বাংলাদেশ মৃত্তিকা বিজ্ঞান সমিতি


বাংলাদেশ মৃত্তিকা বিজ্ঞান সমিতি  দেশের মৃত্তিকা বিজ্ঞানীদের জাতীয় পর্যায়ের একমাত্র প্রতিষ্ঠান। পাকিস্তান মৃত্তিকা বিজ্ঞান সমিতি ১৯৫৮ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এ সমিতির একটি আঞ্চলিক শাখা পরবর্তী সময়ে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৫৭ সালে ফিলিপাইনের ম্যানিলাতে অনুষ্ঠিত প্রথম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া মৃত্তিকা বিজ্ঞান সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে এ ধরনের সাময়িক সম্মেলন অনুষ্ঠান সহজ করার জন্য এ অঞ্চলের সব দেশে সমিতি গঠন করা উচিত। ড. এম ওসমান গনি এ ব্যাপারটি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেন এবং ড. এম আমিরুল ইসলাম, ড. এ.কিউ.এম বজলুল করিম ও ড. এ.কে.এম ফজলুল হকের সক্রিয় সহযোগিতায় সমিতি গঠনের কাজটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ শুরু করেন। ড. গনি নবগঠিত পাকিস্তান মৃত্তিকা বিজ্ঞান সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ড. এ.কে.এম ফজলুল হক সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে সমিতির পুনঃনামকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ মৃত্তিকা বিজ্ঞান সমিতি কাজ শুরু করে এবং ড. বি করিম সভাপতি ও ড. আই.ইউ আহমেদ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশে মৃত্তিকা বিজ্ঞানের অগ্রগতি সাধনে সহায়তা করাই এ সমিতির প্রধান দায়িত্ব। এ সমিতি মৃত্তিকা বিজ্ঞানের জ্ঞান জনসাধারণের মধ্যে প্রচার করে; মৃত্তিকা বিজ্ঞানের মৌলিক ও ফলিত গবেষণাকে উৎসাহিত করে; দেশের মৃত্তিকা বিজ্ঞানীদের স্বার্থকে প্রবর্ধন ও রক্ষা করে। এ সমিতি প্রতিবছর দুইবার বিজ্ঞান সাময়িকী প্রকাশ করে এবং সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও আলোচনা সভার আয়োজন করে।

চার ধরনের সদস্যপদ নিয়ে সমিতিটি গঠিত, যথা: সাধারণ, সম্মানসূচক, সহযোগী এবং প্রাতিষ্ঠানিক সদস্য। মৃত্তিকা বিজ্ঞানে এম.এসসি/এম.এসসি (কৃষি) ডিগ্রিধারী ব্যক্তি এবং যারা মৃত্তিকা বিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণা কাজে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত তারা এ সমিতির সাধারণ সদস্য হওয়ার যোগ্য। মৃত্তিকা বিজ্ঞানে অবদান রাখার জন্য খ্যাতিমান কোন ব্যক্তি এ সমিতির সম্মানসূচক সদস্য হতে পারেন। মৃত্তিকা বিজ্ঞানে গবেষণা ও পাঠদান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সহযোগী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান, অংশীদারী প্রতিষ্ঠান সমিতির প্রাতিষ্ঠানিক সদস্য হওয়ার যোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজ/ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নরত মৃত্তিকা বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীরা এ সমিতির সহযোগী সদস্য হতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলাদেশ মৃত্তিকা বিজ্ঞান সমিতি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে কার্যক্রম সম্প্রসারিত করে দেশে ও বিদেশে এর মর্যাদা উন্নীত করেছে। এ সমিতি ১৯৬২ সালে আন্তর্জাতিক মৃত্তিকা বিজ্ঞান সমিতির অধিভুক্ত হয়েছিল। ১৯৮৪ সালে আন্তর্জাতিক মৃত্তিকা বিজ্ঞান সমিতির কমিশন IV-এর সহযোগিতায় এ সমিতি ‘Soil Test Crop Response Studies’-এর ওপর ঢাকাতে একটি আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়াম সংগঠিত করেছিল। ১৯৯২ সালেও আন্তর্জাতিক মৃত্তিকা বিজ্ঞান সমিতির কমিশন IV-এর সহযোগিতায় ‘Soil Management for Intensive Cropping in the Tropics and Sub-tropics’-এর ওপর অন্য একটি আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করেছিল। ১৯৫৮ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে সমিতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সভা, সিম্পোজিয়াম, সেমিনার আয়োজন করেছে।  [আমিনুল ইসলাম এবং এস.এম ইমামুল হক]