পরিত্যক্ত সম্পত্তি


পরিত্যক্ত সম্পত্তি  স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে বাংলাদেশে অনেক সম্পত্তি পরিত্যক্ত বলে চিহ্নিত হয়। এগুলির মালিকরা মুক্তিযুদ্ধের সময় নিহত হয় কিংবা বাংলাদেশ ত্যাগ করে এবং অনেকের কোন ঠিকানা জানা যায় না। এসব সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, নিষ্পত্তির ব্যবস্থার জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ১৯৭২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরিত্যক্ত সম্পত্তি (নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও নিষ্পত্তি) আদেশ জারি করেন। এই আদেশের ২৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি ১৯৭২ সালের ৮ মে বাংলাদেশ পরিত্যক্ত সম্পত্তি (জমি, ভবন ও অন্যান্য সম্পত্তি) বিধিও জারি করেন। এই আদেশের ২নং ধারার দফা (১) ক. ২৫ মার্চ, ১৯৭১ সালের পর যেকোন সময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কিংবা সামরিক অভিযানে নিয়োজিত ছিল এমন কোন রাষ্ট্রের নাগরিকের সম্পত্তি; এবং খ. বাংলাদেশ শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা গ্রহণ আদেশের আওতায় ও নিয়ন্ত্রণে গৃহীত যেকোন সম্পত্তিসহ যে ব্যক্তি বাংলাদেশে উপস্থিত নেই কিংবা যার নিবাস-ঠিকানা ইত্যাদি অজ্ঞাত কিংবা যে ব্যক্তি আর তার সম্পত্তির দখলে নেই কিংবা তত্ত্বাবধানে নেই বা ব্যবস্থাপনাও করছে না এমন সকল সম্পত্তিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। তবে এই দফা অনুযায়ী, পরিত্যক্ত সম্পত্তি বলতে এমন কোন সম্পত্তিকে বোঝাবে না যে সম্পত্তির মালিক এমন কোন উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের বাইরে বাস করছেন যা সরকারের মতে বাংলাদেশের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর নয়, এবং যে সম্পত্তি আপাতত সাময়িককালের জন্য বলবৎ আইনের আওতায় সরকারের দখলে রয়েছে কিংবা সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন। ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ পরিত্যক্ত সম্পত্তি (জমি, ভবন বা অন্য কোন সম্পত্তি) বিধি অনুসারে পরিত্যক্ত সম্পত্তি বলতে, ক. এই আইনের আওতায় যেকোন প্রকারের নির্মিত কাঠামো ও জমিসহ ভবন (দালান/ইমারত) ও এসবের প্রয়োজনীয় সংলগ্ন অংশ; খ. কৃষিজমি, উদ্যান (বাগান জমি) ও অকৃষি জমিসহ জমি ও বছরের যেকোন একসময় জলমগ্ন জমি এবং এ ধরনের জমি থেকে উদ্ভূত সুবিধাদিসহ জমিকে বোঝায়।

