নিষ্ক্রিয় মহীপ্রান্ত


Mukbil (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ১১:৩৫, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ পর্যন্ত সংস্করণে

(পরিবর্তন) ←পুর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ→ (পরিবর্তন)

নিষ্ক্রিয় মহীপ্রান্ত (Passive Continental Margin)  সমুদ্রতল প্রসারিত হওয়ার কারণে প্লেটের বিচ্যুতি ও পৃথকীকরণের স্থানে নিষ্ক্রিয় মহীপ্রান্ত বা প্যাসিভ কন্টিনেন্টাল মার্জিনের সৃষ্টি হয়। অন্যভাবে বলতে গেলে, মহাদেশীয় বিচ্যুতি ও ফাটলের দ্বারা মহী-সীমান্ত গঠিত হয়। বর্তমানকালের মহাসাগরীয় প্রান্তসমূহে সবচেয়ে প্রচলিত ধরনের মহীপ্রান্ত দৃষ্টিগোচর হয়। এগুলোকে আটলান্টিক মহাসাগরীয় ধরনের মহীপ্রান্ত বলেও মনে করা যায়। বাংলাদেশের মহীপ্রান্তকে সরাসরি নিষ্ক্রিয় (কেন্দ্রাপসী) বা কেন্দ্রাভিমুখ প্রান্তে শ্রেণিবিন্যাস করা দুরূহ। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফ উপকূলের পূর্বাঞ্চলীয় মহীপ্রান্ত, ভারতীয় প্লেট যেখানে মায়ানমার প্লেটের নিচে অবনমিত হয়েছে এবং বর্তমান কালের সন্ধিরেখার পশ্চিমে অন্তরীপ জাতীয় অববাহিকা গঠিত হয়েছে, সেখানে কেন্দ্রাভিমুখ মহীপ্রান্তের আচরণ করছে। এই প্লেটসমূহ ভূ-গাঠনিক দিক থেকে আজও বেশ সক্রিয়। পূর্বাঞ্চলীয় ভঙ্গিল ও স্খলিত বলয় প্রায়শই ভূমিকম্প কবলিত হয়। আরও দক্ষিণে, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপসমূহ বার্মা প্লেটের নিচে ভারতীয় প্লেটের অবনমন সহযোগে আইল্যান্ড আর্ক কমপ্লেক্স গঠন করেছে। ভারতের পূর্ব উপকূল ও বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলভাগের (সুন্দরবন, খুলনা, পটুয়াখালী) মহীপ্রান্তের আচরণ নিষ্ক্রিয় মহীপ্রান্তের অনুরূপ। মহীপ্রান্তের এই অংশ ভূ-গাঠনিক দিক থেকে কম সক্রিয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক উপকূল, বিশেষ করে মিসিসিপি বদ্বীপীয় উপকূলভাগের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলভাগ সক্রিয় বদ্বীপ গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চলেছে। বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলভাগের মহীসোপানে সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড নামে একটি সক্রিয় অন্তঃসাগরীয় গিরিখাত প্রসারিত হয়ে এসেছে। মহীসোপানের পলল এই অন্তঃসাগরীয় গিরিখাতের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরের গভীরে গিয়ে পড়ছে।  [মাহমুদ আলম]

মানচিত্রের জন্য দেখুন ভূ-গাঠনিক রূপরেখা