয়তন: ৩৬.৮৪ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২৩°৪৫´ থেকে ২৩°৪৯´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°২৫´ থেকে ৯০°২৮´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে খিলক্ষেত থানা, দক্ষিণে খিলগাঁও থানা, পূর্বে রূপগঞ্জ উপজেলা, পশ্চিমে গুলশান, ক্যান্টনমেন্ট ও রামপুরা থানা।

জনসংখ্যা ৩২০০২৫; পুরুষ ১৭৬৮১০, মহিলা ১৪৩২১৫। মুসলিম ৩০৫১১৮, হিন্দু ১১৬৩৩, বৌদ্ধ ২৮৯৪, খ্রিস্টান ৩২৯ এবং অন্যান্য ৫১।

জলাশয় বালু নদী উল্লেখযোগ্য।

প্রশাসন ১৯৯৮ সালের ৯ ডিসেম্বর গুলশান এবং ক্যান্টনমেন্ট থানার কিছু অংশ নিয়ে বাড্ডা থানা গঠিত হয়।

থানা
ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন মহল্লা জনসংখ্যা ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
শহর গ্রাম শহর গ্রাম
১+৫ (আংশিক) ২২ ১৩৪৪৭৬ ১৮৫৫৪৯ ০৮৬৮৯ ৭০.৩২ ৫২.৩৮
ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন
ওয়ার্ড নম্বর ও ইউনিয়ন আয়তন (বর্গ কিমি) লোকসংখ্যা শিক্ষার হার (%)
পুরুষ মহিলা
ওয়ার্ড নং ১৭ (আংশিক) ৬.১৩ ৩৫৫৫৯ ২৮২০৯ ৬৯.১৩
ওয়ার্ড নং ২১ ৩.৮৪ ৩৯৯৭৮ ৩০৭৩০ ৭১.৫১
বেরাইদ ইউনিয়ন (আংশিক) ১১.৭৩ ৮৪৬৩ ৭৬৯০ ৪৭.৪৯
বাড্ডা ইউনিয়ন (ভাটারা আংশিক) ৩.৮৬ ৪৮০৯৯ ৪০৭৬১ ৫৪.৫৯
ভাটারা ইউনিয়ন (আংশিক) ৪.৮৬ ৪০৭৩৭ ৩২২৯৫ ৬১.৭৪
সাতারকুল ইউনিয়ন (ভাটারা আংশিক) ৬.৪২ ৩৯৭৪ ৩৫৩০ ৪৫.৬৯

সূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

BaddaThana.jpg

প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ মধ্য বাড্ডায় অবস্থিত প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ, আজাদ মসজিদ।

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনী বাড্ডা ও ভাটারার বিভিন্ন স্থানে নির্যাতন, লুটপাট চালায় এবং সলমইদ গ্রামে ২ জনকে হত্যা করে। বেরাইদ ব্রিজের কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকবাহিনীর লড়াইয়ে ৪ জন পাকসেনা নিহত হয়। জোয়ার সাহারায় ডিসেম্বরে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকবাহিনীর লড়াইয়ে বহুসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন বীরের প্রত্যাবর্তন (ভাটারা)।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ৪৫, মন্দির ১১, গির্জা ৫, প্যাগোডা ১। উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: বায়তুল কাদের জামে মসজিদ, দক্ষিণ বাড্ডা জামে মসজিদ, মেরুল বাড্ডা জামে মসজিদ, শ্রী শ্রী মহাদেব আশ্রম ও কালী মন্দির, শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির, কাঁঠালদিয়া দুর্গা মন্দির।

শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৫৮.৩৬%; পুরুষ ৬৩.৪২%, মহিলা ৫২.১৮%। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (১৯৯২), ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি (১৯৯৩), পাইওনিয়ার ডেন্টাল মেডিকেল কলেজ (১৯৯৫), ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২০০৪), বাড্ডা আলাতুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, মহানগর ডিগ্রি কলেজ, এ.কে.এম রহমতউল্লাহ ডিগ্রি কলেজ, বাড্ডা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বেরাইদ মুসলিম হাইস্কুল, সাতারকুল উচ্চ বিদ্যালয়, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (১৯৫৩), হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (১৯৯৭), বারিধারা স্কলার্স ইনস্টিটিউশন, বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৮৯৫),

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্লাব ২, কমিউনিটি সেন্টার ৫, খেলার মাঠ ৩।

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যমুনা ফিউচার পার্ক, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি, বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্প।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৪.১৭%, অকৃষি শ্রমিক ২.১৯%, শিল্প ৩.১০%, ব্যবসা ২৩.৬৬%, চাকরি ৩২.৫৪%, পরিবহন ১১.৩১%, নির্মাণ ৬.১৭%, ধর্মীয় সেবা ০.১৩%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিট্যান্স ৩.১০% এবং অন্যান্য ১৩.৬৩%।

কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৫৪.৭৬%, ভূমিহীন ৪৫.২৪%।

প্রধান কৃষি ফসল ধান, শাকসবজি।

প্রধান ফল-ফলাদি আম, কাঁঠাল, নারিকেল, পেঁপে।

মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার মৎস্য ৫, গবাদিপশু ১৯, হাঁস-মুরগি ২০।

যোগাযোগ বিশেষত্ব মোট সড়ক ৫৫.৩৫ কিমি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন পাল্কি, ঘোড়া ও গরুর গাড়ি।

শিল্প ও কলকারখানা পোশাক শিল্প, করাতকল, মিষ্টির কারখানা, ফার্নিচার তৈরির কারখানা।

কুটিরশিল্প লৌহশিল্প, হস্তশিল্প, বাঁশ ও বেতের কাজ।

মার্কেট ও হাটবাজার  যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা বাজার, জোয়ার সাহারা বাজার, হাজী মার্কেট, দক্ষিণ বাড্ডা বাজার, বারিধারা নতুন বাজার, উত্তর বাড্ডা বাজার, মেরুল বাড্ডা কাঁচা বাজার উল্লেখযোগ্য।

প্রধান রপ্তানিদ্রব্য  তৈরি পোশাক, মিষ্টি, ফার্নিচার, হস্তশিল্প।

বিদ্যুৎ ব্যবহার এ থানার সবক’টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। তবে ৯৬.৮৪% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

পানীয়জলের উৎস নলকূপ ১৪.৬০%, ট্যাপ ৮৪.১৮%, পুকুর ০.১০% এবং অন্যান্য ১.১২%।

স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ থানার ৮৭.৪১% পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ১১.৬৮% পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ০.৯১% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র অ্যাপোলো হাসপাতাল, বাড্ডা জেনারেল হাসপাতাল, এশিয়ান জেনারেল হাসপাতাল, মা ও শিশু ক্লিনিক, উপশম হাসপাতাল, আল-সামী হাসপাতাল উল্লেখযোগ্য।

এনজিও ব্র্যাক, আশা, প্রশিকা। [মো. তুহীন মোল্লা]

তথ্যসূত্র   আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।