প্রাণিভুক উদ্ভিদ


প্রাণিভুক উদ্ভিদ (Carnivorous plant) পাতার মতো দেখতে রূপান্তরিত বিশেষ অঙ্গের সাহায্যে খাদ্যবস্ত্ত হিসেবে পতঙ্গ শিকারি যে কোন উদ্ভিদ। এগুলিকে মাংসাশী উদ্ভিদও বলা যায়। এ ধরনের গাছগাছড়ার অধিকাংশই সবুজ ও সালোকসংশ্লেষী। এদের জারক রসে বিদ্যমান অণুজীব ধৃত শিকারটির হজমিকারক হিসেবে কাজ করে। এসব উদ্ভিদের কোন কোন ফাঁদ শিকার চুষে নেয় (Utricularia, Genlisea, Aldrovanda), কেউবা অাঁকড়ে ধরে (Dionaea), অন্যরা আঠালো ফাঁদ কাজে লাগায় (Drosera, Pinguicula, Nepenthes), কোন কোনটির আছে চোরা কলস (Sarracenia, Cephalotus)। অধিকাংশেরই পছন্দ আর্দ্র থেকে আর্দ্র অম্লীয় মাটি। এদের শিকড় ততটা বিকশিত নয়। ডুবন্ত Utricularia, জলজ Daphina ও Cyclops জাতীয় প্রাণী (zooplankton) ফাঁদে ধরে। শিকার ফাঁদের দরজার সংবেদনশীল রোমগুলি ছোঁয়ামাত্র থলের দরজাটি তৎক্ষণাৎ ভিতরের দিকে খুলে যায় এবং শিকারসহ পানি সবেগে থলের মধ্যে ঢুকে পড়ে।

স্থলজ প্রাণিভুকদের থাকে শিকার ধরার জন্য গ্রন্থিময় রোম বা আঠাযুক্ত রূপান্তরিত পাতা। কোন মাছি বা পিঁপড়ে গ্রন্থির সংস্পর্শে এলে সংবেদনশীল পাতা ভিতরের দিকে বেঁকে শিকার অাঁকড়ে ধরে এবং ক্রমে পরিপাক করে ফেলে। বাংলাদেশে সচরাচর দৃষ্ট প্রাণিভুক উদ্ভিদ Utricularia-এর ৬টি প্রজাতি সর্বত্র স্বাদুপানিতে এবং জলাভূমিতে জন্মে। Drosera burmanii শীতকালে উঁচু এলাকার অম্লীয় মাটিতে প্রচুর জন্মায়। Picther plant (Nepenthes khashiana) উত্তর-পূর্ব এলাকার পাহাড়ি অঞ্চলে আছে। কতক জলজ পরিবেশে বিপন্ন প্রজাতি Aldrvanda vesiculosa-এর সন্ধান মিলেছে। [মোস্তফা কামাল পাশা]