একটি সম্পত্তির হেফাজত গ্রহণ, প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা এবং হস্তান্তর বা অন্য কোনভাবে নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে এই আদেশের আওতায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার তার বিবেচনায় আবশ্যক বা উপযুক্ত এমন সকল ব্যবস্থা নিতে পারেন, এমন সকল কাজ করতে পারেন ও ব্যয় বহন করতে পারেন যার প্রয়োজন রয়েছে বা যে ব্যয় ঐ সম্পত্তির আনুষঙ্গিক হিসাবে করা হতে পারে। সরকারকে প্রদত্ত আরও ক্ষমতা অনুযায়ী সরকার, ১. যেকোন এলাকা, বা এলাকাসমূহ, বা পরিত্যক্ত সম্পত্তি বা শ্রেণি বা একাধিক শ্রেণির পরিত্যক্ত সম্পত্তিসমূহের জন্য এক বা একাধিক বোর্ড গঠন করতে; ২. যেকোন পরিত্যক্ত সম্পত্তির জন্য একজন প্রশাসক নিয়োগ করতে; ৩. যেকোন পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে ব্যবসায় চালাতে; ৪. যেকোন পরিত্যক্ত সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট অর্থ আদায়ের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে; ৫. যেকোন পরিত্যক্ত সম্পত্তির বেলায় যেকোন চুক্তি বা দলিল সম্পাদন করতে; ৬. কোন পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে উদ্ভূত কিংবা কোন পরিত্যক্ত সম্পত্তির সম্পর্কিত কারণে দেনা, দাবি বা দায় সৃষ্টি হলে মামলা রুজু করতে, মামলার বিরুদ্ধে স্বপক্ষ সমর্থন করতে বা যেকোন মামলা বা আইনগত কার্যপ্রণালী চালিয়ে যেতে কিংবা বিরোধ সালিশিতে দিতে ও দেনা, দাবি বা দায় ইত্যাদি প্রশ্নে মীমাংসায় উপনীত হতে; ৭. পরিত্যক্ত সম্পত্তির সিকিউরিটি বা কোম্পানির কাগজ (securities) থেকে প্রয়োজনে ঋণ গ্রহণ করতে; ৮. পরিত্যক্ত সম্পত্তির জন্য সরকার বা যেকোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে কর, শুল্ক, উপকর ও রেট পরিশোধ করতে, এবং ৯. বিক্রয়, বন্ধক বা ইজারার মাধ্যমে এ ধরনের সম্পত্তি হন্তান্তর করতে কিংবা কোন সম্পত্তি কিংবা বর্তমান বা ভবিষ্যৎ পথাধিকার (easement) থেকে উদ্ভূত বা এসবের আনুষঙ্গিক স্বার্থ, মুনাফা বা অধিকার অন্যভাবে নিষ্পত্তি করতে ক্ষমতাবান। এই আদেশের আওতায় যেকোন পরিত্যক্ত সম্পত্তির হস্তান্তর বা এরকম সম্পত্তিতে পরিবর্তন সাধন বা দায়মূলক জটিলতা আরোপ নিষিদ্ধ এবং এই আদেশ লঙ্ঘনক্রমে হস্তান্তর, পরিবর্তন বা দায়জটিলতা আরোপ করার কাজকে আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ ও অচল ঘোষণা করা হয়েছে। কোথাও ব্যক্তির দখলে পরিত্যক্ত সম্পত্তি থাকলে ডেপুটি কমিশনার কিংবা মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট ঐ সম্পত্তির দখল গ্রহণের অধিকারী। কোথাও ব্যক্তির দখলে পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে থাকলে এই আদেশ শুরুর সাত দিনের মধ্যে ঐ ব্যক্তি ডেপুটি কমিশনারের কাছে ঐ সম্পত্তি সমর্পণ করবেন। কোথাও ব্যক্তির দখলে পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে থাকলেও এই আদেশের বিধানাবলির শর্তানুসারে সমর্পণের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাতে ব্যর্থ হলে, ডেপুটি কমিশনার ঐ সম্পত্তির দখল গ্রহণ করবেন। তবে যে ব্যক্তিকে নোটিশ জারি করা হয়েছে তিনি যদি নোটিশে বর্ণিত মেয়াদের মধ্যে ঐ পরিত্যক্ত সম্পত্তি সমর্পণের বিরুদ্ধে কারণ দর্শিয়ে থাকেন তাহলে ডেপুটি কমিশনার প্রয়োজনবোধে স্থানীয় পর্যায়ে তদন্ত অনুষ্ঠান ও উক্ত ব্যক্তিকে শুনানির সুযোগ প্রদানের পর যেমন উপযুক্ত বোধ করেন সেভাবে এ বিষয়ে তার আদেশ প্রদান করবেন। গৃহীত আবেদনগুলির নিষ্পত্তি না হওয়া অবধি সংশ্লিষ্ট পরিত্যক্ত সম্পত্তি একসঙ্গে অনধিক এক বছরের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে ইজারা দেওয়া যেতে পারে। এরপর, সরকারি কাজে না লাগালে সরকারি খাস জমি ও ভবনাদির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি ও আদেশ অনুযায়ী এ ধরনের জমির ব্যবস্থাপনা চলবে অথবা সরকারি স্বার্থে প্রকাশ্য নিলামে এ জমি সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে বিক্রয় করে দিতে হবে। পরিত্যক্ত সম্পত্তি কোন কোম্পানির শেয়ারের আকারে হয়ে থাকলে ঐ সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার বিধিগুলি নিম্নরূপ হবে:

