ফুলার, স্যার জোসেফ ব্যামফিল্ড


ফুলার, স্যার জোসেফ ব্যামফিল্ড (১৮৫৪-১৯৩৫)  ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ এবং আসামের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর। জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলার মার্লবরো কলেজে শিক্ষা লাভ করেন। তিনি ১৮৮৫ সালে মধ্য প্রদেশের ভূমি জরিপ ও কর নির্ধারণ এবং কৃষিবিষয়ক কমিশনার হিসেবে ভারতীয় সিভিল সার্ভিস-এ তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ১৮৯৯ সালে ভাইসরয়ের পরিষদের অতিরিক্ত সদস্য এবং ১৯০১-২ সাল পর্যন্ত ভারত সরকারের সচিব ছিলেন। ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ ও আসামের লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পদে নিয়োগ লাভের পূর্বে ফুলার আসামের প্রধান কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন (১৯০২-১৯০৫)।

ব্যামফিল্ড ফুলার নতুন প্রদেশের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে যে ভূমিকা পালন করেন সেজন্য তিনি বাংলার ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। লর্ড কার্জন এর বিভাজন ব্যবস্থায় জাতীয়তাবাদী বাঙালি ও কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অবিলম্বে এটি বাতিলের জন্য তারা দাবি জানায়। তাদের এ দাবি উপলব্ধি করে বঙ্গভঙ্গ বিরোধীরা দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করে। তাদের এ আন্দোলনের বিরোধিতা করার জন্য ফুলার মুসলমানদেরকে বঙ্গভঙ্গের পক্ষে উত্তেজিত করার চেষ্টা করেন। আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক বিবেচনা করে মুসলমান সম্প্রদায় বিভাজন ব্যবস্থায় তাদের সমর্থন জ্ঞাপন করে।

এভাবে বঙ্গভঙ্গ রাজনৈতিকভাবে বাংলার দুটি সম্প্রদায়কে বিভক্ত করে। জাতীয়তাবাদীদের প্রতিরোধ আন্দোলন স্বদেশী ও বিপ্লবী আন্দোলনের রূপ নেয়। ব্যামফিল্ড ফুলার এ আন্দোলন মোকাবিলা করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তাঁর পদক্ষেপসমূহের প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস মনে করে যে, সরকার ভেদনীতির (Divide and Rule Policy) অনুসরণে সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করেছে। ফুলারের কাজ এবং উক্তি অনেক সময় হতো কৌশলহীন ও নির্বোধের মতো। শোনা যায় যে, কোন এক সাক্ষাৎকারে ফুলার নাকি তাঁর দুজন স্ত্রী অর্থাৎ বিভক্ত দুই বাংলার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, এদের মধ্যে মুসলমান স্ত্রী (ইস্ট বেঙ্গল) তাঁর নিকট বেশি প্রিয়। বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার কারণে সিরাজগঞ্জের দুটি স্কুলের অনুমোদন বাতিলের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সুপারিশ ছিল তাঁর এক অদূরদশিতার লক্ষণ। কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর সুপারিশ নাকচ করে দেয় এবং এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি ১৯০৬ সালের ২০ আগস্ট পদত্যাগ করেন। কোন রকম সফলতা ছাড়াই এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তাঁর শাসনামল শেষ হয়ে যায়।

ব্যামফিল্ড ফুলার একজন বুদ্ধিদীপ্ত বেসামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। আমলাতান্ত্রিক পেশার পাশাপাশি তিনি উৎসুকভাবে পড়াশোনা করতেন এবং মানুষ ও প্রকৃতি সম্পর্কে লেখালেখি করতেন। তিনি তাঁর অবসর জীবনের অধিকাংশ সময়ই লেখালেখির কাজে অতিবাহিত করেন। তাঁর লেখা গ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম Studies of Indian Life and Sentiment (1910), The Empire of India (1913), Life and Human Nature (1914), The Science of Ourselves (1921), Causes and Consequences (1923), The Law Within (1926), Etheric Energies (1928), Some Personal Experiences (1930);  The Tyranny of the Mind (1935). মৃত্যু ২৯ নভেম্বর, ১৯৩৫। [সিরাজুল ইসলাম]