ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অব বেঙ্গল


NasirkhanBot (আলোচনা) কর্তৃক ০৪:১৬, ৫ মে ২০১৪ পর্যন্ত সংস্করণে (Added Ennglish article link)

(পরিবর্তন) ←পুর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ→ (পরিবর্তন)

ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অব বেঙ্গল  ১৮৫৬ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয়। ফরাসি বিজ্ঞানী লুই দেগুয়ের ও ইংরেজ বিজ্ঞানী ইউলিয়াম হেনরি ফক্স ট্যালবট-এর চেষ্টায় ফটোগ্রাফি কিছুটা উন্নত পর্যায়ে আসে। পরবর্তীকালে প্যারিসে দেগুয়ের-এর প্রথম ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যার সাত মাস পর ১৮৪০ সালের মার্চ মাসে ব্রিটিশ ভারতে প্রথমবারের মতো ফটোগ্রাফির প্রবর্তন হয়। ১৮৪০ সালে কলকাতা একটি ক্যামেরার অধিকারী হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ১৮৪৪-এর দিকে এফ.এম মন্টারিও কলকাতায় একটি পেশাদারি ফটোগ্রাফিক স্টুডিও খোলেন এবং এই ঘটনার ছয় বছর পর ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অব বেঙ্গল প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮৫৬ সালে ঢাকায় প্রথম বারের মতো ফটোগ্রাফির মাধ্যমে ছবি তোলা হয়। কে এবং কীভাবে এই ছবি তুলেছে সে সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায় নি। ১৮৬৪ সালের দিকে ঢাকার কিছু উদ্যমী মানুষ শহরে ফটোগ্রাফি প্রচলনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। জনৈক গোপীনাথ দত্ত মিটফোর্ড হাসপাতালের কাছে ভগীরথ সাহার বাসভবনে একটি দোকান খোলেন। সেখানে ছবি বাঁধাইয়ের কাঠের তৈরি ফ্রেম বিক্রয় হতো। ১৯ শতকের শেষদিকে নবাব খাজা আহসানুল্লাহ (১৮৪৬-১৯০১) এবং তাঁর পুত্র নবাব খাজা সলিমুল্লাহ (১৮৭১-১৯১৫)-র পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় ফটোগ্রাফি সচলতা লাভ করে। খাজা আহসানুল্লাহ ১৮৮৮ সালে কলকাতা-ভিত্তিক ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অব ইন্ডিয়াতে যোগদান করেন। কুচবিহার ও ত্রিপুরার মহারাজগণ এবং ইন্দোরের লালদীন দয়ালও সোসাইটির সদস্য ছিলেন।

ঢাকায় ১৯১০ সালে আর.সি দাস অ্যান্ড সন্স নামে প্রথম ফটোগ্রাফিক স্টুডিও প্রতিষ্ঠিত হয়। স্টুডিওটি নবাবপুর রোডে অবস্থিত ছিল। স্টুডিওতে ক্যামেরা, ফিল্ম, প্লেট, কাগজ ইত্যাদির মতো ছবি তোলার সামগ্রী বিক্রয় এবং ছবি বাঁধাইয়ের কাজ করা হতো। ইস্ট পাকিস্তান ফটোগ্রাফিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫০ সালে, যদিও এটি পরিচালনাগত দুর্বলতার কারণে বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

একটি নতুন সংস্থহা হিসেবে ১৯৭৫ সালে ঢাকায় বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি গঠন করা হয়। স্বাধীনতা উত্তরকালে আনোয়ার হোসেন এবং শামছুল ইসলাম আলমাজী তাঁদের নৈপুণ্যমন্ডিত কাজের মাধ্যমে ঢাকার ফটোগ্রাফিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করেন। এ পর্যন্ত ফটোগ্রাফিক কাজের ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ ঢাকা ৩০০টির মতো আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে।  [শারমিন নাজ]