বংস সাহিত্য


বংস সাহিত্য  বৌদ্ধধর্ম ও সংঘ বিষয়ক গ্রন্থমালা। খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতক থেকে শ্রীলংকা ও ব্রহ্মদেশীয় ভিক্ষুগণ এগুলি রচনা করেন। এতে বৌদ্ধদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ভৌগোলিক অবস্থার বিবরণ আছে। সিংহলে রচিত দীপবংস, মহাবংস ও চুল্লবংসে ভারতবর্ষ ও শ্রীলংকার বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস এবং রাজাদের কীর্তিকলাপ বর্ণিত হয়েছে। দশম শতকে উপতিস্মস্থবির বিরচিত মহাবোধিবংসে বোধিবৃক্ষের শাখাসহ অশোককন্যা সংঘমিত্রার শ্রীলংকা গমনের কাহিনী এবং দ্বাদশ শতকে বাচিস্মরস্থবির প্রণীত থূপবংসে (স্তূপবংশ) ভারতবর্ষ ও সিংহলে বুদ্ধের পূতাস্থির উপর স্তূপ নির্মাণের কাহিনী লিপিবদ্ধ হয়েছে। দাঠাবংসে ধম্মকিতিস্থবির গৌতম বুদ্ধের দন্তধাতু বিভিন্ন স্থানে রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাস ও সিংহলে একটির উপর মহাচৈত্য নির্মাণের ঘটনা বর্ণনা করেন। অজ্ঞাতনামা এক কবি রচিত হত্থবনগল্লবিহারবংসে সিংহলরাজ শ্রীসংঘবোধির আত্মত্যাগ ও তাঁর জীবনোৎসর্গের স্থানে বিহার নির্মাণের কাহিনী এবং কস্মপস্থবির রচিত অনাগতবংসে ভবিষ্যৎ বুদ্ধ মৈত্রের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। ব্রহ্মদেশে রচিত ছ-কেস-ধাতুবংসে বুদ্ধের কেশধাতু সংরক্ষণ, গন্ধবংসে বিবিধ পালিগ্রন্থের বিবরণ এবং সাসনবংসে ব্রহ্মদেশে বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস ও পালিগ্রন্থ রচনার কথা আছে। সকল দেশের বৌদ্ধদের নিকট এ গ্রন্থগুলি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।  [বিনয়েন্দ্র চৌধুরী]