১. কোন ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত সম্পত্তি বলতে কোম্পানির শেয়ার বোঝালে প্রথমত, সরকার ঐসব শেয়ারের নিবন্ধিত মালিক বলে গণ্য হবেন এবং ঐ কোম্পানির পরিমেলবন্ধ বা পরিমেল নিয়মাবলিতে বা চুক্তি বা দলিলে যা-ই থাকুক না কেন, যে ব্যক্তির শেয়ার সরকারে বর্তেছে অনুরূপ বর্তানোর ঠিক অব্যবহিত আগে তার ঐ (সব) শেয়ারে যে অধিকার ছিল সরকারেরও অতঃপর সেই একই অধিকার থাকবে। দ্বিতীয়ত, ঐ কোম্পানির অবশিষ্ট শেয়ারগুলির সব শেয়ার বা সেগুলির অংশবিশেষের মালিকানা, ইচ্ছে করলে, স্বীয় নির্ধারিত পন্থায় যে শর্তে উপযুক্ত বিবেচনা করেন সেই (সব) শর্তে গ্রহণ করার ক্ষমতা সরকারের থাকবে।

২. সরকার ঐ কোম্পানির মোট শেয়ারের ৫০ শতাংশের বেশি শেয়ারের মালিক হলে, সরকার লিখিত আদেশক্রমে ঐ কোম্পানির, ক. পরিচালক বোর্ড বিলুপ্ত করতে; খ. ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা অন্য যেকোন পরিচালককে অপসারণ করতে; গ. ব্যবস্থাপনা কমিটি, পরামর্শদাতা কমিটি বা অন্য কোন কমিটি বা বোর্ড বিলুপ্ত করতে; ঘ. মহাব্যবস্থাপক বা অন্য কোন ব্যবস্থাপককে অপসারণ করতে; ঙ. কোন ব্যবস্থাপনা এজেন্সি বাতিল করতে; চ. কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে অপসারণ করতে; ছ. বোর্ড বা কমিটি গঠন করতে কিংবা এ কোম্পানির প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার জন্য কোন ব্যক্তিকে নিযুক্ত করতে; এবং জ. প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত নির্দেশনা দিতে পারেন।

৩. সরকার দফা ২-এ উল্লিখিত কোম্পানির বেলায় সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দফায় প্রদত্ত এমন ব্যবস্থা নিতে পারবেন না, যা শেয়ারমালিকদের এক বিশেষ প্রস্তাব অনুমোদনের মাধ্যমেই কেবল নেওয়া যেত।

কোন সম্পত্তি সরকারে বর্তানোর ক্ষেত্রে এতদসংক্রান্ত দায়দেনার বিষয়ে ডেপুটি কমিশনার প্রয়োজনবোধে দাবিদারদেরকে শুনানির সুযোগ দান এবং দলিলপত্র ও রেকর্ডপত্র পরীক্ষার পর তদন্তাদি অনুষ্ঠান করতে পারেন।

সরকার যেকোন বরাদ্দ, ইজারা বাতিল বা ইজারা বা চুক্তি যার আওতায় কোন পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে স্থিতিবান, দখলকার কিংবা তার ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত, এমন সব বরাদ্দ, ইজারা বা চুক্তি দান বা সম্পাদনের কাজটি ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালের পর হয়ে থাকলে সংশোধন করায় ক্ষমতাবান।

