ফকিরহাট উপজেলা


ফকিরহাট উপজেলা (বাগেরহাট জেলা)  আয়তন: ১৬০.৬৮ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২২°৩৯´ থেকে ২২°৪৯´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°৩৪´ থেকে ৮৯°৪৭´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে রূপসা ও মোল্লাহাট উপজেলা, দক্ষিণে রামপাল উপজেলা, পূর্বে বাগেরহাট সদর ও চিতলমারী উপজেলা, পশ্চিমে বটিয়াঘাটা ও রূপসা উপজেলা।

জনসংখ্যা ১৩৪৪১৮; পুরুষ ৬৯৩২৭, মহিলা ৬৫০৯১। মুসলিম ৯৮৫৪২, হিন্দু ৩৫৭৯৭, বৌদ্ধ ৪৪ এবং অন্যান্য ৩৫।

জলাশয় প্রধান নদী: রূপসা, ভৈরব।

প্রশাসন ফকিরহাট থানা গঠিত হয় ১৮৬৯ সালের ৭ জুন এবং ১৯৮৩ সালের ১ আগস্ট থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়।

উপজেলা
পৌরসভা ইউনিয়ন মৌজা গ্রাম জনসংখ্যা ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
শহর গ্রাম শহর গ্রাম
- ৬৭ ৮৭ ২৭৫২০ ১০৬৮৯৮ ৮৩৭ ৬২.৪ ৫৭.৯
উপজেলা শহর
আয়তন (বর্গ কিমি) মৌজা লোকসংখ্যা ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
২২.৫১ ২৭৫২০ ১২২২ ৬৭.৮
ইউনিয়ন
ইউনিয়নের নাম ও জিও কোড আয়তন (একর) লোকসংখ্যা শিক্ষার হার (%)
পুরুষ মহিলা
নলধা মৌভোগ ৬৩ ৩৬৩৯ ৮৩৩৫ ৭৯০৪ ৫৩.৯৭
পিলজংগ ৭৩ ৫৭৪০ ৮৮৪৮ ৮৩৭৯ ৬০.৪০
ফকিরহাট ৩১ ৬২৭৯ ১২৬৮৭ ১১৭১৪ ৬৩.০৩
বাহিরদিয়া মানসা ১০ ৩৯২৩ ৭৩৬৫ ৭০০৩ ৬১.০১
বেতাগা ২১ ৪৫৫৬ ৬৫২০ ৬৩১০ ৬০.৫৯
মূলঘর ৫২ ৪৫০৩ ৮৬৫১ ৭৮২৮ ৫৭.৮৭
লখপুর ৪২ ৪৫৭৮ ৯৬৫৩ ৯১৮৭ ৫৫.৭৩
শুভদিয়া ৮৪ ৫৯৩০ ৭২৬৮ ৬৭৬৬ ৫৬.১১

সূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

FakirhatUpazila.jpg

প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ শিবমন্দির, খানজাহানিয়া মসজিদ, নওয়াপাড়ার ঘোষ জমিদার বাড়ি।

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি ১৯৭১ সালে শুভদিয়া ইউনিয়নের দেয়াপাড়া গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে রাজাকারদের অতর্কিত আক্রমণে উভয়পক্ষের বহুলোক হতাহত হয়। ৬ মে রাজাকাররা সিংগাতি ও বাহিরদিয়া বাজারের দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করে। ২৫ আগস্ট বাহিরদিয়া মানসা ইউনিয়নের মানসায় পাকবাহিনী ও রাজাকাররা ৯ জন নিরীহ লোককে নির্মমভাবে হত্যা করে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ ৩, স্মৃতি ভাস্কর্য ১।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ১৭৫, মন্দির ৬৭, তীর্থস্থান ১। উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: শুভদিয়া তাকিয়াবাটি জামে মসজিদ, লালচন্দ্রপুর খানজাহানিয়া মসজিদ।

শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৫৮.৮%; পুরুষ ৬২.৪%, মহিলা ৫৫%। কলেজ ৪, কারিগরি কলেজ ২, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩৫, প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭৯, মাদ্রাসা ২৫। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: কাজী আজহার আলী কলেজ (১৯৬২), শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ (১৯৯৩), শেখ হাসিনা কারিগরি কলেজ (১৯৯৮), মুলঘর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৫৭), বাহিরদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৯২), নলধা মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৮৯৫), কারামতিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা (১৯৫৭)।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান লাইব্রেরি ২, ক্লাব ২৫, সিনেমা হল ১, নাট্যদল ৫, মহিলা সংগঠন ৩০।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৫৩.৬৩%, অকৃষি শ্রমিক ৪.৪৯%, শিল্প ১%, ব্যবসা ১৮.৪৩%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ৪.৯৫%, চাকরি ৯.০২%, নির্মাণ ১.৪৬%, ধর্মীয় সেবা ০.২৫%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.২৭% এবং অন্যান্য ৬.৫০%।

কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৬২.৪৭%, ভূমিহীন ৩৭.৫৩%। শহরে ৪৯.৭৬% এবং গ্রামে ৬৫.৬৭% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে।

প্রধান কৃষি ফসল ধান, পাট, আলু, পান, শাকসবজি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি সরিষা, মিষ্টি আলু, ডাল।

প্রধান ফল-ফলাদি নারিকেল, আম, কাঁঠাল, সুপারি, কলা।

মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার মৎস্য ৮৭৭৯ (চিংড়ি ঘেরসহ), গবাদিপশু ৩৩, হাঁস-মুরগি ৪৭।

যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ২০২ কিমি, আধা-পাকারাস্তা ১৪ কিমি, কাঁচারাস্তা ৫১০ কিমি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন গরুর গাড়ি, পাল্কি।

শিল্প ও কলকারখানা অয়েলমিল, রাইসমিল, স’মিল, আইস ফ্যাক্টরি, ব্রিকফিল্ড, হিমায়িত চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র।

কুটিরশিল্প বুননশিল্প, মৃৎশিল্প, বাঁশের কাজ, বেতের কাজ।

হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ৯, মেলা ৬। ফকিরহাট, লখপুরহাট, বেতাগা বাজার এবং আট্টাকা বৈশাখী মেলা উল্লেখযোগ্য।

প্রধান রপ্তানিদ্রব্য  নারিকেল, সুপারি, পান, মাছ।

বিদ্যুৎ ব্যবহার এ উপজেলার সবক’টি ইউনিয়ন পল্লিললবিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। তবে ৩১.১০% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৯৪.৫৯%, পুকুর ১.৬৪%, ট্যাপ ০.৯৪% এবং অন্যান্য ২.৮৩%।

স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ উপজেলার ৪৪.৮৩% (গ্রামে ৫৬.৮০% এবং শহরে ৪১.৮২%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৪৭.৭৫% (গ্রামে ৩৭.৩৪% এবং শহরে ৫০.৩৬%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ৭.৪২% পরিবারের কোন ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ১, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ৮, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ১, কমিউনিটি ক্লিনিক ৭, ক্লিনিক ৬।

এনজিও আশা, ব্র্যাক, কেয়ার, প্রদীপন।  [পার্থদেব সাহা]

তথ্যসূত্র  আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো; ফকিরহাট উপজেলা সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭।