নলকূপ


চাপকল

নলকূপ (Tubewell)  কোন জলবাহী শিলাস্তর থেকে যন্ত্রের সাহায্যে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের একটি কৌশল। বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে এটিকে নলকূপ বলা হলেও, বিশ্বের অন্যত্র একে ‘বোরহোল’ (borehole) বলা হয়। প্রথমে মাটিতে ছিদ্র করে কূপ খনন করা হয় এবং ছিদ্রপথে পাইপ ঢুকানো হয়। পাইপটিতে একটি জল প্রবেশের পথ এবং একটি নির্গমন পথ থাকে। পাইপের সর্বনিম্ন অংশে একটি খাঁজকাটা পরদার মতো আবরণ দিয়ে মোড়ানো অংশ থাকে, যাকে ফিল্টার বলা হয়। নির্গমন অংশে রয়েছে একটি হাউজিং পাইপ, পাম্প ও নির্গমন মুখ।

ভূ-গর্ভস্থ পানি তোলার জন্য বাংলাদেশে কয়েক ধরনের নলকূপ ব্যবহার করা হয়। সবচেয়ে বেশি ব্যবহূতটির নাম চাপকল এবং সারা দেশে এ ধরনের নলকূপের সংখ্যা অন্তত ৫০ লক্ষ। পানি উত্তোলনের কাজে ৬ নম্বর পাম্প ব্যবহার করা হয় এবং এই পানি গৃহস্থালির কাজে ও পানের জন্য ব্যবহূত হয়। তারাপাম্প নামে আরেক ধরনের চাপকল আছে। যে সব অঞ্চলের পানি গভীর অন্তঃভূ-জলপৃষ্ঠে পাওয়া যায় সে সব স্থানে পানি তুলতে তারাপাম্প ব্যবহার করা হয়। এইসব কূপের ব্যাস সাধারণত ৩.৮১ থেকে ৬.৩৫ সেমি। শ্যালো টিউবওয়েল বা অগভীর নলকূপ প্রধানত সেচকার্যে ব্যবহূত হয়। ৫.০৮ থেকে ১০.১৬ সেমি ব্যাসবিশিষ্ট এই অগভীর নলকূপ দিয়ে পানি তুলতে একটি কেন্দ্রাতিগ বা সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প ব্যবহার করা হয়। বড় ব্যাসবিশিষ্ট অর্থাৎ ১৫.২৪-২০.৩২ সেমি ব্যাসের পাম্পকে গভীর নলকূপ বলে। চাপকল, তারাপাম্প ও অগভীর নলকূপে ব্যবহূত পাইপ প্রধানত পিভিসির তৈরি, যদিও কোন কোন ক্ষেত্রে জিআই পাইপও ব্যবহূত হয়।গভীর নলকূপ বসাতে সাধারণত স্টেইনলেস স্টিল বা ফাইবার গ্লাস স্ক্রিন এবং জিআই পাইপ ব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে পৌরসভার জল সরবরাহ কার্যক্রমেও গভীর নলকূপ ব্যবহার করা হয়। জল সরবরাহকারী গভীর নলকূপ সাধারণত দেড়শ মিটারেরও বেশি গভীর হয় যাতে পানি উত্তোলনের জন্য একটি ডুবন্ত টারবাইন পাম্প ব্যবহার করা হয়।  [কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ]