নারিকেল


নারিকেল গাছ ও ফল

নারিকেল (Coconut)  Palmae গোত্রের শাখা-প্রশাখাবিহীন লম্বা একবীজপত্রী বৃক্ষের (Cocos nucifera) ফল। নারিকেল গাছ বিশ্বের উষ্ণমন্ডলে বিস্তৃত; বিশেষ করে সমুদ্র উপকূলে নিচু জমি ও ক্ষুদ্র দ্বীপাঞ্চলে এ গাছ ভাল জন্মে। শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া এবং ভারতে এ গাছ প্রচুর জন্মে। গাছের উচ্চতা হয় ২০-৩০ মিটার, কান্ড মসৃণ ও বেলনাকার, উপরের দিকে ক্রমশ সরু। বাংলাদেশের সর্বত্রই নারিকেল গাছ জন্মে। তবে সমুদ্রতীরবর্তী লোনা মাটিতে এর উৎপাদন ভাল। বাংলাদেশে যেসব নারিকেলের চাষ করা হয় সেগুলি হচ্ছে টিপিকা সবুজ, টিপিকা বাদামি ও দুধে। জাতভেদে বছরে প্রতি গাছে ২০০ বা ততোধিক নারিকেল পাওয়া যায়। অর্থনৈতিক দিক থেকে নারিকেল গুরুত্বপূর্ণ ফল। সম্প্রতি এই অঞ্চলের কোন কোন শহরের পথতরু হিসেবেও নারিকেল রোপিত হচ্ছে। বাংলাদেশে নারিকেল চাষের জমি এবং উৎপন্ন নারিকেলের পরিমাণ যথাক্রমে প্রায় ৫,১৯২ হেক্টর ও ২,৭১,১৩৫ মে টন।

নারিকেলের শক্ত শাঁস দুধের মতো সাদা এবং বেশ সুস্বাদু। এর শাঁস বিভিন্ন প্রকার পিঠা তৈরিতে, মিষ্টি, বিস্কুট, চকোলেট ও বিবিধ রান্নায় ব্যবহার্য। শুকনো নারিকেলের শাঁস থেকে তৈরি উদ্ভিজ্জ তৈল মাথায় ব্যবহার ছাড়াও রান্নায়, সাবান, শ্যাম্পু এবং অন্যান্য প্রসাধন সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহূত হয়। তেল নিষ্কাশনের পর পরিত্যক্ত খৈল পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহূত হয়। নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে শক্ত দড়ি, ব্রাশ, জাজিম, পাপোশ তৈরি করা যায়। নারিকেলের খোল দিয়ে তৈরি হয় হুঁকো। কাঁচা ও শুকনো পাতা দিয়ে মাদুর ও ঝুড়ি তৈরি এবং কুঁড়েঘর ছাওয়া যায়। পাতার মধ্যশিরা দিয়ে ঝাঁটা তৈরি করা যায়। কচি নারিকেলকে ডাব বলা হয়; ডাবের পানি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। ডাব কোষকলাচাষের (tissue culture) অন্যতম মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহূত হয়। গাছের কান্ড দিয়ে ঘরের আড়া, পুলের খাম্বা, ঘরের খুঁটি ও বর্শার হাতল তৈরি করা হয়। বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে ফল ও অন্যান্য কাজের জন্য বসতবাড়ির গাছ হিসেবে ব্যাপকভাবে এ গাছ লাগানো হয়।  [মোস্তফা কামাল পাশা]