পরমহংস, নিগমানন্দ


পরমহংস নিগমানন্দ

পরমহংস, নিগমানন্দ (১৮৮০-১৯৩৫)  হিন্দু সন্ন্যাসী। তিনি  কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম নলিনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়; সন্ন্যাসোত্তর তিনি স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী পরমহংস নামে পরিচিত হন। জ্ঞাতিসূত্রে নলিনীকান্ত ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভ্রাতুষ্পুত্র।

নলিনীকান্ত ঢাকা সার্ভে স্কুলের শেষ পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে দিনাজপুর ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডে ওভারসিয়ারের চাকরি নেন। কিন্তু পত্নী সুধাংশুবালার আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর মধ্যে বৈরাগ্যের উদয় হয় এবং তিনি বীরভূম তারাপীঠের মহাসাধক বামাক্ষ্যাপার নির্দেশে সংসার ত্যাগ করেন। যথাসময়ে পশ্চিম ভারতের পুষ্করতীর্থের নিকটবর্তী সাবিত্রী পাহাড়ে স্বামী সচ্চিদানন্দ সরস্বতীর নিকট সন্ন্যাস নিয়ে তিনি ‘নিগমানন্দ’ নাম গ্রহণ করেন।  তন্ত্র, জ্ঞান,  যোগ ও প্রেমের সাধনায় তিনি সিদ্ধ হন। তাঁর তন্ত্রগুরু ছিলেন বামাক্ষ্যাপা, জ্ঞানগুরু স্বামী সচ্চিদানন্দ পরমহংস, যোগগুরু সুমেরদাসজী এবং প্রেমগুরু গৌরী মা।

মানবজাতিকে আধ্যাত্মিকতার পথে উন্নীত করার জন্য নিগমানন্দ নানা গ্রন্থ রচনা করেন, যেমন: ব্রহ্মচর্যসাধন, তান্ত্রিকগুরু, জ্ঞানীগুরু, যোগীগুরু, প্রেমিকগুরু  ইত্যাদি। সনাতন ধর্মের মুখপত্র হিসেবে তিনি প্রকাশ করেন আর্য্যদর্পণ মাসিক পত্রিকা। তাঁর বড় কীর্তি আসামের কোকিলামুখে আসাম-বঙ্গীয় সারস্বত মঠ, ঢাকা মধ্য বাঙ্গালা সারস্বত আশ্রম, বগুড়া উত্তর বাঙ্গালা সারস্বত আশ্রম, ময়নামতী পূর্ব বাঙ্গালা সারস্বত আশ্রম, হালিসহর দক্ষিণ বাঙ্গালা সারস্বত আশ্রম এবং খড়কুনামা পশ্চিম বাঙ্গালা সারস্বত আশ্রম নামে অবিভক্ত বঙ্গের পাঁচটি বিভাগে পাঁচটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা। এছাড়া তিনি ঋষি-বিদ্যালয় ও একটি দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন, ভক্তসম্মিলনী প্রবর্তন এবং সব সম্প্রদায়কে ঐক্যসূত্রে বাঁধার জন্য জয়গুরু মহানাম প্রচার করেন।

শঙ্করের মত ও গৌরাঙ্গের পথ অর্থাৎ ভক্তিপথে অদ্বৈত ব্রহ্মজ্ঞান লাভ–এই হলো নিগমানন্দের ধর্মভাবনার মূল আদর্শ। ১৩৪২ বঙ্গাব্দের ১৩ অগ্রহায়ণ কলকাতায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং হালিসহর দক্ষিণ বাঙ্গালা সারস্বত আশ্রমে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। উক্ত আশ্রমটি এখন নিগমতীর্থে পরিণত হয়েছে।  [নন্দদুলাল বণিক]