বঙ্গীয় পাটতদন্ত কমিটি রিপোর্ট


NasirkhanBot (আলোচনা) কর্তৃক ০৪:১৮, ৫ মে ২০১৪ পর্যন্ত সংস্করণে (Added Ennglish article link)

(পরিবর্তন) ←পুর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ→ (পরিবর্তন)

বঙ্গীয় পাটতদন্ত কমিটি রিপোর্ট (১৯৩৪ এবং ১৯৩৯)  পাট উৎপাদন সংক্রান্ত সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন। ত্রিশের দশকের মন্দা এবং তার পরবর্তীতে বাংলার পাট উৎপন্নকারী কৃষকরা যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল সে বিষয়ে সরকারী উদ্যোগে গঠিত তদন্ত কমিটি কর্তৃক তৈরি প্রতিবেদন। ১৯২৯ সাল থেকে বিশ্ব বাজারে পাটের মূল্য অত্যাধিক চড়া হতে থাকে এবং সে কারণেই বাংলার স্থানীয় পাটবাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। পাট উৎপাদন ও তার বাজারজাতকরণের এরূপ বিরূপ অবস্থা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলে। কারণ  পাট যেমন বাংলার অর্থনীতির মেরুদন্ডে পরিণত হয়েছিল তেমন পাটচাষীরাও ক্রমবর্ধমান হারে ঋণগ্রস্থ শ্রেণীতে পরিণত হচ্ছিল। ফলে প্রত্যেক পাট উৎপাদনকারী জেলাসমূহে কৃষক অসন্তোষ বাসা বাঁধছিল। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিকভাবে পাট সংক্রান্ত সমস্যার মোকাবিলায় বাংলার সরকার দু’টি কার্যকরী পাট তদন্ত কমিটি গঠন করতে সক্ষম হয়। একটি ১৯৩৪ এবং অপরটি ১৯৩৯ সালে। উভয় কমিটির ওপর অর্পিত শর্তাবলী ছিল মোটামুটি একই। যেমন, পাট উৎপাদনে অগ্রগতি, পাটের মূল্য, ঋণগ্রস্থ কৃষকের অবস্থা, পাট উৎপাদনের অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের পথ ও উপায় এবং পাট বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত সমস্যা চিহ্নিতকরণ। কমিটি পাট উৎপাদনকারীদের ঋণগ্রস্থতা, বকেয়া, পাট উৎপাদনের উপযোগী ভূমির পরিমাণ এবং বাজারজাতকরণের বিষয়ের ওপর প্রতিবেদনে প্রদান করে।

১৯৩৪ ও ১৯৩৯ সালের কমিটি প্রধানত পাট উৎপাদনে সীমাবদ্ধতা, স্বেচ্ছা সীমিতকরণ এবং কাঁচা পাটের মূল্যের ওপর তার প্রভাব, পাটজাত দ্রব্য উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ, মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা, কৃত্রিম পণ্য বা সিন্থেটিকের প্রভাব ও বাজারজাতকরণের নীতি ইত্যাদি ব্যাপারে তদন্ত করেছিল। তবে উভয় কমিটি ১৯৪০ সালে দেয়া প্রতিবেদনে পাট উৎপাদন সংক্রান্ত একটি আইন অকার্যকর করার জন্য সুপারিশ করে।  [এনায়েতুর রহিম]