এ আদেশের আওতায় কোন সম্পত্তি সরকারে বর্তে থাকলে ঐ সম্পত্তি আটক, মালক্রোক, উৎখাত, ক্রোকসহ সকল আইনগত প্রক্রিয়া বা আদালত বা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা কর্তৃক বিক্রয় করা থেকে অব্যাহতি লাভ করবে, এবং আদালত বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ এ ধরনের সম্পত্তির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বা অন্য আদেশ মঞ্জুর করতে বা প্রদান করতে পারবেন না এবং তৎকালীন সময়ে বলবৎ আইনের প্রয়োগের কারণে সরকারকে ঐ সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত বা বেদখল করা যাবে না।

সরকার পরিত্যক্ত সম্পত্তি বলে গণ্য করেন এমন কোন সম্পত্তিতে কোন ব্যক্তি অধিকার বা স্বত্ব দাবি করলে ঐ ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট আদেশ শুরুর তিন মাসের মধ্যে এই ভিত্তিতে ডেপুটি কমিশনারের কাছে আবেদন করতে পারেন যে, সম্পত্তি পরিত্যক্ত সম্পত্তি নয় কিংবা এই আদেশের বিধানাবলির কারণে ঐ সম্পত্তিতে তার স্বত্ব প্রভাবিত বা ক্ষুণ্ণ হয় নি। এমন আবেদন পাওয়ার পর, যে কর্তৃপক্ষ বরাবরে এই আবেদন করা হয় সেই কর্তৃপক্ষ ১৮৬৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধির আওতায় দেওয়ানি আদালতের যেসব ব্যবস্থা রয়েছে সেইভাবে এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত তদন্ত করবেন এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনার জন্য পেশ করা হলে সেগুলি গ্রহণ করার পর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কারণ প্রদর্শন করে উপযুক্ত বিবেচনায় যথাযথ শর্তাদি আরোপ করে আবেদনটি আংশিক বা সম্পূর্ণ প্রত্যাখান বা গ্রহণের আদেশ প্রদান করতে পারেন। প্রদত্ত আদেশে ক্ষুব্ধ কোন ব্যক্তি ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক এ ধরনের আদেশ প্রদানের এক মাসের মধ্যে বিভাগীয় কমিশনার সমীপে আপিল আবেদন রুজু করতে পারেন। সরকার যেকোন সময়ে নিজ উদ্যোগে বা কোন আবেদনক্রমে প্রদত্ত আদেশ যেকোন সময় সংশোধন করতে ক্ষমতাবান। কোন ব্যক্তি অনধিকারভাবে পরিত্যক্ত সম্পত্তির দখলে থেকে থাকলে তিনি সেই অনধিকার দখলের জন্য ডেপুটি কমিশনার যেভাবে নির্ধারিত পন্থায় মূল্যায়ন করেন সেভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে দায়বদ্ধ। কোন ব্যক্তি পরিত্যক্ত সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে থাকলে বা ঐ সম্পত্তির অংশবিশেষ কিংবা পুরো সম্পত্তির কোন নিষ্পত্তি সম্পন্ন করে ফেললে ডেপুটি কমিশনার যেভাবে নির্ধারিত পন্থায় মূল্যায়ন করেন সেভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে দায়বদ্ধ। সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত নির্দেশাবলি অনুসারে সরকারকে প্রতিটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির পৃথক হিসাব রাখতে ও হিসাবের খাতায় ঐ সম্পত্তি বাবদ সকল আয় প্রাপ্তি ও ব্যয় রেকর্ড করানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পরিত্যক্ত সম্পত্তিসমূহের এ ধরনের হিসাবপত্র বাংলাদেশের মহাহিসাবরক্ষক বা সরকার বিশেষ আদেশে নির্দেশ দিলে অন্য কোন প্রতিষ্ঠান বছরে কমপক্ষে একবার পরিদর্শন ও নিরীক্ষণ করবেন।

পরিত্যক্ত সম্পত্তির অনধিকার ব্যবহারের জন্য শাস্তির বিধানগুলি হলো:

অনুচ্ছেদ ১৭-র বিধানাবলি ক্ষুণ্ণ না করেও, কোন ব্যক্তি যদি পরিত্যক্ত সম্পত্তির আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিসাধন করে কিংবা নিষ্পত্তি করে ফেলে তাহলে উক্ত ব্যক্তি কারাদন্ডযোগ্য হবে ও এই দন্ডের মেয়াদ পাঁচ বছর পর্যন্ত হতে পারে, সেইসঙ্গে জরিমানা কিংবা কারাদন্ড ও জরিমানা উভয়ই হতে পারে। কোন ব্যক্তি অনুচ্ছেদ নং ৭-এর দফা (২) বা দফা (৩)-এর শর্তানুযায়ী বা অনুচ্ছেদ নং ১০-এর শর্তানুযায়ী পরিত্যক্ত সম্পত্তি সমর্পণে ব্যর্থ হলে সে কারাদন্ডযোগ্য হবে। কারাদন্ডের মেয়াদ পাঁচ বছর পর্যন্ত হতে পারে, তার সাথে জরিমানা করা হতে পারে, কিংবা কারাদন্ড ও জরিমানা দুইই হতে পারে।

ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার বিভাগ কর্তৃক ১৯৮২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ইস্যুকৃত এক স্মারকপত্রে বিভাগের কার্যকর নিয়ন্ত্রণাধীন অর্পিত/পরিত্যক্ত সম্পত্তিসমূহ নিষ্পত্তি করার বিশদ নীতি বিবৃত করা হয়েছে। এর কয়েকটি নীতিগত বিষয় হলো নিম্নরূপ: ক. সরকারি দপ্তর ও সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিবাস হিসেবে ব্যবহূত বাড়িঘর, যেগুলি ভালভাবে রক্ষণাবেক্ষণযোগ্য অবস্থায় রয়েছে সেগুলি রেখে দেওয়া হবে ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে হস্তান্তর করা হবে; খ. জীর্ণ ও কাঁচা বাড়িঘর  যেসবের প্রয়োজন সরকারের নেই, সেগুলি যাদের ইজারায় এখন রয়েছে তাদেরকে একটা প্রাক্কলিত মূল্যে দিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হবে, তাদের বা তাদের পোষ্যদের শহর এলাকায় বাড়ি বা জমির প্লট নেই এই শর্তসাপেক্ষে। অবশ্য যদি বর্তমান ইজারা গ্রহণকারীরা এই প্রস্তাবের সুযোগ গ্রহণে অসমর্থ, অনিচ্ছুক বা অযোগ্য হয়ে থাকে তাহলে অনুরূপ ক্ষেত্রে ঐ বাড়ি প্রকাশ্য ঘোষণার মাধ্যমে সীলমোহরকৃত টেন্ডারে ঐসব ব্যক্তির কাছে বিক্রয় করা হবে যাদের নিজেদের কিংবা তাদের পোষ্যদের নামে শহর এলাকায় বাসগৃহ নেই; গ. দেওয়ানি মামলায় জড়িত নয় কিংবা অন্য কোনভাবে বিরোধ নেই এমন পরিত্যক্ত অ-কৃষি জমি সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণে থেকে থাকলে তাতে প্রকৃত ভূমিহীন বা প্রায় ভূমিহীন চাষিদেরকে সরকারি খাসজমির বেলায় প্রযোজ্য বিধিবিধান ও আদেশ অনুযায়ী ভূ-বাসন দেওয়া যাবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের কার্যকর নিয়ন্ত্রণাধীন পরিত্যক্ত সম্পত্তি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ পরিত্যক্ত সম্পত্তি (নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও নিষ্পত্তি) আদেশ, (রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ১৬, ১৯৭২) ও ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ পরিত্যক্ত সম্পত্তি (জমি, ভবন ও অন্য যেকোন সম্পত্তি) বিধির বিধানাবলির আওতায় ব্যবস্থিত হয়ে থাকে। ১৯৮০ সালের ভূমি প্রশাসন বোর্ড আইনের আওতায় গঠিত ভূমি প্রশাসন বোর্ড বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে যে, ডেপুটি কমিশনারগণ এ বিষয়ে ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ১৬ ও তার আওতায় ১৯৭২ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত বিধিসমূহের বিধিবিধান কড়াকড়িভাবে অনুসরণ করবেন। [শামসু’দ দীন আহমদ]